🕓 সংবাদ শিরোনাম

খেলার আগে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন কুড়িগ্রামের ক্রিকেটারেরাপাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকেকর্মস্থলে ফিরতে গাদাগাদি করে রাজধানীমুখী লাখো মানুষশেরপুরে পৃথক ঘটনায় একদিনে ৭ জনের মৃত্যুএক বিয়ে করে দ্বিতীয় বিয়ের জন্যে বড়যাত্রীসহ খুলনা গেল যুবক!আমার মৃত্যুর জন্য রনি দায়ী! চিরকুট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যাইসরাইলীয় আগ্রাসনের  বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্বের নিন্দার নেতৃত্বে সৌদি আরবত্রিশালে সড়ক দূর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যুতে নিহতের বাড়ীতে চলছে শোকের মাতমকলাপাড়ায় এক সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধারটাঙ্গাইলে কৃষক শুকুর মাহমুদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার-১

  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

টাম্পাকো কারখানার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরো ২ মরদেহ উদ্ধার : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮


❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

রেজাউল সরকার (আঁধার), গাজীপুর প্রতিনিধি: টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানার ধ্বংসস্তূপ থেকে আজ সোমবার আরও দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ নিয়ে ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

karkhana

টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, উদ্ধার অভিযান চলাকালে আজ সোমবার বেলা ১১টার পর আরও দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ দুটি পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধসে যাওয়া ভবনের ইট, রডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম অন্যত্র সরানো হচ্ছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকার টাম্পাকো কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১১ জন নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধার করা মৃতদেহের মধ্যে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেছেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা।

শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদের ৩২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ

mpi

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজ সেবক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারী ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাতীয় বীর শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদের ৩২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী (মঙ্গলবার) ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ৩২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ২৭ তারিখ সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শহীদের কবরে শ্রদ্বাঞ্জলি প্রদান ও আলোচনা সভা, সকাল সাড়ে ১০টায় কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের অফিসে মিলাদ ও দোয়া, বেলা ১১ টায় কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে শহীদ ময়েজ উদ্দীন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান। দুপুর ১২টায় উপজেলার কালীগঞ্জ পৌর এলাকার দেওপাড়া গ্রামে শহীদ ময়েজউদ্দিন সেতু সংলগ্ন ফেরী ঘাটে দোয়া, মিলাদ ও দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরন। দুপুর ১টায় মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া শহীদ ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দোয়া ও মিলাদ। ২৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টা কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্মরণ সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদ ১৯৩০ সালে ১৭ মার্চ বর্তমান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়হরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছুরত আলী, মাতার নাম শহরবানু। তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপির পিতা।

১৯৮৪ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বৈরশাসক হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের পতন ও গণতন্ত্র প্র্রতিষ্ঠার জন্য সারাদেশে ২২ দল আহুত হরতালের আহ্বায়ক করে। জেলার কালীগঞ্জে এরশাদের পতন ও গণতন্ত্র প্র্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মিছিলে শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদ নেতৃত্ব দেন। ওই সময় কালীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের লেলিয়ে দেয়া কতিপয় সন্ত্রাসী তাঁর ওপর হামলা চালালে ঘটনাস্থালেই তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন।

তিনি ঐতিসাহিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা করার জন্য গঠিত ‘মুজিব তহবিলের’ আহ্বায়ক ছিলেন। একজন বিচক্ষণ আইনজীবী ও রাজনীতিক হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ওই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেন। ময়েজউদ্দিন আহমেদ উল্লেখযোগ্য সময় ধরে বৃহত্তর ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ এবং ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে গাজীপুর-কালীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা থেকে যথাক্রমে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন।

রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৭ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ রেডক্রস (বর্তমানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট) সোসাইটির নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। একাধারে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি)’র মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে ধাপে ধাপে গড়ে উঠা প্রবল গণআন্দোলনে অবশেষে সামরিক শাসক ও শাসনের পতন ঘটে। গণতন্ত্রের জয় হয়। শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদ একজন দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রজ্ঞাবান রাজনীতিক, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সাধারণ জনকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ মানুষ হিসেবে ইতিহাসে এবং মানুষের হৃদয়পটে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গৌরবময় ভূমিকা পালন করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সব্বোর্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাান “স্বাদীনতা পদক” এ ভূষিত করেন।