আশুলিয়ায় অবৈধ ক্যামিকেলের কারখানার ধোঁয়ায় নানান রোগে ভুগছে মানুষ

৩:৩৮ অপরাহ্ন | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬ অপরাধ, ঢাকা, দেশের খবর

নিজেস্ব প্রতিবেদক, সাভারঃ আশুলিয়ায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে একটি ক্যামিকেলের কারখানা। অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা ওই কারখানায় প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ দিতে হচ্ছে বিপুলসংখ্যক নিরীহ মানুষকে। এমন ঝুঁকির মধ্যেও কারখানায় কাজ করছেন অনেক নিরীহ শ্রমিকরা।

আশুলিয়া ইউনিয়নের টঙ্গাবাড়ি এলাকায় নোবেল কেমিক্যাল নামের এই কারখানাটি অবস্থিত। এই কারখানায় অবৈধ ভাবে ট্যায়ারের তার মেশিনে পুড়িয়ে ফ্যারাস সালফ্রেড তৈরি করে বিভিন্ন গার্মেন্টস এ বিক্রি করে কতৃপক্ষ। ওই কারখানায় দুর্গন্ধে ওই এলাকার আশেপাশের লোকজন নানা রোগ ব্যতীতে ভুগছেন । মানুষের শরীরে চুলকানি এ্যাজমাসহ নানা রোগ হচ্ছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে শিশুদের।

এলাকাবাসী জানায়, আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ি এলাকায় নোবেল কেমিক্যাল নামের একটি কারখানা গত দুই বছর আগে চালু করেন ঢাকার এম এ মতিন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তিসহ তিন জন। ওই কারখানায় শ্রমিক রয়েছে প্রায় ১৫ জন। কারখানাটি টিনসেড। কারখানাটিতে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন গাড়ির ট্যায়ারের তার পুড়িয়ে ফ্যারাস সালফ্রেড তৈরি করে বিভিন্ন গার্মেন্টস এর ইটিপির কাজে বিক্রি করেন মালিকপক্ষ।

কারখানাটি ওই এলাকায় চালু করার ফলে ওই এলাকার স্থানীয়রা দুর্গন্ধে নানা রোগ ব্যতিতে ভুগছেন। শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে শিশুদের। নিত্যদিন অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে এলাকাবাসী বললেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি এই সব কারখানায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর সোচ্চার হয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটি গঠন ও নানা পদক্ষেপ নিয়ে সামাল দেয় উদ্ভূত পরিস্থিতির। কিছুদিন পর প্রশাসনের সংশ্রিষ্টদের ম্যানেজ করে আবার নির্বিঘ্নে চলে এই অবৈধ ব্যবসা।

factory-asuliya

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক খবির উদ্দিন জানিয়েছেন, এই সব ঝুকিপূর্ণ কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করার ফলে অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ওই কারখানার দুর্গন্ধে মানুষের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে। মানুষ বেশিদিন বেচে থাকার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।

তিনি আরো বলেন, এই সব কারখানার কোন মেশিন যদি কোনো কারণে বিস্ফোরণ ঘটে তাহলে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এভাবে একটি কারখানা প্রকাশ্যে কেমিক্যালের ব্যবসা করলেও সংশ্রিষ্টরা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ওই কারখানা ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে অন্যস্থানে হস্তান্তরের জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেন তারা। সরিয়ে না নিলে এলাকাবাসী কঠোর আন্দলোনের হুমকি দেন।

এ বিষয়ে কারখানা মালিকরা কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হয়নি।