সংবাদ শিরোনাম

পণ্যবাহী ট্রাক-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১খালেদার জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি নেই, হয়নি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তওপ্রধানমন্ত্রী কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কিছু করেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমির্জাপুরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনশনিবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনাস্পুটনিক-৫ টিকা একে-৪৭’র মতো নির্ভরযোগ্য: পুতিনডোপটেস্টো রিপোর্ট: স্পিডবোটের চালক শাহ আলম মাদকাসক্তচাঁদপুরে ঐতিহাসিক বড় মসজিদে লক্ষাধিক মুসল্লির সালাতে ‘জুমাতুল বিদা’ রাঙামাটিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক! আনসার ব্যাটালিয়ান সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ : নারীসহ ৯জন আহত

  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘প্রতিশোধ নিতেই আমার জঙ্গিবাদে আসা’

১:০৭ অপরাহ্ন | সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার হয় জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান (২০)। গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তার (রিগ্যান) ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানির আগে আদালত চত্বরে সঙ্গে কথা হয় রিগ্যানের। এসময় জঙ্গি হওয়ার কাহিনীসহ নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় সে।

gulsan_25987_1474838374রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ‘পূর্ব পরিকল্পনা’ জানা ছিল তার। ওই হামলার ঘটনার মাস্টারমাইন্ড নিহত জঙ্গি তামিমসহ অনেকের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও জানায় রিগ্যান। ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযানে তামিম নিহত হয়।

রিগ্যান বলেন, ‘গুলশান হামলায় অংশ নেয়া দু’তিনজনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এছাড়া বাইরে থেকে যারা এ হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল। হামলায় অংশ নেয়া কয়েকজনকে আমি চিনতাম।’

রিগ্যান জানায়, ‘যারা বিশ্বের মুসলমানদের ওপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার করছে, তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতেই আমার এ পথে (জঙ্গিবাদে) আসা। যাই হোক, আমাদের উদ্দেশ্যও ভালো ছিল। কিন্তু পথ ভুল হয়েছে।’

সে গুলশান হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে বলে, ‘উদ্দেশ্য ওই রকম (নির্বিচারে নারী-শিশু হত্যা) ছিল না। নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য।’

রিগ্যান আরও জানায়, ‘সাব্বির নামের একজনের (জঙ্গি) হাত ধরেই এ পথে (জঙ্গিবাদ) আমার যাত্রা। সাব্বির আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিল। তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে আমি দুই বন্ধুকে নিয়ে এ পথে আসি। বর্তমানে তারা কে কোথায় আছে, তা আমি জানি না। সাব্বিরের আহ্বানে আমি ঢাকায় আসি।

ঢাকায় আমার ওস্তাদ ছিল আবদুল্লাহ নামের একজন (জঙ্গি)। তিনিই ছিলেন আমার লিডার। তার অর্ডারেই আমি চলতাম।’ আবদুল্লাহর উপরের লিডার কে ছিল জানতে চাইলে সে বলে, ‘এগুলো কোনো নতুন প্রশ্ন নয়। বহুবার আমি এসব বলেছি। ন্যূনতম শ’খানেক বার আমাকে এসব জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।’

আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ছিল, এ প্রশ্নের উত্তরে রিগ্যান জানায়, ‘আমি আসলে অত উচ্চপর্যায়ে ছিলাম না। তাই সব পরিকল্পনাই যে আমি জানতাম, তাও না। আমার উপরেও আরও অনেক লোক (জঙ্গি ওস্তাদ) আছে।’ তবে আদালত সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তি অনুসারে রিগ্যান ছিল জঙ্গিদের দ্বিতীয় সারির প্রশিক্ষক।

রিগ্যান জানায়, জঙ্গিবাদে যোগদানের পর রিগ্যানকে নাম পরিবর্তন করে ছদ্মনামে চলাফেরা করতে বলা হয়। সে নির্দেশনা অনুসারে তার নাম সে নিজেই রাখে। তার নতুন নাম হয় হাসান। পিতা-মাতার দেয়া নাম রিগ্যান।

আদালত সূত্র জানায়, রাজধানীর কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার হয় রিগ্যান। আদালতের নির্দেশে দু’দফায় ১৩ দিন রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা।

১৮ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় রিগ্যান। তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে গুলশান হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। ১৯ সেপ্টেম্বর রিগ্যানকে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

ওই দিনই গুলশান হামলা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসি ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির জঙ্গি রিগ্যানের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রোববার রিমান্ড শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বগুড়ার জামিলনগরের মৃত রেজাউল করিমের ছেলে রিগ্যান। তার মা রোকেয়া আক্তার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স। তার এক বোন আছে। রিগ্যান ২০১৩ সালে বগুড়া শহরের করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করে। এরপর ২০১৫ সালে সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে।

এরপর মেডিকেল কলেজ ভর্তির জন্য বগুড়ায় রেটিনা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়। গত বছরের ১৪ জুলাই কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হয় রিগ্যান। পরদিন তার খোঁজে পরিবারের পক্ষ থেকে বগুড়া সদর থানায় জিডি করা হয়। রিগ্যান গত এক বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।

২৬ জুলাই মধ্যরাতে রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের হামলায় ৯ জঙ্গি নিহত হয়। রিগ্যানই একমাত্র জঙ্গি যে অভিযানের সময় জীবিত অবস্থায় ধরা পড়েছে। সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় প্রথমবারের মতো স্বীকারোক্তি দিয়েছে এ জঙ্গি। ওই অভিযানে ইকবাল নামের আরেক জঙ্গি অস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে ১ জুলাই রাত ৯টার দিকে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে। ওই দিন রাতে উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী ও রেস্তোরাঁর এক কর্মী।

এ নিয়ে হামলার পর ২৮ জন নিহত হয়। জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে। সংগঠনটির মুখপাত্র আমাক হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স।

এ ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিকসহ নয়জন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে বিভিন্ন সময়ে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন।