• আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

ক্লাসের বাইরে যাওয়ার অপরাধে ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ


❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

এইচ এম মেহেদী হাসানাত, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি- গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অনুমতি না নিয়ে ক্লাসের বাইরে যাওয়ার অপরাধে শিক্ষক এক ছাত্রীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ যাওয়া গেছে। গত রোববার মুকসুদপুর উপজেলার ৯৮ নং দক্ষিন জলিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

gopalgonj_126982ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণির মেধাবি ছাত্রী পূজা বৈরাগীকে (১০) বেত দিয়ে পিটিয়ে প্রধান শিক্ষক নিবীদিতা রায় আহত করেছে বলে তার মা মিলী বৈরাগী অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সামান্য অপরাধে বেধরক পিটিয়ে আহত করেছে । ব্যাথায় হাত দিয়ে খাবার খেতে পারছে না । পিটুনির অাতংকে স্কুলে যেতে চাইছে না। সে এখন আতংকের মধ্যে দিন পার করছে ।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিক নিবিদীতা রায় পূজাকে পেটানোর কথা স্বীকার করে বলেন, পুজা না বলে ক্লাসের বাহিরে যাওয়ার অপরাধে তাকে দু’টি বাড়ি দিয়েছি। এটা আমার ভুল হয়েছে। আমি পুজার পরিবারের নিকট ক্ষমা চেয়েছি । এ ব্যাপারে আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে ।

শিক্ষার্থী পূজা বৈরাগী বলে, রবিবার সকাল ৯ টার দিকে স্কুলে যাই। ৯.৩০ মিনিটে ক্লাস শুরুর কিছু সময় পর আমার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। শ্রেণি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষিক নিবিদীতা রায়ের নিকট বাহিরে যেতে অনুমতি চাই । ওই সময় তিনি অন্য এক শিক্ষকের সাথে কথা বলছিলেন । আমার আবেদনে তিনি সাড়া দেন নি। এ সময় আমার বাথরুমের চাপ প্রবল আকার ধারণ করে। এ পর্যায়ে আমি বাথরুমে চলে যাই। বাথরুম সেরে ক্লাসে ফিরে এলে প্রধান শিক্ষক আমাকে অনুমতি না নিয়ে বাহিরে যাওয়ার অপরাধে লাঠি দিয়ে বেধরক পিটিয়ে আহত করে এ সময় লাঠির আঘাতে আমার শরীর ফেটে রক্ত বের হতে থাকে । এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসলে আমি সেখানে অজ্ঞান হয়ে যাই।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুকুমার বাকচী বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার আমরা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডেকেছি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে অমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এখানে ক্ষমা করার কোন সুযোগ নেই।

মুকসুদপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নরেন্দ্রনাথ মৈত্র বলেন, প্রধান শিক্ষক নিবিদীতা রায় ঘটনাটি সত্যতা স্বীকার করে আমাকে জানিয়েছে। আমি তার (প্রধান শিক্ষক) মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।