• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সখীপুর-গোড়াই সড়কের বেহাল অবস্থা: চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

১০:৪৭ পূর্বাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ২১, ২০১৬ ঢাকা

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : কার্পেটিং, ইট, বালু ও খোয়া উঠে গিয়ে খানাখন্দকে পরিনত হয়েছে টাঙ্গাইলের গোড়াই-সখীপুর উপজেলার সড়ক। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত হয়ে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে।

বেহাল এই সড়ক দিয়ে যানবাহনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এ জন্য এই সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে সখীপুর উপজেলা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই সড়কটি টাঙ্গাইলের পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একমাত্র সড়ক।

মির্জাপুর উপজেলা ছাড়াও সখীপুর, কালিহাতি, ঘাটাইল এবং মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের এলাকার জনগন এবং মালামাল পরিবহনে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি।

roadএই আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় হাজারো ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে। ব্যাপক সংখ্যক যানবাহন চলাচল এবং বৃষ্টির কারণে ইট, বালু, খোয়া ও বিটুমিন উঠে গিয়ে সড়কে খানাখন্দকে পরিনত হয়েছে।

কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তেও সৃষ্টি হয়ে পুকুরে পরিণত হয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

এই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক সাইফুল সময়ের কন্ঠস্বর’কে ইসলাম, বাস চালক রহিম বাদশা, ট্রাক চালক আনোয়ার হোসেনসহ অনেকেই জানান, গোড়াই থেকে সখীপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার রাস্তা যেতে যেখানে বড়জোড় ৩৫/৪০ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে বর্তমানে সময় লাগছে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা।

রাস্তার এই বেহাল অবস্থার কারণে তাদের যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে। তাছাড়া যে কোন সময় এই সড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

দেখা গেছে, বৃষ্টি হওয়ায় সড়কটির গোড়াই এলাকায় পানি জমে কাঁদার সৃষ্টি হওয়ায় সড়কটি দিয়ে জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ট্রাকের চালক আমীর হামজা বলেন, ঢাকা থেকে মাল বোঝাই করে সখীপুর যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে গোড়াই-সখীপুর সড়কের গোড়াই এলাকায় খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়া পানির নীচে গর্তে পড়ে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গাড়িটি তুলতে পারেননি বলে তিনি জানান।

গোড়াই সাউথ ইস্ট ফেব্রিক্স এর শ্রমিক দিলদার হোসেন বলেন, ৩/৪ বছর আগে সড়কটি দিয়ে সখীপুরে যোগাযোগমন্ত্রী যাওয়ার কারণে সড়কটি মেরামত করা হয়েছিল।

সড়কটি ৩ বছরও টিকেনি। তাছাড়া সড়কটিতে যান চলাচলের উপযোগী করতে মীর মঈন হোসেন রাজীব নামে এক যুবলীগ নেতা নিজ উদ্যোগে কয়েক দফা গোড়াই এলাকায় ওই স্থানে ইট ও বালু ফেলে সংস্কার কাজ করেন।
এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যান্যরা জানান, সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে যাত্রীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের বেগুন চাষীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

ঢাকা থেকে পাইকাররা না আসায় তারা কম দামে বেগুন বিক্রি করছেন বলে কৃষক হালিম, আলমগীর, ফেরদৌস পাহাড়ী, ফরহাদ হোসেন জানান। তারা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

আজগানা ইউপি চেয়ারম্যান রফিক শিকদার বলেন, গোড়াই-সখীপুর সড়কটির পাশ খুব কম। দু’টি গাড়ি পার হওয়ার সময় সড়কের দুই পাশের কার্পেটিং ধসে পড়ে। পরে সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে। ভারি বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

হাটুভাঙ্গা ব্রিজের ইজারাদার আতিকুল ইসলাম শিকদার ও হালিম শিকদার বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বাঁশ ও কাঠের ট্রাকসহ মাল ভর্তি যানবাহন নলুয়া, বাসাইল, সখীপুরের বড়ডোবা হয়ে গাজীপুর দিয়ে বেড়িয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে। যানবাহনগুলো এই সড়কে চলাচল না করায় ইজারাদাররা বিপাকে পড়েছেন।

প্রতিদিন যেখানে ৩০/৩৫ হাজার টাকা কালেকশন হতো সড়কটি বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় প্রতিদিন ৪/৫ হাজার টাকা কালেকশন হচ্ছে। তাছাড়া যে টাকায় ইজারা নিয়েছেন তার অর্ধেক টাকাও তুলা সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাহবুব হোসেন সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, ভারী যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সড়কটির এই করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া গোড়াই এলাকায় মিল কারখানাগুলোর পানিও সড়কে জমে থাকায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ ছাড়া স্থানীয় এমপি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেনের প্রচেষ্টায় ২৭ কিলোমিটার এই সড়কটি সংস্কারের জন্য ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বরাদ্ধ হয়েছে। চট্টগ্রামের ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছেন।

তিনি গোড়াই এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে রিজেক্ট ট্রিটমেন্ট (সংস্কার) কাজ শুরু করেছেন। পর্যায়ক্রমে ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৬ মিটার এলাকায় রিজেক্ট ট্রিটমেন্ট এবং বাকি সড়কটিতে ওভারলে (মেশিনের দ্বারা) কার্পেটিং করা হবে বলে তিনি জানান।