থানায় মামলা তবুও ছাত্রলীগ আতঙ্কে অফিস সহকারীর পরিবার

⏱ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৬ 📁 ঢাকা, দেশের খবর, স্পট লাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভারঃ সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভেতরে অফিস সহকারীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনার দুই দিন পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। তবে থানায় ছাত্রলীগ নেতাদের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের হলেও তাদেরকে গ্রেফতার না করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

unnamedএর ফলে যে কোন সময় ছাত্রলীগ নেতাদের বড় কোন হামলা এমনকি প্রাননাশের আতঙ্কে রয়েছে অফিস সহকারীর পরিবার। অন্যদিকে অফিস সহকারীর চিকিৎসা সেবাও বন্ধ করে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অফিস সহকারী গাজী সামছুদ্দিনের পরিবাব অভিযোগ করে বলেন, সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম্মেদ তাজু ও যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রকিসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা কলেজের নিয়ম বহির্ভূত কাজ করতেন। তারা প্রায়ই কলেজের ছাদে মাদক সেবনের জন্য তার কাছে চাবি চাইতেন। ছাদের চাবি না দেওয়া ও তাদের এসব অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খলার প্রতিবাদ করায় গত (২১ সেপ্টম্বর) দুপুরে কলেজের ভেতরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে।

পরে অনান্য অফিস সহকারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনার পর পরই তিনি বাদি হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও এর দুই দিন পর পুলিশ মামলাটি গ্রহন করে। মামলা দায়েরের পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কলেজের ভেতরে মিছিল ও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদেরকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। মামলায় ছয়জন আসামীদের মধ্যে মাত্র ২য় আসামী রকিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে প্রায়ই হুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি তার প্রাণ নাশেরও হুমকি দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে অফিস সহকারীকে পেটানোর ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার খরচ বহনের দায়িত্ব নিলেও গত মঙ্গলবার থেকে তাও বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন তারা মানবেতর জীবন পালন করছে অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতাদের গ্রেফতার না করায় আতঙ্কে রয়েছে পুরো পরিবার।

অফিস সহকারীর মেয়ে রোজি তুষার অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবাকে পেটানোর দিন তিনি সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে অভিযোগ গ্রহন করে। এর পর টানা দুই দিন থানায় ঘুরে ক্লান্ত হওয়ার পর সাভার মডেল থানার (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান (২৩ সেপ্টেম্বর) মামলাটি গ্রহন করে। তবে মামলা দায়েরের পর ছয়জন আসামীদের মধ্যে মাত্র একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। মামলার প্রধান আসামী সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম্মেদ তাজু অনাণ্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। যে কোন সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার বাবার প্রাণ নাশ করতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ইলিয়াস খান বলেন, কলেজের নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসার খরচ বহনের জন্য আবেদন করতে হয়। তবে আহত অফিস সহকারী এ বিষয়ে কোন আবেদন দেয়নি। এছাড়াও অফিস সহকারীকে পেটানোর ঘটনায় কলেজের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গ্রহন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি কাজি এনায়েত বলেন, সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার জন্য ঢাকা জেলা ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।

এব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মাহফুজুর রহমান বলেন, অফিস সহকরাী পেটানোর ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও আসামীদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রযেছে বলেও তিনি জানান।