‘রক্ত আর পানি একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না’


❏ সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ কাশ্মীরে উরি হামলায় ১৯ ভারতীয় সেনা নিহতের পর অর্ধ-শতকের পুরোনো সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভাবছে ভারত। সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর সাউথ ব্লকে সিন্ধুর পানি চুক্তির পর্যালোচনার বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘রক্ত আর পানি একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।’ ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া সিন্ধু চুক্তির বিষয়টি পর্যালোচনা করতে সোমবার দিল্লিতে এক শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এই বার্তাই দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সিন্ধু নদীর ৬ টি শাখানদীর মধ্যে বিয়াস, রাভি, সুতলেজ নদীর পানি পাবে ভারত আর সিন্ধু, ঝিলম, চন্দ্রভাগার পানি পাবে পাকিস্তান। ভারত সিন্ধু নদের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার করে। আর পাকিস্তান সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে সিন্ধুর শাখানদীগুলোর উপর নির্ভরশীল। সোমবারের বৈঠকে বলা হয়, ভারত তার পানি ব্যবহারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিবে এবং পাকিস্তানের অধীনে থাকা তিনটি নদীর পানিও ব্যবহার করবে।

modi2এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ‘সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দিলে অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে পারে পাকিস্তান।’ যদিও বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় চাইলেই এটি বাতিল করতে পারবে না ভারত।

সিন্ধু চুক্তি নিয়ে কয়েকদিন আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ বলেন, এই ধরনের যে কোন চুক্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা থাকাটা ভীষণ জরুরি। এটা একতরফা হতে পারে না। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু চুক্তি বাতিল হতে পারে বলে দিল্লির রাজনীতিতে জল্পনা ছড়িয়েছিল। কিন্তু উরির হামলার পর পাকিস্তানকে আর বেশি সুবিধা দিতে রাজি নয় ভারত।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।