সংবাদ শিরোনাম

পণ্যবাহী ট্রাক-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১খালেদার জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই, হয়নি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তওপ্রধানমন্ত্রী কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কিছু করেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমির্জাপুরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনশনিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনাস্পুটনিক-৫ টিকা একে-৪৭’র মতো নির্ভরযোগ্য: পুতিনডোপটেস্টো রিপোর্ট: স্পিডবোটের চালক শাহ আলম মাদকাসক্তচাঁদপুরে ঐতিহাসিক বড় মসজিদে লক্ষাধিক মুসল্লির সালাতে ‘জুমাতুল বিদা’ রাঙামাটিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক! আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ : নারীসহ ৯জন আহত

  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় দুই সহোদর নিহত • পরিবারে শোকের মাতম

৯:২৪ অপরাহ্ন | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬ প্রবাসের কথা, স্পট লাইট

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে-

সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাবুল হাওলাদার ও শহিদুল হাওলাদারকে হারিয়ে তার পরিবারটি এখন নি:স্ব হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার দুই ভাই নিহত হওয়ায় ওই পরিবারটির সামনে এখন শুধুই অন্ধকার। ওই পরিবারে এখন আর উপার্জনক্ষম কেউ নেই। বাবুল ও শহিদুলের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ও প্রতিবন্ধী ভাই আগামী দিনগুলির কথা ভেবে কেবলই হাঁউমাঁউ করে কাঁদছে। মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর পরিবারটির কান্নায় ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ছয় গ্রামসহ আশেপাশের এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আর্তনাদে এলাকার হাজার হাজার লোক ওই বাড়িতে এসে তাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেনা। নিহত বাবুলের ৪ বছরের মেয়ে হিমি এবং নিহত শহিদুলের  ৮ বছরের মেয়ে অথৈ ও ৪ বছরের আতিয়ার জানেনা তাদের বাবা চলে গেছে না ফেরার দেশে। আর কোনদিন তাদের কাছে আসবেনা। তারা মাকে প্রশ্ন করে মা কাঁদো কেন?

agailjhara-photo-23-09-16-1সরেজমিনে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ছয়গ্রামে গিয়ে দেখা যায়- নিহত বাবুল ও তার ছোটভাই শহিদুলের বাবা মা ও নিহতদের স্ত্রী ও স্বজনেরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। নিহতদের পিতা আ. হাকিম হাওলাদার জানান, ১০-১২ বছর আগে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে জায়গাজমি বিক্রি করে বাবুল ও শহিদুলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। বাবুল স্যানিটারী মিস্ত্রী ও তার ছোটভাই শহিদুল টাইল্স মিস্ত্রীর কাজ করতো। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে সড়ক দূর্ঘটনায় বাবুল (৪৭) ও শহিদুল (৩৬) নিহত হয়। দুপুরে তাদের মৃত্যু সংবাদ সহকর্মী মিন্টু মৃধা তাদের পরিবারকে ফোনে জানান। পুত্রহারা অসহায় পিতা আ. হাকিম হাওলাদার দু’ছেলেদের লাশ তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরে পেতে পারেন সেজন্য সরকারের কাছে দাবি করেছেন। বৃদ্ধা মা নুরজাহান আর্তনাদ করে জানান, বাবুল ও শহিদুলকে কে আমার আমার বুকে এনে দেবে? কে চালাবে তাদের সংসার? কিভাবে চলবে তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া? নিহত শহিদুলের স্ত্রী সালমা বেগম জানান, মৃত্যুর আগের দিন ফোনে আমার সাথে তার শেষ কথা হয়। তখন তিনি বলেন আমার আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাড়িতে টাকা পাঠাতে দেরি হবে। ৮ বছরের মেয়ে অথৈ ও ৪ বছরে আতিয়ার দিকে খেয়াল রেখো। নিহত বাবুলের স্ত্রী শিরিন বেগম জানান, আমার নাবালক ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো? আমার সংসার কে চালাবে এবং বৃদ্ধা শ্বশুর-শাশুড়ীকে কে দেখবে? নিহত বাবুলের ছেলে ৯ম শ্রেণীর ছাত্র শাকিব হাওলাদার আর্তনাদ করে বলে- মৃত্যুর আগে বাবার কাছে একটি মোবাইল ফোন দাবি করলে তিনি বলেন- ভালভাবে লেখাপড়া করলে এবং মায়ের কথা শুনলে আমাকে ভাল একটি মোবাইল ফোন কিনে দেবেন বলেছিলেন।

নিহত বাবুল ও শহিদুলের ছোটভাই প্রতিবন্ধী নান্নু হাওলাদার কান্নাজড়িত কন্ঠে বিলাপ করে বলেন, ভাইয়েরা আমাকে চিকিৎসাসহ আর্থিক সহযোগিতা করতো। তাদের মৃত্যুতে এখন আমি এখন কাদের উপর নির্ভর করবো? আমাকে কে দেখবে এবং আমি কিভাবে বাঁচবো। নিহত বাবুলের ৪ বছরের মেয়ে হিমি জানেনা তার বাবা চলে গেছে না ফেরার দেশে। হিমি পিতার ছবি নিয়ে অপেক্ষায় আছে তার বাবা তার কাছে কবে আসবে।