ডিমলায় সড়ক সংস্কারের অভাবে জনদুর্ভোগ চরমে


❏ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় ২৬ কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করছে। অল্প বৃষ্টিতে রাস্তায় জমছে পানি, খানাখন্দে ভরা চলাচলের অনুপযোগি রাস্তা নিয়ে বিপাকে পড়েছে এলাকাবাসী।

rasta-bahal-dosa

সুটিবাড়ী ডালিয়া সড়কের ৩ কিলোমিটার, ডিমলা থেকে কলোনী বাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার ও খালিশা চাপানি পাউবোর ক্যানেল হয়ে তালতলা মোড় পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার, ঝুনাগাছ চাপানির পূর্বদিকে গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারসহ মোট ২৬ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের সম্পুর্ন অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। গত ৩ বছর ধরে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের সম্পূর্ন অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ডিমলা থেকে কলোনীর দুরুত্ব ১৩ কিলোমিটার হলে মোটর সাইকেলে যেতে সময় লাগে ১ ঘন্টা। সম্পূর্ন রাস্তা বড় বড় গর্তে ছোটখাট পুকুরের ন্যায় হওয়ার কারনে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ডিমলা উপজেলা শহর থেকে সুটিবাড়ি-ছোটখাতা হয়ে ডালিয়া পযন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার অতিক্রম করে ওই পথে রংপুর, লালমনিরহাট, হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম ও বুড়িমারি যাতায়াত করতে হয় ওই এলাকার মানুষজনকে। এ রাস্তায় প্রতিদিন চলাচল করে ৬টি ঢাকাগামী কোচ বাস, একটি বিআরটিসি কোচ ও সুঠিবাড়ি থেকে রংপুর চলাচল করে ১২টি যাত্রীবাহি বাস এবং শতাধিক মালবাহি ট্রাক, মিনি ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটোরিক্সাসহ অসংখ্য যানবাহন। কিন্তু ওই সড়কের ছোটখাতা এলাকায় ৩ কিলোমিটার পথ খানাখন্দে ভরে থাকায় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে ওই পথের যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই সড়কের বিস্তির্ণ এলাকা জুরে খানাখন্দে ভরে গেছে। বৃষ্টির পানি ও কাদামাটিতে একাকার হয়ে আছে গোটা সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই খালখন্দ ভরে যাওয়ায় বোঝার উপয় নেই ভাল মন্দের। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে ছোট বড় র্দুর্ঘটনা। এ সময় কথা হয় ওই পথের অটোরিক্সার যাত্রী ছোটখাতা গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩৫) সঙ্গে। তিনি বলেন, রাস্তাটা ভয়াবহ গর্তে পরিনত হয়েছে। রাস্তা খারাপের কারণে এখন বাস চলাচল কমে গেছে। ভাঙ্গা রাস্তার কারনে প্রতিনিয়ত গাড়ি উল্টেপড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আড়াই তিন বছর ধরে এ অবস্থা চললেও দেখার কেউ নেই।

ডালিয়া বাজারের ট্রাক বন্দোবস্তকারী আবুল কাশেম (৩৫) বলেন, ভাঙ্গা রাস্তার কারণে প্রায় ট্রাকের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, চাকা ফেসে যাচ্ছে, আবার কখনো মালামালসহ ট্রাক উল্টে যাচ্ছে। এ কারনে ওই পথে ট্রাক যেতে চায় না। যে কাজ এক দুই কথায় হতো, সেই কাজ এখন ১০ কথায়ও হয় না। ভাড়াও বেশি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন প্রতিদিন এই পথে শতাধিক ট্রাক মালামাল নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। রাস্তাটা সংস্কার করা খুবই জরুরী। ট্রাক চালক আবুল কালাম (৪০) বলেন, রাস্তার যে অবস্থা তাতে বেশি ভাড়ায়ও পোসায় না। একবার ফেসে গেলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ধরা খেতে হয়। সুটিবাড়ি বাজারের আতিক মেশিনারিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও রংপুর সরকারী কলেজের সম্মাান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আবু আলাল হোসেন বলেন, আগে রংপুর থেকে একটা কার্টুণ আনতে ভাড়া পড়তো ২০ টাকা। এখন রাস্তা ভাঙ্গার কারণে ১শ টাকা দিতে হয়। ৩ বছর ধরে এ অবস্থা চলছে কিন্তু সরকার রাস্তা মেরামতের কোনো উদ্যেগ নিচ্ছেন না।

সুটিবাড়ি গ্রামের মানিক জানায়, বর্তমানে সুটিবাড়ী বাজার থেকে ওই পথে ঢাকার ছয়টা যাত্রীবাহি বাস, একটা বিআরটিসি এবং সুঠিবাড়ি রংপুর আধা ঘণ্টা অন্তর যাত্রীবাহি বাস চলাচল করে। মালবাহি ট্রাকও চলে শতাধিক। এ ছাড়া জরুরী প্রয়োজনে রোগী নিয়ে যেতে চরম বিরম্বনায় পড়তে হয়। অনেক সময় বিকল্প পথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরে যেতে হয়। তিনি বলেন ডিমলা থেকে লালমনিরহাট, হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম ও বুড়িমারী যাওয়ার এটাই একমাত্র সড়ক। এছাড়া ডিমলা সদরের শহীদ মিনার দিয়ে (ডোমার-ডিমলা) সড়কটির ডিমলা অংশের প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের অভাবে অচল হয়ে পড়ছে।

উল্লেখ্য, ২০১০-১১ অর্থ বছরে সদর হতে নীলফামারী ও ডোমারের সাথে ডিমলার দুরুত্ব কমিয়ে আনতে সড়কটি নির্মান করে এলজিইডি। ৫ বছরে সড়কটির সংস্কার না করায় ওই সড়কটিও খানাখন্দে সৃষ্টি হয়ে ছোট বড় সব ধরনের যান চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে বেহাল দশায় পড়ছে। টুনিরহাট থেকে কলোনীর রাস্তাটিতে গর্তের কারনে সামান্য বৃষ্টিতে পানি ছাড়া কিছুই দেখা না যাওয়ার কারনে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ডিমলার ৪০ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করার টেন্ডারের পক্রিয়াধীন রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে সকল রাস্তার সংস্কার করা হবে।

নীলফামারী-১ (ডোমার- ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ছোটখাতা থেকে ডালিয়া তিন কিলোমিটার সড়কের কারণে সেখানে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এলজিইডি থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে টেন্ডারসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে।