• আজ বৃহস্পতিবার। ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। সকাল ৬:৫৫

গাছতলায় পাঠদান, নদীতে ডেবে গেছে বিদ্যালয় : হুমকির মুখে বিজিপি ক্যাম্প

⏱ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৬ 📁 দেশের খবর, রংপুর

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা প্রতিনিধি: গত দুই দিনে (মঙ্গলবার হতে বুধবার) হটাৎ পানি বাড়ায় নতুন করে বন্যায় তিস্তা নদীতে ডেবে গেছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি বিল্ডিং। ভাঙ্গনের কবলে চরম হুমকির মুখে চরখড়িবাড়ী বিজিপি ক্যাম্প। তবে বন্যার পানিতে বিদ্যালয় বিলিন হয়ে গেলেও পড়াশোনা থেমে নেই ডিমলা উপজেলার সাতটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীর।

scholl

গেল আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তিস্তা ব্যারেজের সিলট্রাপে খোলা আকাশের নিচে (গাছতলায়) চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। জুনের শেষ দিক থেকে আগষ্টের শেষ পর্যন্ত একমাসের বন্যায় পানি ও ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যায় উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি গ্রামের চরখড়িবাড়ি, জিঞ্জিরপাড়া, পুর্ব খড়িবাড়ি হায়দার পাড়া, পুর্বখড়িবাড়ি, চরখড়িবাড়ি বাবুপাড়া, চরখড়িবাড়ি মধ্যপাড়া এবং সোহরাব হোসেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় গুলোতে বন্যার সময় থেকে বন্ধ থাকে পাঠদান কার্যক্রম। বাধ্য হয়ে শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে অস্থায়ী ভিত্তিতে সিলট্রাপ, গাইড বাঁধ, গ্রোয়েন বাঁধ, স্পারসহ উঁচু স্থানে খোলা আকাশের নিচে চালানো হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

সিলট্রাপে আশ্রয় নেয়া টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের জিঞ্জিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ইসমাইল হোসেন জানান, আমাদের বাড়ি ঘর বানের পানিতে ডুবে গেছে। বই খাতাও নেই। স্যারেরা এখানে আমাদের ক্লাশ নিচ্ছেন। রোদ বৃষ্টির ভয়ে কোন ভাবেই ভালো মত পড়াশোনা করা যায় না এখানে। সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন সিলট্রাপে আশ্রয় নিয়েছে ১২শ পরিবার। সেখানকার শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে গাছ তলায় পাঠদান করানো হচ্ছে শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে। অভিভাবক শফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ি ঘর আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পাশের স্কুল ভেঙ্গে পানিতে ডুবে যাওয়ায় সেখানে পড়াশোনা বন্ধ। বাধ্য হয়ে সিলট্রাপে আশ্রয় নেয়া শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা। তবে বাচ্চাদের পড়াশোনায় মনোযোগ নেই বলে জানান তিনি।

জিঞ্জিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, সিলট্রাপে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা রয়েছে। তাদের সবাইকে দুই শিফটে আমরা পাঠদান করাচ্ছি। চারজন শিক্ষক এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে শিক্ষা উপকরণ অভাবে পাঠদানে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান তিনি। টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, বন্যার পানির তোড়ে দুই হাজার পরিবারের বসত ভিটা আবাদী জমি সহ সাতটি বিদ্যালয় বানের পানিতে রক্ষা পায়নি। ওই সব বিদ্যালয় পুরোপুরি পড়াশোনার অযোগ্য হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে উঁচু স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। তবে পাঠদান প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় ততদিন পর্যন্ত উচুঁ স্থানে পাঠদান প্রক্রিয়া চালানো হবে জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দিলিপ কুমার বণিক জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার বাহিরে রাখা যাবে না।

এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দফতরটি। গাছতলায় পাঠদান চললেও শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে টিফিন। বই খাতা সরবরাহসহ অস্থায়ী ভিত্তিতে গড়ে উঠা কেন্দ্রগুলোতে সার্বিক ভাবে সহায়তা করা হচ্ছে বলে জানান দিলিপ তিনি। তবে বাংলাদেশ-ভারত শুণ্য পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার। তিনি জানান, বাঁধটি নির্মিত হলে বন্যার প্রকোপে ভুগবেন না ওই এলাকার অন্তত দশ হাজার মানুষ। বাঁচবে আবাদী জমি, বসত ঘর আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সরকারী গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। এছাড়া গত ২ দিনে হটাৎ তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় চরখড়িবাড়ী মধ্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি বিল্ডিং তিস্তা নদীতে দেবে গেছে এবং ভাঙ্গনের কারনে চরম হুমকির মুখে পড়েছে চরখড়িবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পটি। ভাঙ্গনের কবলে পরে ক্যাম্পের চারিদিকের গাছপালা উপড়ে পানিতে ভেসে যাচ্ছে।