বুড়িগঙ্গার কালো দূষিত পানিতে ডলফিন ! বিশ্বাস করা কঠিন


❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬ দেশের খবর

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  এবারের বর্ষায় বুড়িগঙ্গায় থৈ থৈ পানি। নদীতে বর্জ্য, কচুরিপানা ভেসে বেড়ালেও পানি যথেষ্ট স্বচ্ছ ও নির্মল। তবে চাইলেই ডলফিন দেখা যায় না। এ জন্য নদীতীরে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। নদীতে সতর্ক চোখ রাখতে হয়। নিঃশ্বাস নিতে পানি থেকে লাফিয়ে ওঠে স্তন্যপায়ী প্রাণী ডলফিন। মুহূর্তের মধ্যেই আবার পানিতে তলিয়ে যায়। কয়েক মিনিট পর কয়েক মিটার দূরে আবার লাফিয়ে ওঠে, ডুবে যায়। বাঁশির মতো লম্বা ঠোঁট, ছাই বর্ণের পিঠ, সাদা বুক ও পেট। ভেজা শরীরে রোদের ঝিলিক। এক ঘণ্টা অপেক্ষায় চারটি ডলফিন দেখা সম্ভব হয়; কিন্তু ছবি তোলা সম্ভব নয়।

বুড়িগঙ্গা নামটি মনে হলেই কল্পনায় ভাসে পূতিগন্ধময় কালো দূষিত পানির এক নদীর কথা। এ নদীতেও ডলফিন বাস করে, তা বিশ্বাস করা কঠিন। গত মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, তাতে দেখা যায় বুড়িগঙ্গার পানি থেকে লাফিয়ে উঠছে একটি ডলফিন। ছবির সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ থেকেই ১০ সেপ্টেম্বর নদীর তীরবর্তী বছিলা ও ওয়াসপুরে যাওয়া। সরেজমিন ডলফিন দেখার পর বুড়িগঙ্গায় প্রাণীটির অস্তিত্ব সম্পর্কে আর সন্দেহ থাকল না।

burigonggai-dolfin

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে যে সড়কটি বেড়িবাঁধে উঠেছে, সে পথেই বছিলার শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতুতে যাওয়া যায়। নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের ওয়াসপুর। আধা শহর, আধা গ্রাম ধরনের জনপদ। সেতুর পাশে নদীর তীরে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কয়েকটি ইটের ভাটা গড়ে উঠেছে।

এবারের বর্ষায় বুড়িগঙ্গায় থৈ থৈ পানি। নদীতে বর্জ্য, কচুরিপানা ভেসে বেড়ালেও পানি যথেষ্ট স্বচ্ছ ও নির্মল। তবে চাইলেই ডলফিন দেখা যায় না। এ জন্য নদীতীরে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। নদীতে সতর্ক চোখ রাখতে হয়। নিঃশ্বাস নিতে পানি থেকে লাফিয়ে ওঠে স্তন্যপায়ী প্রাণী ডলফিন। মুহূর্তের মধ্যেই আবার পানিতে তলিয়ে যায়। কয়েক মিনিট পর কয়েক মিটার দূরে আবার লাফিয়ে ওঠে, ডুবে যায়। বাঁশির মতো লম্বা ঠোঁট, ছাই বর্ণের পিঠ, সাদা বুক ও পেট। ভেজা শরীরে রোদের ঝিলিক। এক ঘণ্টা অপেক্ষায় চারটি ডলফিন দেখা সম্ভব হয়; কিন্তু ছবি তোলা সম্ভব নয়।

কথা হয় নদীতীরের বালুর বলগেটের শ্রমিকদের সঙ্গে। তারা জানালেন, ডলফিন নয়, প্রাণীটি তাদের কাছে শুশুক বা শিশু মাছ নামে পরিচিত। শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নূরু মিয়ার বাড়ি ওয়াসপুরের নিকটবর্তী গ্রাম আটিতে। ৫৬ বছর বয়সী নুরু মিয়া জানালেন, ৩০-৪০ বছর আগে বুড়িগঙ্গায় সারা বছরই শুশুক দেখা যেত। এখন শুধু বর্ষার দুই মাস দেখা যায়।

বছিলার জেলেপাড়ার বাসিন্দা ইকবাল জানান, আর ক’দিন পর নদীর পানি কালো ময়লাযুক্ত হয়ে যাবে। তখন আর শুশুক থাকবে না। এ বছর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি সংখ্যক শুশুক দেখেছেন তিনি।

ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুশুক নামে পরিচিত প্রাণী আসলে মিঠা পানির ডলফিন। যার বই-পুস্তকের নাম গাঙ্গেয় ডলফিন (এধহমবং জরাবৎ উড়ষঢ়যরহ)। বৈজ্ঞানিক নাম চষধঃধহরংঃধ এধহমবঃরপধ। এ প্রজাতি ছাড়াও ইরাবতি নামের আরেক প্রজাতির ডলফিন রয়েছে বাংলাদেশে। তবে তা পুরোপুরি মিঠা পানির নয়। বছরের কিছু সময় সাগরে বাস করে। শুশুক নামে পরিচিত ডলফিন বাংলাদেশের প্রায় সব নদীতেই এক সময় দেখা যেত। এখন বিলুপ্তির পথে। তাই বুড়িগঙ্গার মতো দূষিত নদীতে ডলফিনের বিচরণ বিস্মিত হওয়ার মতোই বিষয়।

উইকিপিডিয়ায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাঙ্গেয় ডলফিন দৈর্ঘ্যে ২ দশমিক ১ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। ওজন হতে পারে ৭০ কেজি পর্যন্ত। নদীতে বাস করলেও ডলফিন কিন্তু মাছ নয়। স্তন্যপায়ী প্রাণী। আট মাস গর্ভ ধারণের পর গ্রীষ্মে একটি শাবক প্রসব করে। তবে শাবক স্তন চুষে দুধ পান করে না। তার মুখে নেমে আসে দুধের ধারা।