৩২৬টি মন্ডপে পূজার প্রস্তুতি, শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে পাবনায় ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা

⏱ | সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ 📁 দেশের খবর, রাজশাহী

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি- আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে পাবনায় মন্দিরে মন্দিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পূজার প্রধান আকর্ষণ দূর্গা প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। এ বছর জেলার নয়টি উপজেলায় ৩২৬টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দূর্গাপূজা।

unnamedএসব মন্ডপে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৬৩ মেট্রিকটন চাল। আর প্রতিমা তৈরীর কাজ নির্বিগ্ন করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজার বাকি আর কিছুদিন। আগামী ৭ অক্টোবর দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ মহোৎসব। এ উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দুর্গা প্রতিমা। তাই পাবনা জেলা শহর সহ নয়টি উপজেলার মন্দিরে মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাদা, মাটি, খড়, কাঠ, বাঁশ, সুতলি দিয়ে দূর্গা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। মাটির কাজ শেষে হলেই শুরু হবে রং তুলির আঁচড়। প্রতিমাগুলো মনোমুগ্ধকর ও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন শিল্পীরা। তাদের আশা র্নিধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে সব প্রতিমা তৈরীর কাজ। এখন বিভিন্ন মন্দিরে প্রতিমা তৈরীর পাশাপাশি চলছে প্যান্ডেল তৈরী এবং সাজসজ্জার কাজ।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্র জানায়, জেলার ৯টি উপজেলায় এ বছর ৩২৬টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী পূজার আয়োজন করা হচ্ছে সুজানগর উপজেলায় এবং সবচেয়ে কম হচ্ছে আটঘরিয়া উপজেলায়। মন্ডপগুলোর মধ্যে পাবনা সদর উপজেলায় ৫৩টি, আটঘরিয়া উপজেলায় ১৪টি, ঈশ্বরদী উপজেলায় ২৭টি, চাটমোহর উপজেলায় ৪৫টি, ফরিদপুর উপজেলায় ১৫টি, সাঁথিয়া উপজেলায় ৪৯টি, সুজানগর উপজেলায় ৫৫টি, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ১৯টি, বেড়া উপজেলায় ৪৯টি।

পাবনা শহরের মদনমোহন মন্দিরে প্রতিমা শিল্পী দেবেশ পাল জানান, দুর্গা পূজার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে দুর্গা প্রতিমা। আর এই প্রতিমা তৈরীর জন্য আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন বিভিন্ন মন্দিরের পূজা আয়োজক কমিটি, দর্শনার্থী ভক্তবৃন্দ। তাই মনমুগ্ধকর ও নিখুঁতভাবে কাজ ফুটিয়ে তুলতেই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে আমাদের।

প্রতিমা শিল্পী শ্রী ধনঞ্জয় পাল ধনু জানান, এখন প্রতিমা তৈরীতে মাটির কাজ চলছে। আগামী ৬ অক্টোবর রাতের মধ্যে সবগুলো প্রতিমার কাজ শেষ করতে হবে। তাই সহযোগীদের নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে আয়োজকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের একটি প্রতিমা তৈরীতে প্রতিমা শিল্পীদের ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। এছাড়া আলোকসজ্জা, তোরণ ও প্যান্ডেল তৈরীতে বিপুল পরিমান টাকা ব্যয় হবে। আগামী ৭ অক্টোবর দেবী বোধনের মাধ্যমে পূজার সূচনা হবে। ১১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনে মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের শারদীয় এই উৎসব।

পাবনা সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাষ ভদ্র জানান, প্রশাসনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সভা করছি। সব মিলিয়ে পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা সার্বিক তদারকি করছে। আশা করি সুষ্ঠুভাবে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

শহরের রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম দূর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রলয় চাকী বলেন, মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, পাবনায় দূর্গা পূজা সার্বজনীনভাবে প্রতিবছর উদযাপিত হয়। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহনে মিলনমেলা পরিণত হয়। সবাই সহযোগিতাও করেন। তাই প্রশাসনের সহায়তায় এবারের দূর্গাপূজাও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্নভাবে উদযাপিত হবে বলে মনে করি।

পাবনা জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ সিরাজুল ইসলাম জানান, দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে পাবনা জেলার মন্দিরগুলোতে ১৬৩ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির সভাপতির মাধ্যমে বরাদ্দগুলো পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে।

পাবনা পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গা পূজা উৎযাপনের জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিমা তৈরী কালীন সময়ে যাতে প্রতিমার কোন প্রকার ক্ষতি না হয় সেজন্য আয়োজক কমিটিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসনে টহল টিম সতর্ক রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি প্রতি বছরের মতো এবারও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে।