🕓 সংবাদ শিরোনাম

ইসরাইলকে সমর্থন দিয়েছে বিশ্বের ২৫টির মতো দেশ!বাংলাদেশিদের ভালোবাসা দেখে বিস্মিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনের প্রতিযোগিতায় ট্রাক ও পিকআপখেলার আগে মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন কুড়িগ্রামের ক্রিকেটারেরাপাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকেকর্মস্থলে ফিরতে গাদাগাদি করে রাজধানীমুখী লাখো মানুষশেরপুরে পৃথক ঘটনায় একদিনে ৭ জনের মৃত্যুএক বিয়ে করে দ্বিতীয় বিয়ের জন্যে বড়যাত্রীসহ খুলনা গেল যুবক!আমার মৃত্যুর জন্য রনি দায়ী! চিরকুট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যাইসরাইলীয় আগ্রাসনের  বিরুদ্ধে ইসলামী বিশ্বের নিন্দার নেতৃত্বে সৌদি আরব

  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

ভারতে 'বাংলাদেশিসহ জেএমবির ৬ জঙ্গি' সদস্য গ্রেফতার


❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ Breaking News, ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক - নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ছয় সদস্যকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

আটক ছয়জনের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন শাখা) বিশাল গর্গ এই ছয় জঙ্গিকে আটকের কথা জানান।

এসটিএফ প্রধান বিশাল গর্গ জানিয়েছেন, ছয় জনের মধ্যে পাঁচজনের নাম ইতিমধ্যে খাগড়াগড় মামলার চার্জশিটে রেখেছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এএনআই)।

আটককৃতরা হলেন- বাংলাদেশের নাগরিক আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে এনাম ওরফে কালু ভাই, মাওলানা ইউসুফ ওরফে বক্কর ওরফে আবু খেতাব ও মো. রফিক ওরফে মো. রুবেল ওরফে পিচ্চি এবং ভারতের নাগরিক শহিদুল ওরফে সুরিয়া ওরফে শামীম, আব্দুল কালাম ওরফে কলিম ও জাহিদুল ওরফে জাফ্ফার ওরফে জাবিরুল।

লালবাজারে সাংবাদিক সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতদের সোমবার হাজির করে এসটিএফ। সংস্থাটির প্রধান জানান, দু’দিন আগে আসামের কাছাড় থেকে একটা জাল নোটের মামলায় কলকাতা এসটিএফ জাবিরুলকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। জাবিরুলকে লাগাতার জেরা করে জানা যায়, সে জেএমবির সঙ্গে যুক্ত। শুধু তাই নয়, তার কাছ থেকে বেশ কয়েকজন জেএমবি জঙ্গির খবর জানতে পারে এসটিএফ। সেই সূত্র ধরে রোববার নিউ কোচবিহার স্টেশন থেকে কালামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, কালাম বাংলাদেশ থেকে আসাম হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার চেষ্টায় ছিল। বাংলাদেশ থেকে তাকে কাছাড়ে সংগঠনের দায়িত্ব সামলাতে পাঠানো হয়েছিল।

jmb-india

ছবির ওপরে বাঁ থেকে - বাংলাদেশের নাগরিক আনোয়ার হোসেন ফারুক ওরফে এনাম ওরফে কালু ভাই, মাওলানা ইউসুফ ওরফে বক্কর ওরফে আবু খেতাব ও মো. রফিক ওরফে মো. রুবেল ওরফে পিচ্চি এবং নিচে বাঁ থেকে— ভারতের নাগরিক শহিদুল ওরফে সুরিয়া ওরফে শামীম, আব্দুল কালাম ওরফে কলিম ও জাহিদুল ওরফে জাফ্ফার ওরফে জাবিরুল।

এরপর উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-বাগদা রোডের উপর বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী একটি জায়গা থেকে ইনাম এবং রফিককে গ্রেফতার করা হয়। ইনাম পশ্চিমবঙ্গে জেএমবি ইউনিটের প্রধান। তার বাড়ি বাংলাদেশের জামালপুরে। রফিকের বাড়িও ওই একই জায়গায়। সে ইম্প্রোভাইজ্ড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরিতে পারদর্শী। বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে যাওয়া জেএমবি সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করে দিত রফিক।

এসটিএফ প্রধান জানিয়েছেন, এর পরে ওই জেলারই বসিরহাটের নতুন বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ইউসুফ এবং শাহিদুলকে। ইউসুফের বাড়ি বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটে। তার সন্ধান দিতে পারলে ১০ লাখ টাকা পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছিল এনআইএ। এসটিএফের দাবি, শাহিদুল উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রধান হিসেবে কাজ করত। এ দেশে বিভিন্ন নাশকতামূলক ছকের মূল পরিকল্পকও সে। তার বাড়ি আসামের বরপেটায়।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে প্রচুর বিস্ফোরক। সঙ্গে পাওয়া গেছে নাশকতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কাগজপত্র, বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন, প্রায় দু’কেজি সাদা বিস্ফোরক পাউডার, বিয়ারিং-বল, তার কাটা যায় এমন জিনিস এবং ব্যাটারি। রফিকের কাছে কেমিক্যাল কমপাউন্ডের একটি বই পাওয়া গিয়েছে। ইউসুফ ও ইনামের কাছে পাওয়া গিয়েছে বিস্ফোরক। ইনামের কাছে একটা সাংগঠনিক ছকও পাওয়া গিয়েছে। রফিকের কাছে বাংলাদেশি ট্রেড লাইসেন্সও মিলেছে। এসটিএফের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা প্রত্যেকেই খাগড়াগড়-কাণ্ডের পরে উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল।

জেরার মুখে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, তারা একটি বড়সড় নাশকতার ছক কষেছিল। তবে, সেই নাশকতা কলকাতায় ক়রার নাকি কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। দক্ষিণ বা উত্তর-পূর্ব ভারতের কোনও জায়গাকে তারা বেছে নিত বলে জানিয়েছে তারা।

এসটিএফ প্রধান জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতরা সাংকেতিক ভাযায় নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত। সেই ভাষার অর্থ খুঁজে বার করে ওদের ধরা হয়েছে।