• আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

লালন শাহের গানে প্রভাবিত হয়ে হত্যা মামলার পলাতক আসামির স্বদিচ্ছায় আত্মসমর্পণ!

৭:৪৯ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : মহাত্মা বাউল সম্রাট লালন শাহের গানে প্রভাবিত হয়ে হত্যা মামলার পলাতক আসামি স্বদিচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আসামির নাম মো. রনি মুন্না (৩২)। হত্যাকাণ্ডের সাত মাস পর আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানা-পুলিশের কাছে এসে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

আসামি রনি মুন্না পূর্বধলা উপজেলার নাটেরকোনা গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের উৎরাইল বাজারে বিচিত্রা অতিথি হাউস থেকে এক বালু ব্যবসায়ীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ওই ব্যক্তির নাম নুর আলম ওরফে নুরুল আমীন (৩০)। তিনি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাইজপাড়া গ্রামের আবু ছিদ্দিকের ছেলে। বালুর ব্যবসার কারণে নিহত নুরুল আমীন দুর্গাপুরে বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় পুলিশ ওই দিন হোটেল সহকারী সুজন দাস ও হোটেলের সামনে পানের দোকানদার সন্তোষ দেবনাথ নামের দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ না পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়। খুনের পরদিন নিহত ব্যক্তির ভাই মো. সেলিম উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

roni-munna

হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে রনি মুন্নাকে আটকের জন্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। রনি মুন্নাকে না পেয়ে তাঁর বাবা নজরুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলাম তাঁর ছেলে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করেন।

আসামি রনি মুন্না আজ নিজে থেকে আত্মসমর্পণের পর সংবাদকর্মীদের জানান, লালনের গানে প্রভাবিত হয়ে তিনি অনুশোচনাবোধ থেকে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের ভয়ে এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে মাস তিনেক আগে কুষ্টিয়া জেলায় ফকির লালন শাহর মাজারে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে লালনের বাণী ও দেহতত্ত্ব গানে আত্মশুদ্ধি হয়েছে তাঁর। এ কারণে পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছেন।

রনি মুন্না আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তিন মাস আগে তাঁর একটি কন্যাসন্তান হয়। লালনের গান শোনার সময় শিশুকন্যার কথা বারবার মনে পড়েছে। হত্যার ঘটনাটি সারাক্ষণ তাঁকে তাড়া করে ফিরেছে। সারাক্ষণই মনে হতো, এটা তিনি কী করলেন!

হত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে রনি মুন্না বলেন, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। নুরুল আমীনের কাছে টাকা চেয়ে পাননি। সেই ক্ষোভ থেকে খুন করেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. হুমায়ুন কবীর সংনাদমাধ্যমকে বলেন, রনি মুন্না এই খুনের দায় স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।