🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

প্রধানমন্ত্রীর সেই চিঠি হাতে পেল শীর্ষেন্দু


❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি- নিজ এলাকার পায়রা নদীতে ব্রিজ নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠির জবাব হাতে পেল পটুয়াখালীর সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শীর্ষেন্দুকে চিঠির জবাব পাঠিয়েছেন।

pm_hasina_letter_26070_1474897017সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক একেএম শামীমুল হক সিদ্দিকী নিজ হাতে শীর্ষেন্দুর হাতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া চিঠি তুলে দেন।

আমি খুব খুশি হয়েছি। আজ আমি আনন্দিত। আসলে আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সালাম জানায়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠির জবাব হাতে পেয়ে কথাগুলো বলেন শীর্ষেন্দু বিশ্বাস।

এসময় শীর্ষেন্দুর মা শিলা রানী সন্নামত বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শাহদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগদান করার উদ্দেশ্যে গত ১৩ আগস্ট আমি ও আমার ছেলে শীর্ষেন্দু পায়রা নদী এবং বিষখালী নদী পাড়ি দেয়। ওই অনুষ্ঠানে শীর্ষেন্দু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি রচনা লিখে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। কিন্তু ১৩ আগস্ট পায়রা নদী পার হওয়ার সময় আবহাওয়া খুব খারাপ ছিল। আমার ছেলে শীর্ষেন্দু খুব ভয় পেয়েছিল। নদীতে প্রচণ্ড বেগে ঢেউ উঠছিল। ১৫ আগস্ট রাতে আমার ছেলে ওই ভয়কে মনে রেখে অনেক কান্না-কাটি করে প্রধানমন্ত্রী কাছে একটি চিঠি লিখে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে এলাকার পায়রা নদীতে ব্রিজ নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে শীর্ষেন্দু চিঠিতে জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর শৈশবকাল নিয়ে রচনা লিখে সে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

‘আমি এই দেশের একজন নাগরিক। পটুয়াখালী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ি। আমার প্রয়াত দাদু অভিনাষ সোন্নামত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।’ ‘আমার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। পায়রা নদী পার হয়ে আমাদের বাড়ি যেতে হয়। নদীতে খুব স্রোত থাকে। মাঝে মাঝে ট্রলার ডুবে মানুষও মারা যায়।’

ছেলেটি জানায়, এসব দুর্ঘটনায় অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন এবং সে তার বাবা-মাকে হারাতে চায় না। কারণ সে তাদের খুব ভালোবাসে। “তাই আমাদের জন্য মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি ব্রিজ তৈরির ব্যবস্থা করুন’, চিঠির শেষে এই কথা লিখে শীর্ষেন্দু।

চিঠির উত্তরে শেখ হাসিনা লেখেন, তিনি শীর্ষেন্দুর চিঠি পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। মা-বাবার নিরাপত্তার ব্যাপারে এই বয়সে এত সচেতন হওয়ায় তিনি তার প্রশংসাও করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি পটুয়াখালী জেলার মীর্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীটি অত্যন্ত খরস্রোতা। নিজের পিতামাতাসহ অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই নদীকেন্দ্রিক তোমার নিরাপত্তা সচেতনতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি বুঝতে পারছি তোমার বীর মুক্তিযোদ্ধা দাদুর প্রভাব রয়েছে তোমার ওপর। মীর্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আমি তোমাকে আশ্বস্ত করছি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- জেলা পরিষদ প্রশাসক খান মোশারফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তারিকুজ্জামান মনি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ মৃধা প্রমুখ।