তামিম-মুশফিক নৈপুণ্যে দ্বিতীয় দিনটিও বাংলাদেশের

৬:০৭ অপরাহ্ন | শুক্রবার, অক্টোবর ২১, ২০১৬ খেলা

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক – ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে বল হাতে চমক উপহার দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার স্পিন ঘূর্ণিতে প্রথম দিনটি ছিল বাংলাদেশের।

বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও নিজেদের প্রথম ইনিংসে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে শেষদিকে মুশফিকুর রহিমের উইকেটটি না পরলে বেশ ভালো ভাবেই আগামী দিনটি শুরু করতে পারতো টাইগাররা দিনের খেলা শেষ হতে বাকি ছিল আর মাত্র তিন ওভার। এদিকে নিজের হাফ সেঞ্চুরির জন্য দলীয় অধিনায়ক মুশফিকের দরকার ছিল মাত্র ২ রান। কিন্তু শুক্রবার শেষ বেলায় এসে চাপ নিতে পারলেন না মুশফিকুর রহিম।দিনের ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার বেন স্টোকসকে যেন দিনের শেষের দিকে নিজের উইকেটটি বিলিয়ে দিয়ে আসলেন মুশফিক। চাপে ভেঙ্গে পড়ে ব্যক্তিগত ৪৮ রানেই সাজঘরে ফিরে গেছেন তিনি। ৭৭ বলে ৬টি চারে এই ইনিংস খেলার পর বেন স্টোকসের বলে জনি বেয়ারস্টোর হাতে তালুবন্দি হন মুশফিক।

চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২৯৩ রানের জবাবে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় দিন শেষে ৭৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান করেছে বালাদেশ।

চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটি আসে ওপেনার তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে। শুরুতে নেমে ৭৮ রান করেনি তিনি। তাছাড়া মুশফিক ৪৮, মাহমুদউল্লাহ ৩৮ এবং সাকিব আল হাসানের অপরাজিত ৩১ রানে ভর করে ভালো অবস্থানে থেকেই দ্বিতীয় দিনটি শেষে করেছে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের ২৯৩ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুতে দেখেশুনেই খেলছিলেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। প্রথম ১০ ওভারে দুটি চার আসে ইমরুলের ব্যাট থেকে। তামিম তখনো বাউন্ডারি মারেননি। কিন্তু লাঞ্চের আগে মঈন আলীর এক ওভারেই ওলটপালট হয়ে যায় সবকিছু।

ওই ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইমরুল (৫০ বলে ২১)। টেস্টের আদর্শ ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত মুমিনুল ফেরেন তিন বল মোকাবিলা করে। রানের খাতা খোলার আগেই মঈনের বলে বেন স্টোকসকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই বাঁহাতি। দ্রুতই ২ উইকেট হারিয়ে তাই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ২৯।

এরপর তৃতীয় উইকেটে মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন তামিম। দুজনের ব্যাটে দলের স্কোর ১০০ পেরিয়ে যায়। তামিম তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৯তম টেস্ট ফিফটি।

tamim

চা বিরতির আগে আদিল রশিদের বলে স্লিপে জো রুটকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ। আর তাতে ভেঙে যায় ৯০ রানের বড় জুটি। ৬৬ বলে ৩টি চারে মাহমুদউল্লাহ করেন ৩৮ রান।

মাহমুদউল্লাহ ফেরার পর মুশফিকের সঙ্গে আরও একটি দারুণ জুটি গড়ে তুলেন তামিম। দুইজনে মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে তুলেন। শেষপর্যন্ত গ্যারেথ বেটির শিকার হয়ে সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই ফিরতে হয়েছে তামিমকে। আউট হওয়ার আগে ১৭৯ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৭৮ রানের ইনিংসটি সাজান বাহাতি ওপেনার তামিম।

এর আগে দ্বিতীয় দিন প্রথম ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ২৯৩ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। অভিষেকে ৬ উইকেট নিয়ে আলো ছড়িয়েছেন অফ স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।