লৌহজংয়ের পদ্মার ভাঙ্গনে শেষ হয়ে যাচ্ছে খড়িয়া গ্রাম

২:৪৬ অপরাহ্ন | সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

মোঃ রুবেল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: বাজান বাব দাদার ভিটে মাটির শেষ সম্বলটুকুও হারাইলাম, ছবি তুইল্ল্যা কি অইবো। থাকার জায়গা নাই, টেকা নাই ঘড় ভাঙ্গুম কি দিয়া, এক দিকে নদীর উৎপাত, ভাঙ্গা কপাল নিয়া আইছি তাই ভাঙ্গনে আমগো ছাড়বো না – আমগো নিয়া লেইখ্যা আর কি অইবো, এতদিনে পদ্মা সব গিল্লা খাইবো। আক্ষেপ করে কথাগুলো বলে চলেছে বৃদ্ব সুফিয়া বেগম।

vangon

কুমারভোগ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড খড়িয়া গ্রামের মহিলা মেম্বার ছিলেন এক টানা ৯১ সাল থেকে ২০০৭ইং সাল পর্যন্ত। এখন বয়সের ভারে অনেকটা কাবু। প্রায় ৮০ ছুইছুই নিস্ব জীবন তার। এই শেষ প্রান্তে তার জীবনের হাল তাকেই ধরতে হয়েছে। এর আগে ও দুই বার ভাঙ্গনের কবলে পড়েছেন। সহায় সম্বল হীন বৃদ্ধা এখন ব্যাস্ত তার মাথা গোজার ঠাইটৃুকু নিয়ে। বেঁচে থাকার যুদ্ধ তার এখন নদীর সাথে। সুফিয়ার মত এমন ৩০টি পরিবার গত ৫ দিনে বসত ভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের অবিরাম বষর্নের ফলে প্রমত্তা পদ্মা রুদ্র মূর্তির আকার ধারন করেছে। নদী ভাঙ্গনে লৌহজংয়ের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে নদীর তীরবর্তী লৌহজংয়ের কুমারভোগ গ্রামের খড়িয়া, নয়াবাড়ি সহ ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম।

এর মধ্যে পুর্ব খড়িয়া, নয়াবাড়ির সহ নদীর তীড়বর্তী এলাকা। আর ভাঙ্গন আতংকে রয়েছে এসব এলাকার সহস্রাতাধিক পরিবার। নিঘুম রাত কাটাচ্ছে তারা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত দূর্যোগ পূর্ন আবহাওয়া উত্তাল ঢেউ আর প্রবল স্রোতের কারনে পদ্মার ভাঙ্গনে ৫ দিনে ৩ টি গ্রামে কয়েকটি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে মোঃ আজিজুল মজিবর, আবুল কাশেম, আব্দুস সুবাহান, আব্দুল হাকিম, নুরু হোসনের বাড়ি ও মাষ্টারের বাড়ি আরো অনেকের। এছাড়া ভাঙ্গনের কবলে পরে এ পর্যন্ত কোন রকম নিজেদের মালামাল নিয়ে ঘড় দুয়ার অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে কয়েকটি পরিবার। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে সবার ভিতরে আতংক বিরাজ করছে কখন গ্রাস করে রাক্ষসী পদ্মা।

আজ সোমবার গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা পারের খড়িয়া ও নয়াবাড়ি গ্রামের মানুষের দূর্ভোগ। কথা হয় খড়িয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা আবুল কাশেমের সাথে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, পদ্মা সেতু শীঘ্রই হবে শুনে আশায় বুক বেঁধে ছিলাম যে, মাওয়া থেকে মাএ এক কিলোমিটার দুরে এই কুমারভোগের খড়িয়া গ্রাম এখানে সেতু রক্ষা বাঁধ নির্মান করা হবে এরই সাথে রক্ষা করা হবে পদ্মার তীড়বর্তী গ্রামগুলো। রক্ষা পাবে কয়েক হাজার পরিবার, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাট বাজার, খেলার মাঠ, আশ্রয়ন প্রকল্প, ফসলি জমি, বাড়ি ঘড় গাছ পালা। তাই প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন অবিলম্বে পদ্মা সেতু নিমার্নের জন্য সেতু রক্ষা বাঁধের কাজটি সম্পূর্ন করা হউক। তবেই ভাঙ্গনের কবল থেকে কুমারভোগ ইউনিয়নের ৩টি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবারকে রক্ষা করা যেত।