• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আবারও আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কী? সোহেল তাজ!

৩:৩৫ পূর্বাহ্ন | শনিবার, অক্টোবর ২২, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, গুণীজন সংবাদ, দেশের খবর, ফিচার, সুখবর প্রতিদিন

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – এখন সারা দেশে  আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী তিন বছরের জন্য দল পাবে নতুন নেতৃত্ব। তবে সম্মেলনকে ঘিরে নানা আলোচনার মধ্যে যুক্ত হয়েছেন তাজউদ্দীন আহমদের একমাত্র পুত্র ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

সম্প্রতি তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাস, নতুন করে কাউন্সিলর হওয়া, সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে একান্ত বৈঠক, সম্মেলনস্থল পরিদর্শনসহ নানা কারণে এখন সোহেল তাজকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসলে কি রাজনীতিতে ফিরছেন, নাকি অন্য কিছু। অভিমান ভেঙে আওয়ামী লীগে সক্রিয় হচ্ছেন সোহেল তাজ এমন আলোচনাই এখন সর্বত্র। এদিকে সোহেল তাজের ঘনিষ্ঠরা জানায়,

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যখন দলটির ২০তম জাতীয় সম্মেলন নিয়ে ব্যাস্ত ঠিক সেসময় ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে হঠাৎ আলোচনায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

তার এই হঠাৎ স্ট্যাটাসে অনেকেই মনে করছেন আবারো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারেন রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের এই সন্তান।

দেশের মানুষের জন্য সময় ও শ্রম উৎসর্গ করবেন সোহেল তাজ। ফেসবুকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে সবার মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ চেয়েছেন তিনি।

গত ১৪ অক্টোবর,২০১৬ দেয়া স্ট্যাটাসে সোহেল তাজ লিখেছেন, ‘গত বেশ কিছুদিন ধরে দেশে আছি। আমি দেশের সবস্তরের মানুষের জন্য সত্যিকার অর্থে কিছু করার তাগিদ বোধ করছি।’

সবার জন্য সুযোগ ও সমঅধিকার নিশ্চিতে এ দেশের জন্ম হয়েছিল গণতন্ত্রের আকাঙ্খা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। এই স্বপ্নের জন্য আমরা হারিয়েছি লাখো মানুষ। অদম্য সাহস ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বপ্ন দেখেছি একটি স্বাধীন ও গর্বিত দেশের।’

taj

তিনি বলেন, ‘১৯৯৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাজনীতির মাধ্যমে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এই স্বপ্ন সত্যি করতে। এ সময়ে আমি দু’বার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাই। অনেক সামাজিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত থেকেছি। খ্যাতিমান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গেও আমি কাজ করেছি, যিনি তার জীবন উৎসর্গ করছেন সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে। কীভাবে দুর্ঘটনা রোধ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন তিনি।’

সোহেল তাজ বলেন, ‘সাধারণ মানুষের ভালো হবে, এমন কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজই আমাকে তৃপ্ত করে না। তাই সাধারণ মানুষের জন্য আমার সময় ও শ্রম উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আপনাদের সবার কাছে মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ চাইছি।’

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগ দিতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বুধবার ঢাকায় আসেন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ পাচ্ছেন বলেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমনটাই জানা গেছে। 

এদিকে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের একদিন আগে দলের শীর্ষ নেতার বাসায় সোহেল তাজের এমন উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অধিকাংশই মনে করছেন, সোহেল তাজের হঠাৎ এমন আগমন অভিমান ভেঙে রাজনীতিতে ফেরারই ইঙ্গিত।

সম্মেলনে আলোচনা রয়েছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীর মধ্যে তেমনি আলোচনা চলছে রাজনীতি সচেতন মানুষের মধ্যেও। কেউ কেউ ভাবছেন এবারে শেখ রেহানা আসছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে আবার কারও কারও ভেতরে আলোচনা তৃতীয় প্রজন্মের উত্তরাধিকারী সজীব ওয়াজেদ জয়কে ঘিরে। এমনকি শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান সিদ্দিকী ববিকে ঘিরেও আলোচনার ডালপালা ছড়াচ্ছে।

দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করেন, শেখ হাসিনার পরে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য কারও নেতৃত্বে আসতে হলে উৎকৃষ্ট সময় এখনই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বয়সজনিত কারণেই শেখ হাসিনার পক্ষে আসন্ন মেয়াদের পরে আবারও দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তখন তার জায়গায় পরিবারটির মধ্য থেকে কাউকে আসতে হলে তারও তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগবে। সেদিক থেকে শেখ হাসিনা নেতৃত্বে থাকাবস্থাতেই তারা তৈরি হতে পারবেন।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি রাতে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে হঠাৎ উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সোহেল তাজ। এ সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে জড়িয়ে ধরেন। দুই বোন সিমিন হোসেন রিমি এমপি ও মাহজাবিন আহমেদ মিমিও তার সঙ্গে ছিলেন।

উল্লেখ যে, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের পুত্র  সোহেল তাজ চারদলীয় জোট সরকার আমলে রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় থেকে অনেকের নজর কাড়েন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিপুলভাবে বিজয় অর্জন করেন। সেসময় গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় সোহেল তাজকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এর পাঁচ মাসের মাথায় ২০০৯ সালেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।