🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান পঙ্গু ফেরিওয়ালা হায়দার হোসেন


❏ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৬ খুলনা, দেশের খবর

আরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি- এই শহরে আমি যে এক নতুন ফেরিওয়ালা হরেক রকম সওদা নিয়ে ঘুরি সারাবেলা, ফেরিওয়ালা। আয়না আছে চিরুনী আছে নেবে যদি এসো কাছে। আয়না আছে চিরুনী আছে আছে কাঁচের চুড়ি সেও পাউডার আলতা সাবান মিলবে না তার জুড়ি আরো আছে চুলের ফিতা রঙ্গিন মতির মালা, ফেরিওয়ালা।

unnamed১৯৭২ সালের সিনেমার একটা বিখ্যাত গান এটি। এই গানের ফেরিওয়ালার মত এক জন ফেরিওয়ালা হচ্ছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ভগবান নগর গ্রামের হায়দার হোসেন (৪৭)। তবে অন্য সব ফেরিওয়ালাদের মত স্বাভাবিক জীবন নয় তার।

তিনি একজন পঙ্গু ফেরিওয়ালা। তার এক পা নেই। কিন্তু তিনি এই অবস্থাতে থেকেও ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে না নিয়ে অন্য স্বাভাবিক মানুষের মত জীবন যাপন করার চেষ্টা করছে। তিনি এক পা দিয়ে ভ্যান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের হরেক রকম জিনিস নিয়ে ফেরি করে বেড়ান। এ থেকে যা উপার্যন হয় তা দিয়ে চলে তার সংসার।

জানা যায়, পঙ্গু ফেরিওয়ালা হায়দার হোসেন দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত ফেরিওয়ালা পেশার সাথে জড়িত। কিন্তু তিনি জীবনে প্রথম থেকে পঙ্গু ছিলেন না। ১০ বছর আগে রোগের কারণে তার এক কেটে ফেলতে হয়। সে থেকে তিনি পঙ্গু ফেরিওয়ালা হিসেবে পরিচিত হন।

পঙ্গু ফেরিওয়ালা হায়দার হোসেনের স্ত্রী জানান, আমাদের যখন বিয়ে হয় তখন সে স্বাভাবিক আর ৫ জন মানুষের মত ছিল। কিন্তু রোগের কারণে ১০ বছর আগে তার একটা পা কেটে ফেলতে হয়। এর পর থেকে ২ দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে আমাদের ৫ জনের সুখে সংসারে নেমে আসে অন্ধকার। সে ছিল সংসারের এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। এ সময় কোন উপায় না পেয়ে সে এক পা দিয়ে ভ্যান চালিয়ে আবার ফেরির ব্যবসা শুরু করেন। এ ব্যবসা থেকে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে চলে আমাদের সংসার।

unnamjjedহায়দার হোসেন জানান, আমার কোন জমি নাই। যখন আমি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতাম তখন ৮ শতাংশ জমি কিনেছিলাম। কিন্তু রোগের চিকিৎসার জন্য সেটা বিক্রি করে ফেলি। বর্তমানে স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া ৫ শতাংশ জমির উপর একটি ছাপড়া ঘর তৈরি করে বসবাস করছি।

তিনি আরো জানান, এক পা দিয়ে ভ্যান চালিয়ে ফেরি করতে অনেক কষ্ট হয়। বেশি দুর যেতে পারি না। এ জন্য উপার্জনও অনেক কম হয়। যা দিয়ে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, তাই যদি একটি বিদ্যুৎচালিত ভ্যান কিনতে পারতাম তাহলে আমার ব্যবসা আর ভাল ভাবে চলতো। উপার্জনও হত বেশি। সংসারের সবাইকে নিয়ে আবার আগের মত সুখে কাটতো আমার দিন। বিদ্যুৎচালিত ভ্যান তৈরি করতে সর্বনিম্ন ৪০ হাজার টাকার প্রয়োজন কিন্তু সব মিলিয়ে এত টাকা আমার নাই।

এলাকার সুশীল সমাজের ব্যাক্তিরা বলেন, বর্তমান সরকার ভিক্ষুকদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করছে। এই সমাজে অনেকে আছে যারা সাধারণ একটা সুযোগ পেলেই ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নেন। কিন্তু এক পা হারিয়েও পঙ্গু হায়দার হোসেন নিজে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ কার চেষ্টা করছেন। তাই সকারের ও সমাজের বৃত্তবানদের কাছে অনুরোধ পঙ্গু হায়দার হোসেনকে একটি বিদ্যুৎচালিত ভ্যানের ব্যবস্থা করে দিয়ে অন্য স্বাভাবিক মানুষের মত সমাজে মাথা উচু করে বাঁচা সুযোগ দেয়া হোক।

আরও বিস্তারিত তথ্য ও সহযোগিতার জন্য আমাদের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি আরাফাতুজ্জামান- ০১৯১৮-০১১৮০৫