স্থগিত কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ না হওয়ায় কাউখালীর তিন ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ চরমে

◷ ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন ৷ রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল
porisod

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী প্রতিনিধি: পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নির্বাচন চুড়ান্ত না হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ। উপজেলার শিয়ালকাঠি, চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ও সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ৫টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহন স্থগিত রয়েছে। স্থগিত কেন্দ্রের নির্বাচন না হওয়ায় একমাত্র সচিবই হচ্ছেন সর্বোময় কর্তা।

porisod

কোন সিদ্ধান্ত দেওয়ার লোক না থাকায় একক ভাবে কাজ করতে হচ্ছে সচিবকে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে উন্নয়ন কার্যক্রম। ব্যহত হচ্ছে ভিজিএফ, ভিজিডি কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে এলজিএসপির কাজ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বিভিন্ন প্রকার সনদ প্রার্থীরা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় এলাকার মানুষ সকল প্রকার নাগরিক সেবা/সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিয়ালকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের ফলাফল ঘোষনা না হলেও চেয়ারম্যানের কক্ষে দিব্বি অফিস করছেন সাবেক চেযারম্যান মোঃ দেলোয়ার সিকদার। সনদপত্র দেওয়া, শালিশ মিমাংসা করাসহ সকল কার্যক্রম চালাচ্ছেন তিনি। এমন অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী সিদ্দিকুর রহমান।

শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী সিদ্দিকুর রহমানের লিখিত অভিযোগ পেয়ে শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার সিকদারকে চেয়ারম্যানের কক্ষেই অফিস করছেন। রয়েছে অফিস ভর্তি লোকজন। এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জোর গলায় বলেন যতক্ষন পর্যন্ত নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হবে ততক্ষন পর্যন্ত তিনিই চেয়ারম্যান। আর্থিক কাজ বাদে সব কাজ তিনি করতে পারবেন বলে দাবী করেন। এক প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন আমি সব আইন কানুন দেখেই কাজ করছি। কোন কাঁচা কাজ দেলোয়ার সিকদার করেনা। গাজী সিদ্দিকুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ভোটারদের মাঝে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে পরিষদে বসছেন তিনি। এখনো ক্ষমতা তার হাতে এটাই ভোটারদের বোঝানোর চেষ্টায় এহেন কাজ করছেন।

এছাড়া চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় অফিস ভর্তি লোকজন। সচিব তার চেয়ারে বসে একের পর এক কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকদের দেখে কাজ রেখে বিভিন্ন সমস্যার কথা বললেন সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান। তিনি বলেন একা মানুষ সব দিক সামাল দিতে হিমসীম খাচ্ছেন। চৌকিদার-দফাদারদের সহযোগীতায় কাজ করছেন বলে জানান। ভোটে এগিয়ে থাকা চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ মাহামুদ হোসেন খোকন বলেন সাধারন মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সব ধরনে উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকায় এলাকা বঞ্চিত হচ্ছে। ভিজিএফ, ভিজিডি বন্টনেও হচ্ছে মারাত্মক সমস্যা। যেসব ওয়ার্ডে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে তারাও কাজ করতে পারছেননা।

সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এগিয়ে থাকা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু বলেন, চুড়ান্ত নির্বাচন না হওয়ায় জনগনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। একটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানসহ ১৩ জন নির্বাচিত প্রতিনিধির পক্ষে সব কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে একজন সচিবের (সরকারী কর্মচারী) পক্ষে গোটা ইউনিয়নের মানুষের কাজ করা সম্ভব নয়। এর আগে দেখেছি কোন কেন্দ্রের ভোট গ্রহন স্থগতি থাকলে সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথে পুনঃ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। কেন যে এবারের নির্বাচন হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাবনী চাকমা বলেন শিয়ালকাঠি ইউনিয়নে-২টি, চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিযনে- ১ টি এবং সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে-২ টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহন স্থগিত রয়েছে। ফলে ওইসব ইউনিয়নে পরিষদ নেই। ফলে কাজের সমস্যা হচ্ছে। এজন্য লেখা লেখি চলছে যাতে করে দ্রুত পুনঃ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক চেয়ারম্যান অফিস করতে বা পরিষদ সংশ্লিষ্ট কোন কাজ করতে পারবে না। শিয়ালকাঠিতে দেলোয়ার সিকদারকে বারন করা হয়েছে।