সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জানুয়ারিতে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন

◷ ৬:০২ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল
sasb marin

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পর্যটন উপজেলা কলাপাড়ার লতাচাপলীর আমখোলা পাড়ায় দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। ল্যান্ডিং স্টেশন, সংযোগ লাইন স্থাপন, ফাংশনাল বিল্ডিংসহ প্রায় সব অবকাঠামোর কাজ শেষ করেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।

sasb-marin

২০১৭ইং সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আরো ১ হাজার ৪০০ জিবিপিএস (গিগা বিটস পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জন করবে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটি এমন প্রত্যাশা কতৃপক্ষের।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় ১০ একর জমিতে ল্যান্ডিং স্টেশনটি গড়ে উঠছে। বাংলাদেশকে দক্ষিনপূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ওয়েস্টার্ন ইউরোপের সাথে সংযুক্ত করতে সাগরের নিচ দিয়ে ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত ২৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্থাপন করা হয়েছে। ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটিতে সরকার ১৬৬ কোটি ও বিএসসিসিএল ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। প্রকল্পের বাকি প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দিয়েছে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)।

সমুদ্র থেকে কেবল সংযোগের কাজ প্রায় শেষ করেছে বিএসসিসিএল। ইউরোপ থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে আসা সঞ্চালন লাইন সংযুক্তির জন্য ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে। প্রস্তত হয়েছে ফাংশনাল বিল্ডিংয়ের মূল স্থাপনা, ডরমিটরি, নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যারাক, রেস্ট হাউজ ও ড্রেনেজসহ অবকাঠামোগত অনুষঙ্গ। বর্তমানে ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন ও স্টাফ কোয়ার্টারের কাজ চলছে। প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ সংযোগের জন্য স্থাপিত নিজস্ব ইলেকট্রিক্যাল পোস্টের কাজ। চলতি বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর জানুয়ারিতে ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ এর সংযোগ স্থাপন করবে বিএসসিসিএল।

বিএসসিসিএল সূত্র জানিয়েছে, ২০১৫ইং সালের শেষ দিকে কাজ শুরুর পর দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ল্যান্ডিং স্টেশনটির অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বিএসসিসিএল। এ ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে প্রথম সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন কক্সবাজারের জিলং পর্যন্ত যুক্ত করার ব্যাকবোন তৈরি করার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ কেবলের মালিক ১৬টি দেশ। সদস্য দেশগুলো হচ্ছে — সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তন, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও ফ্রান্স। এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ নামের নতুন কনসোর্টিয়ামটি গঠিত হয়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিয়ে। এ কনসোর্টিয়াম দিয়ে ২০ হাজার কিলোমিটার এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৪ কেবলের উন্নয়নকাজও শেষ হয়েছে।

এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৪ কনসোর্টিয়ামের আওতায় কক্সবাজারে প্রথম সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করছে বিএসসিসিএল। এর মাধ্যমে দেশের আইসিটি ও টেলিকম কোম্পানিগুলোর চাহিদার বড় অংশ পূরণ করছে কোম্পানিটি। একটি মাত্র সাবমেরিন কেবল দ্বারা ইন্টারনেট সরবরাহ করায় লাইন কেটে গেলে বর্তমানে বিএসসিসিএলের হাতে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। সাবমেরিন কেবল ওয়ানের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন এ সাবমেরিন কেবলটি চালু হলে এ সমস্যা থাকবে না। দেশীয় টেলিকম কোম্পানিগুলোকে বিদেশ থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনতে হবে না। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ব্যান্ডউইডথ রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ বড় অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাবে। বিএসসিসিএলের মুনাফাও বাড়বে।

বিএসসিসিএলের কোম্পানি সচিব আব্দুল সালাম জানান, প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুয়াকাটায় দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী জানুয়ারিতে এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ কেবলের সঙ্গে সংযোগ চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। তখন কোম্পানির বর্তমান ব্যান্ডউইডথের সঙ্গে আরো প্রায় দেড় হাজার জিবিপিএস যুক্ত হবে।