• আজ শনিবার, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৫ মে, ২০২১ ৷

প্রতিমা তৈরিতে ব্যাস্ত এখন তাড়াশের পাল পাড়ার মৃৎ শিল্পীরা


❏ রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ প্রতিনিধি: সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে চলছে প্রতিমা তৈরি ও রং তুলির কাজ।  এ বছর আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পাল পল্লীতে সবাই ব্যস্ত এখন প্রতিমা তৈরির কাজে।

potima-toiri

এখন খড় আর কাঁদামাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ শেষ পর্যায়ে। অনেকেই আবার প্রতিমা তৈরি শেষ করে দিচ্ছেন রং তুলির আচঁড়। পুজার সময় ঘনিয়ে আসায় দম ফেলার সময় যেন নেই এই মৃৎ শিল্পীদের। আর কাজের চাপ বেশী থাকায় বাড়ীর পুরুষদের পাশাপাশি এ কাজে সহযোগীতা করছে নারীরাও। এ বছর তাড়াশ উপজেলায় আট ইউনিয়নের ৪০টি স্থানে পুজামন্ডপে শারদীয় দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

কালীবাড়ি গ্রামের মৃৎ শিল্পী শ্রী তরুন কান্ত জানান, এবার সে নতুন আঙ্গিকে ভিন্ন সাজের কিছু প্রতিমা তৈরি করেছে কিন্তু এই প্রতিমা গুলো তৈরিতে যে পরিশ্রম হয়েছে সেই অনুযায়ী পারিশ্রমিক সে পাচ্ছে না। তিনি আরো জানান ৩ মাস ধরে সে এই প্রতিমাগুলো তৈরি করছে। এখন পর্যন্ত তার কয়েকটি প্রতিমা জেলার বাইরে বিক্রি করা হয়েছে। তার তৈরি প্রতিমাগুলো সহজেই সবার নজর কাড়বে।

মৃৎ শিল্পী দিলীপ জানান, এবার সে মোট ২৭ টি প্রতিমার অর্ডার নিয়েছে এর মধ্যে ১৫/১৬ টি সম্পুর্ন হয়েছে এর মধ্যে কিছু কিছু প্রতিমার সাদা রং দেওয়া হয়েছে। বাকীগুলো অল্পদিনের মধ্যে শেষ হবে। বাড়ীর শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরা এমন কি নারীরাও তাকে সহযোগীতা করছে। প্রতিমা তৈরির উপকরন যেমন খড়, মাটি, রশি, বাঁশ, কাঠ, রং প্রতিটি উপকরনের মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু সে তুলনায় প্রতিমার মুল্য বৃদ্ধি পায় নাই ফলে তারা তাদের পরিশ্রমের কাঙ্খিত মুল্য পাচ্ছে না। তার পরে বংশ পরম পরায় এ কাজ ধরে রাখতে কাজ করছে তারা। সারা বছর মাটির নানান জিনিস তৈরি করলেও বছরের এ সময়টিতে তারা প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকে। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত পল্লীতে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিনি দর্শনার্থী আসে এই প্রতিমা গুলো দেখতে।

তাড়াশ উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার গোস্বামী জানান, তাড়াশ উপজেলাসহ অন্যান্য এলাকা থেকে তৈরিকৃত প্রতিমা নিয়ে আসা হয় আমাদের এ এলাকায়। বিশেষ করে জেলার খামারখন্দ, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর এলাকায় ছোট, বড় মাঝারি সব ধরনের বিগ্রহ বেশি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান। সেখানকার তৈরি প্রতিমার চাহিদা রয়েছে প্রচুর। এই প্রতিমা আশেপাশে জেলা গুলোতেও বিক্রয় করা হয়। এখানে দুর্গাদেবী সহ লক্ষী, স্বরসতী, কার্তিক ও গণেশ তৈরি করা হচ্ছে। মাটি দিয়ে শিল্পীর নিপুন ছোয়ায় দেবী প্রতিমাগুলো অনেক সুন্দর হয়েছে।

এ ব্যাপারে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম আমিনুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, তাড়াশ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নের ৪০টি পুজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি পুজা মন্ডপে নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া পুজা মন্ডপগুলোতে র্সাবক্ষনিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। যেন আইন শৃঙ্খলার কোন ধরনের অবনতি না হয়।