আমতলীর হাটবাজার পলিথিনে সয়লাব

◷ ৩:০১ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল
polithin

এম এ সাইদ খোকন, বরগুনা প্রতিনিধি: পলিথিন ব্যাগ আবারও ফিরে এসেছে বাজারে। আমতলী উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ছেয়ে গেছে এ নিষিদ্ধ পলিথিন। ফুটপাত থেকে কাঁচাবাজার হোটেল-রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত পলিথিন ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবেশবিদদের প্রবল আপত্তির মুখে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলে প্রবলভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার। এখানকার বাজারগুলোতে মাছ, তরকারি থেকে শুরু করে কাপড়-জুতাসহ নানা কাজ চলছে এই পলিথিন ব্যাগে।

polithin

১৯৮২ইং সাল থেকে বাণিজ্যিক ভাবে বাংলাদেশে পলিথিন ব্যবহার হয়ে আসছিল। ২০০২ইং সালের ৮ এপ্রিল তৎকালীন সরকার পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, ব্যবহার ও পরিবহন নিষিদ্ধ করে। নিষিদ্ধ ঘোষণার পর এর বিরুদ্ধে অভিযান এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের কারণে পলিথিন উৎপাদন এবং ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবেশ বাঁচাতে সে সময় এ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু ২০০৭ইং সালে তৎকালীন সরকার ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর উপযুক্ত তদারকি এবং বিকল্প পরিবেশ সম্মত ব্যাগের অভাবের কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ব্যাগ আস্তে আস্তে বাজারে ফিরে আসতে শুরু করে।

বর্তমানে পলিথিন বিরোধী অভিযানে আইনের কোন প্রয়োগ না থাকায় আমতলী উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার পলিথিনে সয়লাব হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমতলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুল আলম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টেংরাগিরি ইকো-ট্যুরিজমের রাস্তার বেহাল দশা

বরগুনার তালতলী উপজেলার উপকুলীয় সংরক্ষিত টেংরাগিরি বনাঞ্চলে ইকো-ট্যুরিজমের ভিতরের ৩ কিলোমিটার সড়ক বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। নিশানবাড়িয়া ও নিদ্রা-ছকিনা জুড়ে নৈসর্গিক প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য। বনবিভাগের চরম অযত্ন আর অবহেলায় টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ইকো-ট্যুরিজম প্রায় ধংসের দ্বার প্রান্তে পৌছেছে।

পটুয়াখালী বন উপ-বিভাগীয় সুত্র জানা গেছে, ১৩ হাজার ৬৩৪ একর জমির উপর উপকুলীয় সংরক্ষিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপরুপ লীলাভুমি বনাঞ্চল রয়েছে সোনাকাটা টেংরাগিরি সংরক্ষিত ইকো-ট্যুরিজম। এখানে শত শত পর্যটকদের ভীড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে এ বনাঞ্চল। বছরের কার্তিক মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত প্রতি নিয়ত বসছে পিকনিকের উৎসব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেকে ভ্রমন ও পিকনিক করতে আসছে শত শত পর্যটক। বনাঞ্চলের ভিতর ৩ কিলোমিটার ইটের ছলিং দিয়ে তৈরী সড়ক পথের মাঝে মাঝে রয়েছ ৯টি ক্যানল (খাল)।

অভিযোগ রয়েছে ২০১২-১৩ইং সালে আমতলী উপজেলা পরিষদ ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সোনাকাটা টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ইকো-ট্যুরিজমের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ নিম্নমানের হয়েছে। রাস্তার কাজ এতোই নিম্নমানের হয়েছে যা  বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই রাস্ত প্রায় বিলিন হয়ে গেছে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ইকো-ট্যুরিজমের ভিতর পর্যটকদের ঘুরে দেখার জন্য ৩ কিলোমিটার সড়ক ব্যবহারের খুবই অনুপোযোগী। অতি সত্তর এ সড়ক পুনঃ নির্মান করা না হলে ইকো-ট্যুরিজম হয়ে যাবে পর্যটক শুন্য। আর সরকার হারাবে কোটি টাকার রাজস্ব।

পটুয়াখালী বিভাগীয় ফরেষ্ট অফিসার অজিত কুমার রুদ্র বলেন, রাস্তা নির্মানের জন্য চলতি বছর রাজস্ব খাতে কোন বরাদ্ধ নেই। তবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে ও ক্রল প্রকল্পর টেংরাগিরি সহ-ব্যবস্থাপনা সংগঠনের মাধ্যমে সামনের শুকনো মৌসুমে সড়ক সংস্কার কাজ সম্পন করা হবে।

তালতলীতে গৃহবধু মোর্শেদা হত্যা রহস্য উদঘাটন হয়নি

বরগুনার তালতলী উপজেলার বড়আমখোলা গ্রামের মোস্তফা গাজীর ১ম স্ত্রী ১ সন্তানের জননী গৃহবধু মোর্শেদা আকতার (২৫) কে গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে গলাটিপে শ্বাস রোধ করে হত্যার এক পর্যায় গায়ের ওড়না ঘরের পিছনের বারান্দার আড়ার সাথে পেঁচিয়ে আত্মহত্যার নামে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মোর্শ্বেদার বাবা বাদী হয়ে ঐ দিনই তালতলী থানায় হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করলে গৃহবধুর স্বামী মোস্তফা গাজী ও শ্বশুর মোতাহার গাজীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। হত্যার রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে রিমান্ড চাইলে তাদের ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মনিরুজ্জামান জানান, হত্যার তেমন কোন রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে পিএম রিপোর্ট পাওয়া গেলে গৃহবধু হত্যা না আত্মহত্যা তার রহস্য উদঘাটন হবে। তবে এলাকায় এ আত্মহত্যা নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা চলছে।