মাদারীপুরের দূর্গা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেছে মৃৎ শিল্পীরা

⏱ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৬ 📁 ঢাকা, দেশের খবর

মেহেদী হাসান সোহাগ, মাদারীপুর প্রতিনিধি: ব্যস্ত সময় পার করছে মাদারীপুর মৃৎ(পাল) শিল্পীরা বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। এ উপলক্ষে মাদারীপুর প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃৎ শিল্পীরা।

murti-madari

কাশফোটা শরতের শারদীয় দূর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রুপ দিতেই মন্দিরগুলোতে প্রস্ততি প্রায় শেষ। দেবীকে স্বাগত জানাতে সর্বত্র আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের আবাল, বৃদ্ধ-বনিতা, নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষ এ সর্ববৃহৎ শারদীয় পূজাকে স্বার্থক করতে প্রহর গুনছে। সব মিলিয়ে ব্যাপক প্রস্তুুতি চলছে প্রতিটি পূজামন্ডপে। তার সাথে পূজা কমিটি ও প্রশাসনের সকল প্রস্ততি সম্পূর্ন হয়েছে।

প্রতিমা শিল্পীর কল্পনায় দেবী দূর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রুপ দিতে দিনরাতভর চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ইতিমধ্যে প্রতিমার কাঠামোর মাটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর শুরু হবে রং ও সাজসজ্জর কাজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে উপজেলার হিন্দুপাড়া গুলোতে আগাম শারদীয় উৎসবের আমেজ লক্ষনীয়। উচু-নিচুর বিভেদ ভুলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একত্র করে মহা-সম্মিলন হয় বলে এ পূজাকে বলা হয় সার্বজনীন পূজা। আর শরৎকালে হয় বলে বলা হয় শারদীয় উৎসব। আর দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে জেলার ৪টি উপজেলার ও ৪টি পৌরসভায় ৩৯৯টি মন্ডপের পূজা উদযাপন কমিটি ব্যস্ত সময় পার করছে। কোন কোন মন্ডপে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি সাজসজ্জার প্রস্তুতি ও চলছে।

আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ৫ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা শুরু হবে। স্থানীয় কারিগর ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে কারিগররা এখানে এসে তৈরি করছে মাটির প্রতিমা। প্রতিটি পূজামন্ডপের জন্য তৈরি করা হচ্ছে দূর্গা, লক্ষী, শরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, সিংহ, মহিষ, পেচা, হাঁস, সর্পসহ প্রায় ১২টি প্রতিমা। হিন্দু সম্প্রদায়ের দূর্গতিনাশীনী দূর্গাদেবীকে বরণ করে নিতে মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ, সাজসজ্জার কাজ চলছে। ঢাক, ঢোল বাদ্যকাররা বাদ্যযন্ত্র ঠিকঠাক করে নিচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিমা শিল্পীরাও মহাব্যস্ত প্রতিমা তৈরিতে। সেই সাথে ব্যস্ত এর কারিগররাও।

ইতিমধ্যে কোন কোন মন্ডপে মাটির কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে শিল্পীরা। মূর্তি গড়া শেষে রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে প্রতিমা। দেবীকে স্বাগত জানাতে সর্বত্র আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের আবাল, বৃদ্ধ-বনিতা, নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষ এ সর্ববৃহৎ শারদীয় সবকে স্বার্থক করতে প্রহর গুনছে। সব মিলিয়ে ব্যাপক প্রস্তুুতি চলছে প্রতিটি পূজামন্ডপে।

এবারের শারদীয় দূগা পূজা সবার কাছে আনন্দময় ও সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হবে। এবং কোন প্রকার জঙ্গিহামলা ছাড়াই যেন পূজা শেষ করতে পারে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।

মন্দিরের কয়েকজন পুরোহীতরা বলেন আমরা মায়ের সেবা করি থাকি এলাকার মধ্যে যেন শান্তি বিরাজ করে। যে মা আমাদের সবার প্রতি সুদৃষ্টি দেয়। তবে সরকার আমাদের জন্য কিছু অনুদানের ব্যবস্থা করলে ভালো হতো। আমার যারা গ্রামের এলাকায় পুরোহীতের কাজ করি তার সবাই গরিব।

মৃৎ(পাল) শিল্পি, প্রতিমা কারিকর প্রফল্ল মন্ডল সহ আর অনেকে জানান, আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশী ভালো লাগে যখন আমাদের তৈরি করা প্রতিমাকে সবাই পূজা করে। তখন আমাকে সার্থক মনে হয়।

জেলার পূজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক অনিল চন্দ্র বিশ্বাস সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এবার ৩৯৯টি মন্ডপে পূজা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের প্রতিবারই পূজা মন্ডপ বাড়ছে। আমরা এবার পুরো জেলার পূজার জন্য ৫শত কেজি চাল পেয়েছি। সরকারে কাছে দাবি আমাদের পূজার অনুদান যেন আরও বাড়ানো হয়। আগে এই দূর্গা পূজার জন্য প্রায় ২-৩ মাস আগে থেকে প্রস্ততি গ্রহনসহ কারিগরদের সময় দিতে হতো কিন্ত এখন মাত্র ৭-৮ দিন কাজ করেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে পারছে (পাল) মৃৎ শিল্পিরা। অনুদান কম হওয়ায় তাদের সঠিক মজুরি দিতেও পারি না।

মাদারীপুর অরিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনছার উদ্দিন জানান, আমরা আসন্ন দূর্গাপূজা ও দর্শনার্থীদের জন্য নিরপত্তা দেয়ার জন্য সবধরনের প্রস্ততি গ্রহন করেছি। প্রতিবারের মত এবারও আমাদের পুলিশ ফোর্স সহ প্রায় ৫শত আনসার, সাদা পোশাকে পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব থাকবে প্রতিটি পূজামন্ডপে। যাতে কোন প্রকারে অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে।