• আজ রবিবার। গ্রীষ্মকাল, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। বিকাল ৩:৩৭মিঃ

নবীগঞ্জে এক অসহায় ধর্ষিতা নারীর আকুতি-

১২:১৩ অপরাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ২১, ২০১৬ অপরাধ, আলোচিত, স্পট লাইট

নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা ।।
নবীগঞ্জ উপজেলার এক পল্লীতে গৃহবধুকে জোর পুর্বক তিন দিন আটক রেখে গণ ধর্ষন করে গত বুধবার গভীর রাতে নবীগঞ্জ- হবিগঞ্জ সড়কের পুকড়া এলাকার নির্জন স্থানে ফেলে দিয়েছে নরপশুরা।

ধর্ষিতা গৃহবধু (১৭) হাটতে হাটতে ওই সকালে নবীগঞ্জ হাসপাতালে এসে পরিচিত লোকের মাধ্যমে বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে ধর্ষিতার মা, বাবাসহ স্বজনরা হাসপাতালে এসে তাকে উদ্ধার করে বুধবার রাতে ধর্ষিতা নিয়ে থানায় আসেন। ওসি (তদন্ত) কামরুল হাসানের নিকট ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। রাতব্যাপী থানায় থেকে বৃহস্পতিবার সকালে লিখিত অভিযোগ গ্রহন করে পুলিশ। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় রাত ৮ টার দিকে ধর্ষিতা গ্রহবধু তার মা’কে নিয়ে থানায় আসেন। রির্পোট লেখা পর্যন্ত কার্যকপ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় অসহায় হয়ে বৃদ্ধ মা তার ধর্ষিতা মেয়ে’কে নিয়ে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কেঁদে কেদেঁ বাড়ি ফিরলেন। এ সময় তারা সাংবাদিকদের বলেন, বিচারের বাণী কি নীরবে নিভৃতি’তে কাদেঁ, নাকি মনুষ্যত্ব হার মানবে পশু শক্তির হাতে ?

নির্যাতিত ধর্ষিতা ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, উপজেলার করগাওঁ ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামের অসহায় গোপি দাশের স্কুল পড়–য়া মেয়ে অন্তরা রানী দাশকে দীর্ঘদিন ধরে উত্তোক্ত করতো একই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের প্রভাবশালী কাচা মিয়ার বখাটে ছেলে নাজিমুল উদ্দিন। তার যন্ত্রনায় সহ্য করতে না পেরে প্রায় ২ মাস আগে অন্তরা রানী দাশ’কে উপজেলার ভাকৈর গ্রামের লিটন দাশের সাথে বিবাহ দেয়া হয়।

গত ১৬ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যা রাতে অন্তরা রানী দাশ প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা লম্পট নাজিমুল একই গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান জোর পুর্বক অপহরণ করে বেগমপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মিয়ার বাড়িতে আটক রেখে জোর পুর্বক ধর্ষন করে। এদিকে স্ত্রী না পেয়ে স্বামী লিটন দাশ শশুড় বাড়িতে খবর দেয়। শশুড় বাড়ির লোকজন সম্ভাব্য সকল স্থানে খোজাঁখুজিঁ করে না পেয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে নবীগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন গৃহবধুর পরিবার। এ খবর পেয়ে লম্পট নাজিমুল ও মিজানুর মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে মুখ বেধেঁ গৃহবধু অন্তরা রানী দাশকে পুকড়া নামকস্থানে পেলে দিয়ে চম্পট দেয়।

ধর্ষিতা মহিলা পা’য়ে হেটে বুধবার সকালে নবীগঞ্জ হাসপাতালে পৌছে। এখান থেকে বাড়িতে খবর দিলে লোকজন হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ধর্ষিতা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে রেফার করেন। এদিকে ধর্ষিতা গৃহবধু বৃহস্পতিবার রাতে নবীগঞ্জ থানায় গিয়ে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। পুলিশ লিখিত অভিযোগ দিতে বললেও রাতে অভিযোগ নেয়া হয়নি। ফলে রাত্রি যাপন করেন ধর্ষিতা গৃহবধু, তার বৃদ্ধ মা ও স্বজনরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অভিযোগ গ্রহন করে থানা পুলিশ। কিন্তু কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় রাতে আসেন দরখাস্তের খবর নিতে। কোন ফল হয় নি। শুক্রবার সকালে আসার কথা বলে বিদায় দেয়া হয় তাদের। ধষিতা পরিবারের অভিযোগ প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে পুলিশ তাদের মামলা না নিয়ে কালক্ষেপন করছে। তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনাসহ ধর্ষনকারীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানান।