🕓 সংবাদ শিরোনাম

ফ্রান্সের জাতীয় দলে ফিরছেন ”বেনজেমা”কর্ণফুলী থানার পাশেই ছুরিকাঘাতে যুবক খুন সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করায়  ‘মিডিয়া এডুকেটরস নেটওয়ার্ক’ এর প্রতিবাদসাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে আমিরাতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভাকক্সবাজারে বিপুল সিগারেটসহ ৩ যুবক আটকরোজিনার সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে, তাঁদের জেলে পাঠান: ডা. জাফরুল্লাহকেরানীগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে যুবতীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারপাটগ্রাম সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে নারী ও শিশুসহ ২৪জন আটকসাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সরকার গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে চায়: ভিপি নুরসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: হানিফ

  • আজ বুধবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৯ মে, ২০২১ ৷

তন্নী হত্যা মামলাঃ কিনারা লাগতে আর কত দিন ? 'আবেগী' মেয়েদের সচেতন থাকার আহবান


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ আলোচিত, স্পট লাইট

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ থেকেঃ

নবীগঞ্জে কলেজ ছাত্রী তন্নী রায় (১৮) এর লাশ উদ্ধারের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে কোন কিনারা খুঁজে পায়নি পুলিশ। প্রতিদিন নুতন নুতন ক্ল-খুঁজে ফেলেও প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হত্যার মূল নায়ক তন্নীর প্রেমিক রানু রায় লাপাত্তা। সবই চলছে ধারনার উপর। কিন্তু বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে রানু রায় স্বপরিবারে লাপাত্তা থাকায় গ্রেফতার করতে পারছেনা পুলিশ।

গতকাল শনিবার রানু রায়ের গ্রামের বাড়ি পুকড়া গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও পাওয়া যায়নি জড়িত সন্দেহভাজন কাউকে। এনিয়ে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। নিহত তন্নী ও সন্ধিগ্ধদের মোবাইল ফোনের কল লিষ্টের সূত্র ধরে অনেক জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু লাগছেনা কোন কিনারা। ঘরের তালা ভেঙ্গে পুলিশ প্রেমিক রানু রায়ের বাড়ি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধারেও প্রমান হয় রানু রায় তন্নী হত্যায় জড়িত। তবে এখানে প্রশ্ন উঠেছে হত্যাকারীরা হত্যায় ব্যবহৃত আলামত কি নিজ ঘরেই রাখবে...? এখানে ৩য় কোন লোকের হাত থাকাটা অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য রয়েছে। রানু রায়কে আটক করতে পারলেই মূল রহস্য বেড়িয়ে আসবে বলে দাবী সচেতন সমাজের।

সম্প্রতি সারা দেশেই উঠতি বয়সী ছেলে মেয়েদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক থেকে শারীরর সম্পর্ক এবং কোমল মতি মেয়েদেরকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বখাটে ছেলেদের ধর্ষণ। এমনকি প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ধর্ষণ অতঃপর খুনেরর ঘটনা আমাদের দেশে অহরহ হচ্ছে। প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকায় নারী নির্যাতন-অপহরন-খুন এবং ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। আলোচিত খবর পত্র-পত্রিকায় আসলেও যার অধিকাংশই পত্রিকার পাতার অন্তরালে; আড়ালে থেকে যায় টিভি ক্যামেরারও। পাশাপাশি সচরাচর-ই প্রেম-পরিণয়ের ক্ষেত্রেও ঘটছে প্রতারণা-নির্যাতনের ঘটনা। এসব দেখে কি মেয়েরা সর্তক থাকতে পারেনা। অভিবাবকরা কি তাদের মেয়েদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি দিতে পারেন না। আর এসব ঘটনার পর শুধু গ্রেপ্তার করেই ধর্ষককে জেলহাজতে প্রেরণ করলেই হবেনা। যাতে এরা আইনের কোন ফাঁকফোকর দিয়ে বের হতে না পারে সেদিকে প্রশাসনকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে বলে গুণীজনরা মনে করেন। তা না হলে অপরাধকারীরা পার ফেয়ে যাবে। আর সেই সাথে সচেতন হতে হবে ‘আবেগী’ মেয়েদেরও।

তন্নী হত্যা নিয়ে এদিকে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ দাবী করছে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারসহ রানুকে গ্রেফতারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল/সিম ট্রাকিং করা হয়েছে। রানুর ব্যবহৃত এলাটেল সিম সর্বশেষ চরগাঁও টাওয়ার নেটওয়ার্কের আওতায় ছিল। মোবাইল থেকে সিম খুলে পেলায় তার আর কোন হদিস মিলছেনা। তন্নীর সাথে রানুর ৩দিনে ৪শত বার কলের হিসাব মিলেছে। এছাড়াও অন্যান্য নাম্বারগুলোও যাচাই করা হচ্ছে।

বিভিন্নজনের মতে নিহত তন্নী রায়ের পিতা বিমল রায়ের আচরনেও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এর কারন বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, তন্নী রায় ও রানু রায়ের প্রেমের সম্পর্ক‘র ব্যাপারে অবগত ছিলেন উভয় পরিবার। লাশ উদ্ধাররের পর হত্যা মামলাও তিনি উল্লেখ করেছেন। নিখোঁজের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১:১৩ মিনিটে তন্নীর এয়ারটেল মোবাইল নাম্বারে প্রেমিক রানু রায় ফোন দিয়ে কথা বলে কয়েক মিনিট। এর পর ১:৫০ মিনিটে তন্নী বাসা থেকে বেড়িয়ে যায়, ধারনা করা যাচ্ছে প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিতে গেছে। যদিও বাসা বলে যায় ইউকে আইসিটি কোচিং করতে যাচ্ছে। সময় কয়েক ঘন্টা চলে যায়। ৫ টার পর তন্নীর পিতা বিমল রায় ইউকে আইসিটি কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায় তন্নী ক্লাসে উপস্থিত ছিল না, তা একাধীক সূত্রে নিশ্চিত। মেয়ের কোন সন্ধান নেই তখনও খোঁজ নেওয়া হয় প্রেমিক রানু রায়ের বাড়িতে। কিন্তু পাওয়া যায়নি। অতঃপর রাত ৯ টায় নবীগঞ্জ থানায় মেয়ে নিখোঁজের ব্যাপারে একটি সাধারন ডায়েরী করেন।

তদন্ত মোতাবেক পুলিশ ওই দিনই বিভিন্ন সুত্রধরে রানু রায়’কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয়, টিক এসময় বাধা প্রদান করে ডায়েরীতে স্বাক্ষারকারী নিখোঁজের পিতা বিমল রায়। এর কারণ হিসেবে তিনি মানসম্মানের দিক বিবেচনা করেন বলে সুত্রে জানাগেছে। মেয়ের নেই কোন খোঁজ কিন্তু মানসম্মান দিক বিবেচনা করার কি ধরকার ছিল, তখন সময়ই রানুকে আটক করলে ওই দিনই তন্নীর হসিদ মিলত বলে মনে করেন অনেকেই। তবে কেই বা জানতো ভালবাসার মূল্য দিতে গিয়ে কলেজ ছাত্রী তন্নী রায় এমন নির্মম বলির শিকার হতে হবে। স্থানীয় অনেক লোক জানিয়েছেন, শনিবারে তন্নী রায়কে জয়নগর রোড়ে রানুর বাড়ির দিকে যেতে দেখেছেন।

tonni

কললিষ্ট সুত্রে জানাযায়, কলেজ ছাত্রী তন্নী নিখোজের আগের দিন অথাৎ ১৬ই সেপ্টেম্বর রাতে রানু রায় তন্নীর সাথে প্রায় ৪৫ মিনিটেরও বেশী সময় কথা বলেন। সর্বশেষ তন্নীর মোবাইল নম্বারে প্রেমিক রানু রায় ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১.১৩ মিনিটে ফোন দিয়ে কথা বলে। যেহেতু কল লিষ্টে এমন তথ্য মিলেছে, তাই ওই সময়ের আলাপকৃত বয়েস (রেকর্ড) পর্যালোচনা করা প্রয়োজনের দাবী বিজ্ঞ মহলের।

এছাড়া তন্নীর ঘনিষ্ট বান্ধবী কান্তা রায়ে ভাষ্য মতে প্রেমিক রানু রায় তন্নীর অন্য কারো সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহ করে আসছিল। তন্নীর ঘনিষ্ট বন্ধবী কান্তার ভাষ্য ও তন্নীর একাধীক প্রেমের বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। একটি সূত্র জানায়, রানুর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে তন্নীর প্রেম চলছে। এ অবস্থায় আরো অনেক ছেলে তন্নীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে যদিও তন্নী এসব প্রস্তাব প্রত্যাখান করেনি। পেন্ডিং এ রেখে দেয় এসব প্রস্তাব। তন্নী হত্যার এটা একটা বিষয়।

অপর একটি সূত্র মতে ইনাতগঞ্জের এক ছেলের সাথে তন্নীর সর্ম্পকের কিছু অবিমত ছিল। যদিও এর সঠিক তথ্য মিলেনি। এছাড়াও শহরজুরে আরো একাধীক ছেলের নাম আলোচনায়। এসব প্রেমিকও হত্যার একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কেননা, রানুর সাথে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। কান্তার ভাষ্য মতে রানু তন্নীকে মোবাইল দিয়েছে। এতো দিনের প্রেম এবং তার দেওয়া মোবাইল দিয়ে অন্য ছেলের সাথে কথা বলবে বিষয়টি হয়তো স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেনি প্রেমিক রানু। ধারনা করা যাচ্ছে, এসব কারনেই রানু রায় তন্নী রায়কে ফোনে ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে ডেকে আনে যা কল লিষ্ট অনেকটা প্রমান করে। হয়তো একানে মতের অমিল কিনবা অন্য কোন কারণ।

অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন ৩য় কোন ব্যক্তির মাধ্যমে ঘাতকরা তন্নী রায়’কে শারীরিক পাশবিক নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য বরাক নদীতে ফেলে দেয়। এদিকে তন্নী রায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো তা একমাত্র ঘনিষ্ট বান্ধবী কান্তা রায় ব্যতিত তার পিতা-মাতা এমনকি ভাই জানতো না। তবে এর কোন সতত্য নেই। ঘরে মেয়ে কি করছে কোথায় যাচ্ছে এসব দেখার দায়ীত্ব কার..? মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ব্যবহার করে প্রেম করছে আর পরিবার এসব দেখে না, নাকি না দেখার ভান করে এড়িয়ে গেছেন। এমনওতো হতে পারে এখন পরিস্থিতির শিকার হয়ে এমন কথা বলছেন।

তন্নী হত্যা মামলার তদন্ত অগ্রগতি ও জড়িতদের গ্রেফতারে জোরালো ভূমিকা রাখার আহবান সচেতন মহলের। ইতিমধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে একাধীক সামাজিক সংঘঠন। এমনিক খুব শিঘ্রই এ মামলার কোন কিনারা না লাগলে জোরে শোরে আন্দোলনে মাঠে নামার হুশিয়ারী দিয়েছেন নবীগঞ্জের সচেতন সমাজ।

উল্লেখ্য, গত শনিবার বেলা দেড় টার দিকে তন্নী রায় ইউ.কে আই,সিটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেড় হয়ে আর ফিরেনি। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করার ৩ দিনের মাথায় উক্ত কলেজ ছাত্রী তন্নী রায়ের বস্তাবন্দি লাশ নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ৪ দিন অতিবাহিত হলেও কাউকে গ্রেফতারের কোন খবর পাওয়া যায় নি। তবে পুলিশের দাবী জড়িতদের গ্রেফতারের জোর তৎপরতা চলছে।