• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। দুপুর ২:৫০মিঃ

জানেন কি কাঁচের বোতলের পানীয়ের স্বাদ ক্যান বা প্লাস্টিকের বোতলের তুলনায় আলাদা !

⏱ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৬ 📁 জানা-অজানা, স্পট লাইট

কাঁচের বোতল

ইসতিয়াক আহমেদ, লাইফস্টাইল কট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

পেপসি, কোকাকোলা, সেভেন আপ বা স্প্রাইটের মত ঠান্ডা পানীয় দিয়ে আমরা প্রায় প্রতিদিনই গলা ভেজাই। কাচের বোতল, প্লাস্টিকের বোতল কিংবা টিনের ক্যান তিন ধরণের পাত্রে বাজারজাত করা হয় এসব পানীয়। আমরা কি কেউ কখনো খেয়াল করে দেখেছি যে, কাচের বোতলের কোকাকোলার স্বাদ টিনের ক্যান বা প্লাস্টিকের বোতলের কোকাকোলার তুলনায় আলাদা?

খেয়াল না করে থাকলে আপনি একা নন। অধিকাংশ মানুষই এই বিষয়টা খেয়াল করেন না। আসলে এই স্বাদের পার্থক্যটা হয় খুবই সুক্ষ। যার কারণে অধিকাংশ মানুষই ব্যাপারটা বুঝতে পারেন না। একই উপাদান এবং প্রস্তুত প্রণালীতে একই কারখানায় তৈরী হওয়া সত্বেও স্বাদের কাচের বোতলের স্বাদ সবসময়ই প্লাস্টিক বা ক্যানের চেয়ে কেন আলাদা? এর পেছনে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।

এর কারণটা লুকিয়ে রয়েছে বোতলের উপাদানে। প্লাস্টিক এক ধরণের পলিমার। উৎপাদনের সময় চেষ্টা করা হয় যেন বোতলের উপাদানের সাথে পানীয় তরলের কোন ধরণের বিক্রিয়া না হয়। কিন্ত কিছু পরিমাণ বিক্রিয়া হয়েই যায়। প্লাস্টিকের বোতলে কিছু পরিমাণ এসিটালডিহাইড মূলক থাকে যা আবার কার্বন ডাই অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে। এরকারণে প্লাস্টিকের বোতলের পানীয়ে প্লাস্টিক প্লাস্টিক একটা ফ্লেভার পাওয়া যায়।

আবার অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানের সমস্যা হল এটা তরল পানীয়ের ফ্লেভার শুষে নেয়।ফলে পানীয় তরলের আসল ঝাঝ পাওয়া যায় না।

বাকি রইল কাচের বোতল। কাচ পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় পদার্থগুলির একটা। কাচ নিম্ন তাপমাত্রায় অন্য কোন পদার্থের সাথে একেবারেই বিক্রিয়া করে না। যার কারণে পানীয়ের সাথে বোতলের উপাদান তথা কাচের কোন ধরণের বিক্রিয়াই ঘটে না। ফলে অবশ্যই প্লাস্টিক বা ক্যানের তুলনায় কাচের বোতলের স্বাদটা আলাদা হবে। বলা হয়, কোন তরল পানীয়ের আসল স্বাদটা কাচের বোতলের পানীয় থেকেই পাওয়া সম্ভব।

আরো একটা ব্যাপার  দেখে আসি। বলুন তো, ফ্রিজে রেখে দিলে, প্লাস্টিক আর অ্যালুমিনিয়ামের ক্যানের মধ্যে কোনটির পানীয় আগে ঠান্ডা হবে?  প্লাস্টিকের বোতলের পানীয়তে একটু বেশি পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড দেয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিক পরিমাণে গ্যাস মিশ্রিত তরল ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়। একারণে ক্যানে থাকা পানীয়, প্লাস্টিকের বোতলে রাখা পানীয়ের তুলনায় দ্রুত ঠাণ্ডা হবে।

আরো একটা ব্যাপার, বোতল বা ক্যান খোলার সময় বুদবুদ আকারে গ্যাস বেরিয়ে আসে। এসময় বোতলের পানীয়ের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। কারণ তরলে দ্রবীভুত গ্যাস আলাদা হয়ে আসে। যার ফলে বোতলের ভেতরে চাপ বৃদ্ধি পায়। আর চাপ বাড়লে তাপমাত্রা তো বাড়বেই।

শুধু কোকাকোলা নয়, স্প্রাইট , সেভেন আপ, পেপসি বা অন্য যেকোন পানীয়ের ক্ষেত্রেই একই কথা প্রযোজ্য।