আসলেই কতটা ভালো দল আফগানিস্তান?


❏ বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৬ খেলা, স্পট লাইট

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- প্রথম ম্যাচটা প্রায় জিতেই যাচ্ছিল আফগানিস্তান। ৪৭তম ওভারে মাত্র এক রান দেন সাকিব আল হাসান এবং দুই ওভারে টপাটপ চারটি উইকেট তুলে নিয়ে আফগানদের হারিয়ে দেন তাসকিন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘প্রত্যাশিত’ জয় পেলেও আফগানদের মন ভারি হয়েছে।

afghanistan-cricket-team20160921114316অনিয়মিত ক্রিকেট দর্শকদের কাছে তাই বিস্ময় ছিল, আফগানিস্তানের কাছে এভাবে জিততে হয় বাংলাদেশকে? কিন্তু যাঁরা নিয়মিত ক্রিকেট দেখেন, তাঁরা জানেন, আফগানিস্তান আসলেই কতটা ভালো দল। তাদের এমন দুর্দান্ত ক্রিকেট নতুন নয় মোটেও।

জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু আফগানিস্তানের। ২০০৯ সালের এপ্রিলে নিজেদের প্রথম ওয়ানডেতে ৮৯ রানে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় আফগানরা। এই ছয় বছরে বিশ্ব দেখেছে বহু আফগান-রূপকথা। ২০১৪ সালে এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে ৩২ রানে হারানো, গত বছর জিম্বাবুয়েকে টানা দুটি সিরিজে হারানো, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়—আফগানিস্তানের ক্রমোন্নতির ছাপ স্পষ্ট।

২০০৯-এ বিশ্বকাপের বাছাই প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তানের অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বৈতরণি না পেরোলেও আফগানরা পেয়ে যায় ওয়ানডে খেলার ছাড়পত্র। ওয়ানডে মর্যাদা পাওয়ার পর গত ছয় বছর আফগানরা এগিয়েছে অনেক দূর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় উত্থান হচ্ছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির। ক্রমেই বড় হচ্ছে তাদের স্বপ্নের পরিধি।
এখনো পর্যন্ত আফগানিস্তান খেলেছে ৬৮টি ওয়ানডে, জিতেছে ৩৪টি, হেরেছে ৩৩টি।

এই সময়ে সাফল্যের হারে তারা জিম্বাবুয়ের চেয়েও এগিয়ে। গত দুই বছরে ওয়ানডেতে পেয়েছে বেশ কিছু স্মরণীয় সাফল্য। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখনো পর্যন্ত ২৭ ম্যাচে তারা জিতেছে ১২টি, হেরেছে ১৪টিতে। এর মধ্যে আছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি পাঁচ ম্যাচের সিরিজ জয়। ওয়ানডের চেয়ে টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তান যেন বেশি ভয়ংকর। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখনো পর্যন্ত ২৩ টি-টোয়েন্টি খেলে জিতেছে ১৭টিতে, হেরেছে ৩টিতে। মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিত গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তো তারা হারিয়ে দিয়েছে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের সবচেয়ে ভয়ংকর দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ক্যারিবীয়দের হারানোর আগে আফগানরা জিতেছিল আরেক টেস্ট খেলুড়ে দেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও।

আফগানিস্তানের পরিসংখ্যান কিন্তু উন্নতির বার্তাটাই ছড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছয় বছরের বেশি সময় কাটিয়ে দিলেও এখনো দেশের মাটিতে সিরিজ খেলার সুযোগ পায়নি তারা। ঘরের মাঠের দর্শকদের সমর্থন পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। দুর্বল ক্রিকেট অবকাঠামো নিয়েই যে এত দূর তারা এসেছে সেটি কী কম বিস্ময়ের!

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ বলেই কি না আফগান খেলোয়াড়দের বড় শক্তি—হার না মানার মানসিকতা। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মোহাম্মদ নবী-আসগর স্টানিকজাইরা তাই এগিয়ে চলেন পূর্ণ উদ্যমে। প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন প্রতিপক্ষকে। সীমিত ওভারে ভালো করে আফগানদের স্বপ্ন এখন টেস্টের অভিজাত আঙিনায় পা রাখা। যদিও তা অনেক কঠিন। কিন্তু কঠিন পথ পাড়ি দিতেই তো তারা অভ্যস্ত!

বর্তমান আফগানিস্তান দল: আসগর স্তানিকজাই (অধিনায়ক), মোহাম্মদ শাহজাদ, রহমত শাহ, মিরওয়াইস আশরাফ, দওলত জাদরান, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান, হাশমতউল্লাহ শাহিদি, ফরিদ আহমাদ মালিক, আমির হামজা হোতাক, নাজিবুল্লাহ জাদরান, নওরোজ মঙ্গল, নাভিন উল হক, করিম জানাত, শাবির নুরি, ইসহানউল্লাহ জানাত।

এই বিভাগ থেকে আরও পড়ুন :