ট্যাম্পাকো দুর্ঘটনায় নিহত এক শ্রমিকের কঙ্কাল উদ্ধার : নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৬ জনে

⏱ | শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৬ 📁 ঢাকা, দেশের খবর

রেজাউল সরকার (আঁধার), গাজীপুর প্রতিনিধি: জেলার টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরীর ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় বিষ্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পর ধ্বংসাবশেষ থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের যৌথ ‘ফায়ার ফাইটিং এন্ড রেস্কিউ অপারেশন’ চালিয়ে আজ শনিবার দুপুরে অজ্ঞাত এক শ্রমিকের দেহাবশেষ (কঙ্কাল আকৃতির মরদেহ) উদ্ধার করা হয়েছে।

tapsof

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এনিয়ে ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৬ জনে। তবে অজ্ঞাত মরদেহটি নিখোঁজ ১১ জনের কারো কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

টাম্পাকো দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ১১ জন হলেন – জয়নুল আবেদিন (৩৮), অপারেটর রেদোয়ান আহম্মেদ (৩৭), স্কুটিং অপারেটর মোঃ অনিসুর রহমান (৩০), সহকারি অপারেটর মোঃ জহিরুল ইসলাম (৩৮), অপারেটর রিয়াজ হোসেন মুরাদ (২২), অপারেটর আজিম উদ্দিন (৩৫), নাসির উদ্দিন (৩৫), মাসুম আহমেদ (৩০), রফিকুল ইসলামের (৩০), ক্লিনার মোঃ মামুন (২৮) ও চুন্নু মোল্লার (২২)। অপরদিকে দুর্ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম আলম।

তিনি জানান, টঙ্গী বিসিক এলাকায় টাম্পাকো ফয়েল কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সেনাবাহিনী ও দমকল বাহিনীর উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ ও রহস্য উদঘাটনে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, শ্রম মন্ত্রণালয় ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আলাদাভাবে চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ তদন্ত কমিটি গুলোর মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হওয়ায় তদন্তের জন্য আরো সাতদিন সময় বাড়ানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, প্রশানের তদন্ত রিপোর্টে আরো অভিজ্ঞ লোক নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বড় ধরনের কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। সে লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুই এক দিনের মধ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন হবে।

প্রসঙ্গত, টঙ্গীর বিসিক নগরীতে বিএনপির সাবেক সাংসদ মকবুল হোসেনের মালিকানাধীন ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে ভয়াবহ বিষ্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওই কারখানার বিশাল ভবনের অধিকাংশই ধ্বসে পড়ে বিশাল ধ্বংস স্তুপে পরিনত হয়। কারখানায় ভয়াবহ বিষ্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং ভেঙে পড়া কাঠামোর নিচে চাপা পড়ে এ পর্যন্ত ৩৬ জন মারা গেছে, ৪০ জন আহত এবং নিখোঁজ রয়েছে ১১ জন। নিহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকাস্থ মালিবাগে সিআইডি ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে ডিএনএ টেষ্টের জন্য ইতোমধ্যে নিখোঁজ ১১ জনের মধ্যে ৯ জনের দুই জন করে মোট ১৮ স্বজনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকী দুইজনের স্বজনদের নমুনা আগামীকাল রবিবার সংগ্রহ করার কথা রয়েছে। চিফ ডিএনএ এনালিস্ট আহম্মদ ফেরদৌস নমুনা গ্রহণ করেন। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পেতে সময় লাগবে অন্তত ৩ মাস। নিখোঁজদের সন্ধানে গত ১২ সেপ্টেম্বর হতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের সদস্যরা।

এদিকে কারখানায় বিষ্ফোরণ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কারখানার মালিক বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনকে প্রধান আসামী করে টঙ্গী মডেল থানায় এ পর্যন্ত দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর কারখানা মালিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করেন নিহত শ্রমিক জুয়েলের পিতা আব্দুল কাদের। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাতে টঙ্গী মডেল থানার এস আই অজয় কুমার বাদী হয়ে কারখানা মালিকসহ ১০ জনকে আসামী করে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন। দুটি মামলা দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।