সংবাদ শিরোনাম

পণ্যবাহী ট্রাক-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১খালেদার জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই, হয়নি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তওপ্রধানমন্ত্রী কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কিছু করেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমির্জাপুরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনশনিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনাস্পুটনিক-৫ টিকা একে-৪৭’র মতো নির্ভরযোগ্য: পুতিনডোপটেস্টো রিপোর্ট: স্পিডবোটের চালক শাহ আলম মাদকাসক্তচাঁদপুরে ঐতিহাসিক বড় মসজিদে লক্ষাধিক মুসল্লির সালাতে ‘জুমাতুল বিদা’ রাঙামাটিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক! আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ : নারীসহ ৯জন আহত

  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘রাজনীতির যথেষ্ট সুযোগ আছে, এর মধ্যে কোনো সন্দেহ নাই’

১১:১৯ পূর্বাহ্ন | রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ Breaking News, ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা তো কারো কাছ থেকে কথা কেড়ে নিচ্ছি না। যার যা ইচ্ছা, বলেই যাচ্ছে। তারা মিটিং করছে, র‌্যালি করছে— সবই তারা করছে। রাজনীতির যথেষ্ট সুযোগ আছে, এর মধ্যে কোনো সন্দেহ নাই।’

ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিরোধী দলের রাজনীতির সুযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন অফিসে বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি নেওয়ার পর শুক্রবার তা প্রকাশ করা হয়।

ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য হুবহু প্রকাশ করা হলো-

রাজনীতির সুযোগ পাচ্ছে না— বিরোধী দলের এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা রাজনৈতিক দল যদি সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে, তার খেসারত তাকে দিতে হবে। আমরা নির্বাচন করেছি, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে আসেনি। কিন্তু তারা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার আমাদের জাতীয় দায়িত্ব ছিল। জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ ছিলাম আমরা। বঙ্গবন্ধু এ বিচার শুরু করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই বিচার বন্ধ করে সমস্ত অপরাধীকে মুক্ত করে দেয়। ১১ হাজার সাজাপ্রাপ্ত ছিল, ২২ হাজার মামলা হয়েছিল। কত দুর্ভাগ্য, যে বিরোধী দল এখন রাজনীতির জায়গা চায়, তারাই এসব যুদ্ধাপরাধীকে মন্ত্রী করেছিল। যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, মন্ত্রী বানিয়েছে যারা, তাদেরও বিচার হওয়া উচিত।’

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তার সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

pm-hasina

তিনি বলেন, ‘আমরা যে সময় সরকার গঠন করি, তখন বিশ্বব্যাপী চরম অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করছে। এই অবস্থার মধ্যেই আমরা প্রবৃদ্ধি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ছয় ভাগের ওপরে ধরে রেখেছি। এবার আমরা সাত ভাগে চলে এসেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার গঠনের পর গত সাড়ে সাত বছরে তার সরকার দেশে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নিয়ে এসেছে। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে প্রায় ৩০ প্রকারের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, তার সরকারের আমলে পাঁচ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছে। এখনো যারা হতদরিদ্র, তাদের অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০ টাকায় চাল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার সুবিধা পাচ্ছে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সক্ষম হয়েছি। অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছি। এটাই মূল শক্তি। আর অন্যান্য দেশের সঙ্গে যেসব আলোচনা হচ্ছে, তা টেকনিক্যাল সাপোর্ট, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ইত্যাদির জন্য। আমি মনে করি, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা যেমন তৎপর, তেমনি দেশবাসীও এখন সচেতন। তারাই খবর দিচ্ছে, তারাই প্রতিরোধ করছে।’

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে ১ জুলাই জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আমরা মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মি উদ্ধার করেছি এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছি।’