ভারত ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার তৃতীয় ফ্যাক্টর চীন


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

%e0%a6%9a%e0%a7%80%e0%a6%a8আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ- যখন ক্ষোভে আর রাগে দু দেশের (ভারত-পাকিস্তান) মধ্যে চলছে টান টান উত্তেজনা এমনকি যেখানে দুদেশে (ভারত-পাকিস্তান)  রয়েছে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। ঠিক সে সময়ে চীনের উপস্থিতি যেন একটা বিশাল পাওয়া পাকিস্তানের জন্য। কাশ্মীরের উরি হামলার জের ধরে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার তৃতীয় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে চীন। ‘যেকেনো পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের অকৃত্রিম বন্ধু’ বলে পরিচিত বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহে রয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে চীনের ভূমিকা কী হবে- এই নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ। খবর টাইম ও ইন্ডিয়া টুডের।

সম্প্রতি পাকিস্তানে চীনের বিশাল অর্থনৈতিক প্রকল্প চালু হয়েছে। ৪৬০০ কোটি ডলার ব্যয়ে ‘চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’কে (সিপিইসি) ইসলামাবাদে বেইজিংয়ের ব্যাপক বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানে পারমাণবিক চুল্লি গঠনেও সহায়তা দিয়ে আসছে চীন। চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ এবং তা আজও বজায় রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করে পাকিস্তানের সঙ্গে যতই সম্পর্ক থাকুক ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে চীন হস্তক্ষেপ করবে না। তার বড় প্রমাণ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। সেসময় যুক্তরাষ্ট্র চীনকে যুদ্ধে হস্তক্ষেপে ফুঁসলালেও তাতে নিজেকে জড়ায়নি বেইজিং। মোটাদাগে চীনের পররাষ্ট্রনীতি এটাই যে অন্যের কারণে নিজেকে যুদ্ধে না জড়ানো।

‘আগ্রাসনে’ পাকিস্তানকে সমর্থন দেবে চীন : ‘বিদেশী আগ্রাসনের’ মুখে পাকিস্তানকে দৃঢ় সমর্থন দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে চীন। সীমান্তে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যখন টান টান সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন চীনের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এলো। এর পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশ করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

এশিয়ায় চীনই একমাত্র দেশ যেটি জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও সামরিক দিক দিয়ে ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে। চীন-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতার কারণে ভারতের ৪৮ শতাংশ জনগণ মনে করে ভারতের জন্য যুদ্ধে জড়ানো বিপজ্জনক। ২১ শতাংশ ভারতীয়র মতে, এটা তেমন বড় সমস্যা নয়। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে চীনের বৈরিতার প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি। এছাড়া চীনের প্রতিবেশী অন্য এশীয় রাষ্ট্রগুলোয় ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব।

কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করেন, চীনের অর্থনৈতিক করিডোরের ক্ষতির আশংকায় পাকিস্তানের পক্ষে এবার শক্ত ভূমিকা নিতে পারে চীনা সরকার।