বুধবার রাষ্ট্রপুঞ্জে ভাষণ দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। অবধারিত ভাবে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছেন শরিফ। কিন্তু উরির সেনা ছাউনিতে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গে একটি শব্দও খরচ করেননি। সেনা অভিযানে নিহত হিজবুল কম্যান্ডার বুরহান ওয়ানিকে নওয়াজ বুধবার ফের ‘স্বাধীনতাকামী নেতা’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং ভারতের তরফ থেকে তৎক্ষনাৎ প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছিল। নওয়াজের ভাষণ শেষ হতেই ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ টুইটারে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। তখনই বোঝা গিয়েছিল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের প্রতিনিধি যখন ভাষণ দেবেন, তখন পাকিস্তানকে কঠোর সমালোচনা সহ্য করতে হবে। হলও তাই। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের দূত ইনাম গম্ভীব এ দিন বললেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দিতে, অর্থ জোগাতে এবং সাহায্য করতে পাকিস্তান কোটি কোটি ডলার খরচ করে এবং তার অনেক টাই হল বিদেশ থেকে পাওয়া অনুদানের টাকা। এই জঙ্গিদের পাকিস্তান ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে।’’ গম্ভীর এর পর কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘‘প্রাচীন যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কেন্দ্র তক্ষশীলার ভূমি আজ সন্ত্রাসবাদের বিশ্বখ্যাত শিক্ষা কেন্দ্র। সারা পৃথিবী থেকে সন্ত্রাসবাদের ছাত্ররা সে দিকে আকৃষ্ট হয়। আর সেই শিক্ষাকেন্দ্রের বিষাক্ত পাঠ্যক্রমের ফলটা গোটা পৃথিবীকে ভুগতে হয়।’’ রাষ্ট্রপুঞ্জ যে সব জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে, সেই সব সংগঠনের লোকজন কী ভাবে পাকিস্তানে খোলাখুলি নিজেদের কার্যকলাপ চালায় এবং সন্ত্রাস ছড়ানোর জন্য রাস্তায় নেমে অবাধে কী ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে, সে সব তথ্যও নিজের ভাষণে তুলে ধরেছেন ভারতীয় দূত।

পাকিস্তানকে এ দিন রাষ্ট্রপুঞ্জে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলেও উল্লেখ করেছে ভারত। কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত যে মন্তব্য নওয়াজ শরিফ নিজের ভাষণে করেছিলেন, তার জবাব দিয়ে ভারতীয় দূত বলেছেন, ‘‘মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন হল সন্ত্রাসবাদ। যখন তা রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন সেটা যুদ্ধাপরাধ।’’ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই এবং পরমাণু কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পাকিস্তানকে এ দিন ‘প্রতারক, ‘দু’মুখো’ এবং ‘মিথ্যাবাদী’ বলেও আখ্যা দিয়েছে ভারত।