সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে এক স্কুল ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

gazipur_125379


অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইল পৌর শহরের আগ শাকরাইল এলাকায় নবম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার দুই সহপাঠির বিরুদ্ধে। নিহত মমিনুর ও তিন বন্ধু টাঙ্গাইলের সন্তোষ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। নিহত মমিনুল ইসলাম (১৫) আগ শাকরাইল গ্রামের শহিদুল ইসলাম বিশার ছেলে। নিহতের বাবা বিশা পেশায় একজন রং মিস্ত্রী।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আগ শাকরাইল গ্রামে নিহতের এক বন্ধুর বাড়িতে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। এ বিষয়ে, নিহত মমিনুল ইসলামের পিতা শহিদুল ইসলাম বিশা সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, মমিনুল, পরশ ও হালিম তিন বন্ধু এক সাথে লেখাপড়া করে। অামাদের সবার পাশাপাশি বাড়ি হওয়াতে এক সাথে তারা চলাফেরা করে। তাদের চলাফেরায় আমরা কখনই নিষেধ করিনি। অাজ সকাল ১১টার দিকে হালিম আমার ছেলে মমিনুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে দুপুর ১২টার দিকে পরশদের বাড়ি থেকে ডাক চিৎকারের আওয়াজ শুনে আমরা এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি আমার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মাথায় ও মুখে এলোপাতাড়িভাবে কোপানো হয়েছে। এ অবস্থা দেখে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই অামার ছেলের মৃত্যু হয়।

অামি এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত হালিম ও পরশের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করছি । নিহতের খালু জাকির সরকার বলেন, হালিম বাসা থেকে ডেকে নিয়ে তারা তিন বন্ধু একসাথে স্কুলের সামনে একটি দোকান থেকে চানাচুর কিনে খেয়েছে। তখন তাদের সাথে কোন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে হালিম তাকে ডেকে নিয়ে পরশদের বাড়িতে যায়। ওই বাড়িতে গিয়ে পরশের শোবার ঘরে দরজা আটকিয়ে মমিনুলকে শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় পরশের বাড়ির লোকজনের ডাকচিৎকারে গ্রামের লোকজন ও মমিনুলের বাবা-মা এগিয়ে আসলে মমিনুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে থাকতে দেখে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। পথেই সে মারা যায়।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ভুইঞা সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, এদের পরিবারের মধ্যে কারও সাথে কোন পুর্ব শত্রুতাও ছিল না। কেনো, কি কারণে এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনাটি হলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে হালিম ও পরশ পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। লাশটি ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। এ দিকে মমিনুলের লাশ সন্ধ্যায় তার গ্রামের বাড়ি আগ শাকরাইলে আনা হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন পরিবারের লোকজন ও আত্বীয়-স্বজন। এমন হত্যাকান্ড তারা কোন ভাবেই মানতে পারছেন না। পরে, রাতে শাকরাইল কবরস্থানে জানাজা নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়।