• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১২:২০মিঃ

মকবুলের ‘যুদ্ধাপরাধ’ অনুসন্ধান শুরু, বিস্ময় প্রকাশ করে জামায়াতের বিবৃতি

⏱ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৬ 📁 Breaking News, ফিচার, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর – বাংলাদেশে জামায়াতের ইসলামের আমীর হিসাবে শপথ নেওয়ার চারদিনের মাথায় মকবুল আহমাদের একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সূত্রে এই অনুসন্ধান।

ছয় বছর ভারপ্রাপ্ত আমীর হিসাবে দায়িত্ব পালন করার পর গত সোমবার (১৭ অক্টোবর) দলের পূর্ণকালীন নেতা হিসাবে শপথ নেন মকবুল আহমাদ।

পরদিনই দু একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয়, মকবুল আহমাদ ১৯৭১ সালে ফেনী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতা-বিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন।

ঐ সংবাদের সূত্র ধরেই এখন মকবুল আহমাদের ‘যুদ্ধাপরাধ’ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, ‘মকবুল আহমাদের নাম ওই এলাকার রাজাকারদের তালিকায় রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমাদের কাছে নেই।’

mokbul-jamat

তিনি বলেন, ‘অনলাইন পত্রিকায় খবর এসেছে, মকবুল আহমাদ ১৯৭১ সালে ফেনী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন। তাই মকবুল আহমাদের দ্বারা যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি।’

মকবুল আহমাদের যুদ্ধাপরাধ অনুসন্ধানের জন্য একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জামায়াতের বিবৃতিঃ

এদিকে জামায়াত এক বিবৃতিতে মকবুল আহমাদের একাত্তরের ভূমিকার অনুসন্ধানের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। দলের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, মকবুল আহমাদ একজন অত্যন্ত সৎ চরিত্রবান ও কোমল স্বভাবের নেতা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে তার (মকবুল) মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। হত্যা, লুটপাট ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মতো কোনো ধরনের সহিংসতার সাতে তার কোনো সম্পর্ক নেই।’

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তিনি যদি কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত থাকতেন তাহলে যুদ্ধের পরে অবশ্যই কেউ না কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করতো।’

মুজিবুর বলেন, ‘১৭ অক্টোবরের (আমির হিসেবে শপথ নেয়ার দিন) পূর্ব পর্যন্ত কেউ তার বিরুদ্ধে কোথাও মামলা করা তো দূরের কথা, থানায়িএকটি জিডি পর্যন্ত করেনি। আমির হিসেবে শপথ গ্রহণের দুদিন যেতে না যেতেই তার বিুরদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করার খবরে দেশবাসী বিস্মিত ও মর্মাহত।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ থেকেই বোঝা যায়, এ তদন্তের খবর সম্পূর্ণ হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার হীন উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।’

জামায়াতের এই বিবৃতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের বিষয়ে অবশ্য কোনো বক্তব্যই দেওয়া হয়নি। এর আগে এ বিষয়ে সব বক্তব্যেই তাদের নেতারা ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করা হলেও এই বিবৃতিতে এ ধরনের কোনো কথাই বলা হয়নি।