ভারত – পাকিস্তান সংবাদমাধ্যমগুলোর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা

❏ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   ভারতের ১৭ জওয়ান নিহতের পর থেকে পাকিস্তান-ভারত নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে । দুই দেশের নেতারা যেমন বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন তেমনি উভয় দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোও যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে ওঠেছে।

pak-in-media-war

উরিতে হামলার পর ভারত এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তানে হামলা চালাতে পারে, এমন জল্পনা চলছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে। এরকম আশংকা থেকে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ দেশটির উত্তরাঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।

কাশ্মিরের সেনা ঘাঁটিতে হামলার জন্য ভারত দায়ী করছে পাকিস্তানকে, আর পাকিস্তান পাল্টা অভিযোগ করছে কাশ্মিরে তীব্র সহিংস গণবিক্ষোভ থেকে দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করছে ভারত।

ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে একটা বড় অংশ গত কয়েকদিন ক্রমাগত বলছেন, পাকিস্তানকে একটা শিক্ষা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। আর তা ফলাও করে ভারতের প্রায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুসারে, ভারত যদি সীমিত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা হবে কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি। দু-তিনটি সম্ভাব্য টার্গেট হয়ত ভারতের থাকবে। কাশ্মিরে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি জায়গাগুলোতে কোনও জঙ্গি শিবির আছে কিনা সেটা ভারত খুঁজে ধ্বংস করতে চাইবে। এছাড়া লস্কর-ই-তইবা’র বেশ কিছু সদর দপ্তর হয়তো সম্ভাব্য টার্গেট হতে পারে। তবে এগুলোর সবগুলোই ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর জানাচ্ছে, ভারতীয় হামলা ঠেকাতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

পাকিস্তানে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে যে ভারতের সেনাবাহিনী পাকিস্তানের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ক্রমশই সরে আসছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল রাহিল শরিফের সঙ্গে আলাপ করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।  পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে এ নিয়ে বেশ সতর্ক অবস্থা অবলম্বন করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা পিআইএ’র একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সকাল থেকে গিলগিট, স্কার্দু ও চিত্রাল এলাকায় ‘বিমান পথ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ’।ভারত পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে পারে এমন আশংকায় এসব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদ ও পেশোয়ারের মধ্যকার মূল মহাসড়কের কিছু অংশও বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, সংস্কারের জন্য মহাসড়ক বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এই মহাসড়ক যুদ্ধবিমানের ওঠানামায় ব্যবহার করা সম্ভব।

শুক্রবার রাশিয়ার সেনাবাহিনীর একটি দল যৌথ মহড়ার জন্য পাকিস্তানে পৌঁছেছে। এতে করে চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ভারতকে সতর্ক করতেই এই মহড়া। বিপরীতে ভারতও শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছে, দেশটি ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩৬টি যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে। চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত।

১৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ভারি অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক কাশ্মিরের উরিতে লাইন অব কন্ট্রোলের কাছে সামরিক বাহিনীর একটি প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলায় চালায়। ওই হামলায় ১৭ সেনা সদস্য ও ৪ হামলাকারী নিহত হন।  এখন পর্যন্ত কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি। তবে হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদকেই সন্দেহ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে চলতি বছরের প্রথমদিকে পাঞ্জাবের পাঠানপকোটে ভারতের বিমানঘাঁটিতে হামলার জন্যও ওই সশস্ত্র সংগঠনটিকে দায়ী করেছিল ভারত। জঙ্গি এ সংগঠন পাকিস্তানের সৃষ্টি এবং পাকিস্তানে থেকেই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে বলে ভারত দাবি করে আসছে। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, আনন্দবাজার, নিউ ইয়র্ক টাইমস, জিও নিউজ, ডন, জি-নিউজ, বিবিসি বাংলা, টাইমস অব ইন্ডিয়া।