পাকিস্তানের মাটিতে রুশ সেনা : ‘ভারত-রাশিয়া’ সম্পর্কের পরিণতি অনিশ্চিত!

৯:৫২ পূর্বাহ্ন | সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক – রাশিয়া-পাকিস্তান প্রথম যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রেন্ডশিপ-২০১৬’তে অংশ নেয়ার জন্য রুশ সেনারা পাকিস্তানে অবস্থান নিয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ মহড়ার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কের উন্নতি ভাবিয়ে তুলেছে ভারতকে।

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, রাশিয়ার ভ­াদিভস্তকে আট বছর ধরে নিয়মিত যৌথ মহড়া দিয়ে আসছে রাশিয়া ও ভারতের সেনাবাহিনী। এর মধ্যেই দুই সপ্তাহের সামরিক মহড়ায় পাকিস্তান এসেছে রুশ বাহিনী। আবার আগামী কয়েক সপ্তহের মধ্যে ভারত সফরে আসবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য আলোচনা হবে তখন। তবে ইসলামাবাদের মাটিতে রুশ সেনাদের উপস্থিতির কারণে ‘ভারত-রাশিয়া’ সম্পর্কের পরিণতি কী হবে তা অনিশ্চিত।

ভারতীয় সূত্র জানায়, ‘রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের স্থিতাবস্থা ধরে রাখাটা এখন একটা চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশটিকে ইতিমধ্যে এ শংকার কথা জানানো হয়েছে। ভারত অথবা পাকিস্তানের মধ্য থেকে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বলা হয়েছে তাদের।’

rashiya-force

ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বৃদ্ধির কারণেই রাশিয়া এ উদ্যোগ নিয়েছে। এমনকি দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে সরাসরি চীনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে রাশিয়া। এখানে যৌথ সামরিক মহড়ায়ও চীনের সঙ্গে অংশ নেয় তারা। এখন চীনের মিত্র পাকিস্তানের প্রতি হৃদ্যতার হাত বাড়াচ্ছে রাশিয়া।

ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ভারতের ক্রমবধর্মান কৌশলগত সম্পর্কের কারণেই ‘ঐতিহাসিক’ বন্ধুত্বকে ভুলে নতুন সম্পর্কের দিকে ঝুঁকছে রুশরা। এ অঞ্চলে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে রাশিয়ার বন্ধনে ভবিষ্যতে ভারতের সমস্যায় পড়ায় আশংকা আছে বলে মনে করেন ভারতীয় কূটনীতিকরা।

তাদের দাবি, ভারতের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল রাশিয়া। দেশ দুটির মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা বিদ্যমান। এমনকি রাশিয়ার বাজারে ওষুধ বিক্রির জন্য অনেক অর্থ বিনিয়োগ করেছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি রাশিয়ার কাছ থেকে হীরা কিনছে ভারত। কয়েক দশক ধরে ক্রমেই বিশ্বস্ত হয়ে ওঠা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হঠাৎ করেই ধাক্কা খেয়েছে।