সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় ভিসা থেকেও কাজ না পেয়ে ৩৫,০০০ বাংলাদেশি শ্রমিক মানবেতর দিন কাটাচ্ছে

❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক – মালয়েশিয়ায়  চলতি বছর প্রফেশনাল ভিসায় (ডিপি-১০) পাড়ি জমানো ৩৫ হাজার শ্রমিকের মধ্যে অনেকে চুক্তি মোতাবেক নিজ নিজ কোম্পানিতে কাজ না পেয়ে  মানবেতর দিন কাটাচ্ছে ।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কর্মীর পাসপোর্ট দালালদের হাতে আটক থাকা ছাড়াও কোম্পানিতে কাজ না পাওয়া কর্মীর সংখ্যা বেশি বলে জানতে পেরেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তাই এসব শ্রমিকের কর্মক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে গতকাল রোববার জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর বহির্গমন শাখা থেকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনে ই-মেইল বার্তা পাঠানো হয়েছে।

probasi-sromik

ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে জমা পড়া বেশ কিছু প্রফেশনাল ভিসার কাগজপত্র সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। তাই এসব ভিসার বিপরীতে বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়ার আগে হাইকমিশন থেকে যাচাই-বাছাই হওয়া প্রয়োজন।
গতকাল জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (বহির্গমন) এ কে এম টিপু সুলতানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রফেশনাল ভিসায় বহির্গমন নিতে একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মোট ৭২টি ভিসার আবেদন জমা পড়েছে। এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে আমাদের কিছু কিছু ভিসায় সন্দেহ হয়েছে। তাই বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য আজকে (রোববার) মালয়েশিয়ায় আমাদের হাইকমিশনকে চিঠি দিয়েছি। সাথে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টও পাঠিয়েছি। যাচাই-বাছাই শেষে যদি কিয়ারেন্স আসে তাহলে আমরা এসব ভিসার বিপরীতে কর্মীর বহির্গমন ছাড়পত্র দেবে।
এজেন্সির জমা দেয়া কাগজপত্রে কী ধরনের সমস্যা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে প্রফেশনাল ভিসার স্টিকার কিন্তু জেনুইন। এতে কোনো সন্দেহ নেই। এর মধ্যে কোনো কোনো কোম্পানির ভিসা ঠিক থাকলেও কাজ নেই বলে মনে করছি। এ জন্যই আমরা আবেদন করা ৭২টি ভিসা যাচাইয়ের অনুরোধ করে হাইকমিশনকে চিঠি দিয়েছি। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চলতি বছর দেশ থেকে পাড়ি জমানো শ্রমিকেরা কেমন আছেন তারও সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য আমরা হাইকমিশনকে অনুরোধ করেছি। তবে সেখান থেকে প্রতিবেদন আসতে কতদিন লাগতে পারে তা তিনি জানাতে পারেননি।
গতকাল জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার একাধিক নেতা  নাম না জানিয়ে বলেন, প্রফেশনাল ভিসা হচ্ছে ডাক্তার, নার্স, প্রকৌশলসহ দক্ষ কর্মীর জন্য। কিন্তু এই দক্ষ শ্রমিকের নামে দেশ থেকে  বেশির ভাগ অদক্ষ শ্রমিক চলে যাচ্ছে। যার কারণে তারা সেখানে যাওয়ার পর ঝামেলায় পড়ছে। ভিসা সঠিক থাকায় তাদের ঘোরাফেরায় সমস্যা হচ্ছে না। তবে অনেক কোম্পানিতে তাদের কাজ জুটছে না। তারপরও দালালদের খপ্পরে পড়ে শ্রমিকেরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে এই ভিসাতেই মালয়েশিয়াতে যাচ্ছে। তাদের মতে, এই ভিসায় কর্মী যাওয়া বন্ধ না হলে কর্মীরা প্রতিনিয়ত বিপদে পড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
মালয়েশিয়া থেকে প্রফেশনাল ভিসায় (ডিপি-১০) যাওয়া শ্রমিক রাজু ও লিটন  ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১০ মাস আগে বাড্ডা নর্দার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আমরা দুইজনে এখানে আসি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দালাল আমাদের হাতে পাসপোর্ট দেয়নি। এখন ২২’শ রিংগিট দাবি করছে। না দিলে পাসপোর্ট দেবে না। তারা বলেন, পাসপোর্ট না থাকায় নানান সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া যে কোম্পানির নামে আমরা এসেছি সেখানে কাজ নেই। তাই জহুরবারুর একটি মার্কেটে লুকিয়ে কাজ করছি। পুলিশের হাতে ধরা পড়লে দেশে ফেরত যেতে হবে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে তারা বলেন, আমাদের সমস্যা নিয়ে হাইকমিশনে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, তোমরা এই ভিসায় কী কারণে মালয়েশিয়ায় আসছো? এরপর আর হাইকমিশনেও খোঁজ নিতে যাইনি।
গতকাল মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (শ্রমিম) সায়েদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রফেশনাল ভিসার নামে অদক্ষ কর্মীই বেশি গেছেন এমন অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএমইটির বহির্গমন শাখার পরিচালক এ কে এম টিপু সুলতান   বলেন, প্রফেশনাল ভিসায় সবই অদক্ষ কর্মী গেছে এমন ঢালাও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এখানে অনেক দক্ষ শ্রমিকও গেছেন। তারা এখানে ট্রেনিং নিয়ে গেছেন।
মালয়েশিয়ায় জি টু জি প্লাস সিস্টেমে শ্রমিক রফতানি শুরু হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সহসাই শ্রমবাজার খুলে যাবে বলে শুনছি। কিছু ডিমান্ড না-কি চলে এসেছে। তবে অফিসিয়ালি যদি বলি তবে এখনো শ্রমিবাজার খোলেনি। কারণ শ্রমিবাজার খুললে মালয়েশিয়া সরকারের দেয়া আমার এই কম্পিউটারেই সব তথ্য চলে আসত।
বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগষ্ট পর্যন্ত প্রফেশনাল ভিসা নিয়ে ৩৫ হাজার ২২৮ জন কর্মী মালয়েশিয়া গেছেন।