সংবাদ শিরোনাম

পণ্যবাহী ট্রাক-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১খালেদার জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই, হয়নি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তওপ্রধানমন্ত্রী কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কিছু করেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমির্জাপুরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনশনিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনাস্পুটনিক-৫ টিকা একে-৪৭’র মতো নির্ভরযোগ্য: পুতিনডোপটেস্টো রিপোর্ট: স্পিডবোটের চালক শাহ আলম মাদকাসক্তচাঁদপুরে ঐতিহাসিক বড় মসজিদে লক্ষাধিক মুসল্লির সালাতে ‘জুমাতুল বিদা’ রাঙামাটিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক! আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ : নারীসহ ৯জন আহত

  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ধ্বংস হচ্ছে শ্রীপুরের ভাওয়াল বন !

৪:৫৪ অপরাহ্ন | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর, স্পট লাইট

sd


মোশারফ হোসাইন তযু,শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

দিন যাচ্ছে , শেষ হচ্ছে বন ! নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতি, কিছুদিন আগেও যে খানে ছিলো চির সবুজে ঘেরা আচ্ছন্ন , সে খানে আজ মরুভুমি প্রায়। প্রভাবশালীদের ভয়াল থাবায় দখল হচ্ছে সরকারি ভাওয়াল বনভূমি। রাতারাতি গড়ে উঠছে নানা অবৈধ স্থাপনা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান, ভরে উঠছে প্রভাবশালীদের পকেট। কেউ কেউ আবার রাতের আঁধারে সীমানা প্রাচীর করে নিজের করে নিচ্ছে সরকারি বন।

দখলকৃত বনাঞ্চল মুক্ত করতে চাইলেও পেরে উঠছে না সংশ্লিষ্ট বনকর্মকর্তারা। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে ভাওয়াল বনের সৌন্দর্য ও সবুজ বৃক্ষরাজী। অন্যদিকে বিপন্ন হচ্ছে বন্যপ্রাণি। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় সরকারি বন খুঁজেই পাওয়া যাবে না। অনেকের ধারণা বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিমালিকানায় এসব বনভূমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। আর ভূমি দপ্তরের মাধ্যমে বনের জমি দখলদারদের নামে তা নথিভুক্ত করা হয়। মূলত দখলের প্রবণতাটা শুরু হয়েছে তখন থেকেই।

সম্প্রতি শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের রাথুয়া মৌজায় প্রায় ১’শ বিঘা বনের গাছ প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে এমন অভিযোগে গিয়ে দেখা মিললো তার সত্যতা । এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি এবং বনবিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মদদে দিনের পর দিন গাছ কেটে ভূমি দখল করার চেষ্টা চলছে। পুরো এলাকা যেন মূরুভূমি হয়ে গেছে! শ্রমিক দিয়ে গজারি গাছ কেটে, মাটি থেকে শিকড়-বাঁকর তুলে পুরো বন দখল করে নিচ্ছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালি চক্র । এলাকাবাসীর অভিযোগ ৩ কাটা করে প্রতিজনকে প্লট দেওয়ার কথা বলে ৫০/৮০ হাজার টাকা করে নেয় স্থানীয় বিসু মিয়ার পুত্র আতাউর, সাবেক মেম্বার শামছুর রহমান ও তার সহযোগীরা।

বনের গাছ বিক্রি করে এর আগেও বহু মামলাও হজম করে বসে আছে ওই বন দস্যুরা। কিছুদিন পূর্বেও মাওনা,রাথুয়া,বাঁশবাড়ী,ধনুয়ায় মৌজায় বন ভূমির পরিমান ছিল প্রায় ৪ হাজার একর। যার প্রায় ৮শ একর বেদখল হয়ে গেছে। অন্যদিকে শিরিশগুড়ি প্রায় ৫ বিঘা সরকারি বন দখল করে দোকানপাট বসিয়েছে মাওনা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো.রুসমত আলী। রুসমতের মোড় নামে বাজারের নাম করনও করেছেন ওই ইউপি সদস্য। জানা যায়, ওই ইউপি সদস্য’র বিরুদ্ধে বন বিভাগের প্রায় ৪০ টি মামলাও রয়েছে।

এ বিষয়ে শিমলাপাড়া বিট অফিসার মো.আশরাফুল আলমের কাছে জানতে চায়লে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়ে ওই ইউপি মেম্বারকে ঘর তৈরি করতে নিষেধ করেছি,কে শোনে কার কথা। উল্টো আরো আমাকে হুমকি দিয়ে বলছে এখানে চাকরী করতে হলে আমার কথা মানতে হবে না হলে! রুসমত আলীসহ আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে জবর দখলারদের মামলা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কয়দিন আগেও ফুলানিরসিট এলাকায় বন জঙ্গলে ভরপুর ছিল। দিনে রাতে বনের গাছ কায়টা সব শেষ দিছে। এলাকার কিছু দালালদের কারনে এমন হয়ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এছাড়াও শ্রীপুরের কেওয়া,ভাংনাহাটী,সাতখামাইর, বিট অঞ্চল সরেজমিনে ঘুরে পাওয়া গেছে, আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। শ্রীপুরে গত এক দশক আগেও বনভূমির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ হাজার একর। এ থেকে চার হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু বেদখল হয়ে গেছে আরও ৬ হাজার একর বনভূমি। জমির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দস্যুদের লোলুপ দৃষ্টি শুধু বনভূমির ওপর। স্থানীয়রা জানান, দখল করে নেওয়া এসব জমি কিছুদিন আগেও গজারি গাছে ভরপুর ছিল। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুই দশকে এ অঞ্চলে বনভূমির অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে বলে ধারণা অনেকের।

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.মোজাম্মেল হোসেন বলেন, রাথুয়া মৌজায় প্রায় ৫ হেক্টর জায়গায় রিকোভারি করে কাজ করা হচ্ছে। কোথাও কেউ বেআইনিভাবে গাছ কাটলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।