• আজ বৃহস্পতিবার। গ্রীষ্মকাল, ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। রাত ১১:০১মিঃ

‘নয়া নেতৃত্ব’ আর একগাদা চমকের অপেক্ষায় বাংলাদেশ !

⏱ | শনিবার, অক্টোবর ২২, ২০১৬ 📁 Breaking News, ফিচার, সাফল্যের বাংলাদেশ, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা-

আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হচ্ছে দেশের প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। দলটির ৬৭ বছরের ইতিহাসের এই প্রথমবারের মতো এত জাঁকজমকভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলন উপলক্ষে দলটির সব জেলা কার্যালয়ও সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। তবে হঠাৎ করে সাধারণ সম্পাদক পদের পরিবর্তনের গুঞ্জনে প্রস্তুতির সঙ্গে নেতা-কর্মীদের মধ্যে কে কোন পদ পাচ্ছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। পুরো সম্মেলন ঘিরে মূল আকর্ষণ নতুন নেতৃত্বে কারা আসছে।

কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? আশরাফ না কাদের? কাদের না সোহেল তাজ? সম্মেলনকে সামনে রেখে এটি এখন দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোটি টাকার প্রশ্ন হয়ে দাড়িঁয়েছে।

ban-a

দলীয় নেতারা বলেছে, কমিটি হবে নির্বাচনমুখী। থাকবে চমক। সূত্র বলছে,আওয়ামী লীগের আগামী দিনে সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা চূড়ান্ত তার বিকল্প এখনো দলে তৈরি হয়নি বলে মনে করেন নেতারা। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কে হবেন পরবতী সম্পাদক? সৈয়দ আশরাফ নাকি ওবায়দুল কাদের না কি সোহেল তাজ ! তা নিয়ে চলছে অনেক গুঞ্জন।

দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার বৈঠক শেষে সভাপতিম-লীর সদস্য, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শেখ হাসিনা কাদেরকে উদ্দেশ্য করে তৃণমূল পর্যায়ে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকার কথা বলেন। পরে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় উল্লসিত অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায় কাদের-সমর্থকদের।

আগামীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কারা আসবে সেটা আমি আর নেত্রী (শেখ হাসিনা) ছাড়া কেউ জানে না। নতুন চকম কি থাকবে সেটা শুধু আমরাই জানি।শুক্রবার সন্ধ্যায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলের আসা বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০০৯ সাল থেকে এই পদে আছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার আগে তিনি তার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে জাতীয় চার নেতার এক ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজের সঙ্গে বৈঠক করেন। এটিকে আশরাফবিরোধীরা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকে ঠেকানোর কৌশলী ট্রাম্পকার্ড হিসেবে দেখছেন।

asraf

এই আওয়ামীলীগের সম্মেলনে যে সিদ্ধান্ত নেয় সেটা হয় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত । এই আওয়ামীলীগই একদিন সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আমরা বাংলাদেশকে স্বাধীন করবো এবং স্বাধীন করেই ছেড়েছে ! একদিন আওয়ামীলীগের সম্মেলনেই দাবী উঠেছিলো রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, সেই রাষ্ট্রভাষা বাংলা কায়েম করা হয়েছে ।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৈয়দ আশরাফ এশিয়ার দুই পরাশক্তি দেশের মধ্যে একটি দেশের বিশ্বস্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিণত হওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না অন্য পরাশক্তির দেশটি। এ ছাড়া দলীয় রাজনীতিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাদেরকে দেখতে নির্দিষ্ট একটি পরিবার পক্ষের চাপ আছে বলেও গুঞ্জন ও আলোচনা আছে আওয়ামী ঘরানায়।

দলীয় নেতারা আরও জানান, বুধবারের এই ঘটনার পর থেকে ওবায়দুল কাদেরসহ তার সর্মর্থকদের মধ্যে এ ধরনের উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। ওবায়দুল কাদেরও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডি-৩ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিরন্তর ছুটে চলছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সম্মেলনস্থল পরিদর্শন শেষে রাত সাড়ে দশটার দিকে সভাপতির কার্যালয়ে আসেন। এ সময় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাকে হুড়োহুড়ি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।

obaidul

এ ব্যাপারে শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনস্থলে মঞ্চ ও প্যান্ডেল প্রস্তুতির কার্যক্রম পরিদর্শন করতে এলে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, `‘এখনই কিছু বলতে চাই না। আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবে।’

এদিকে বরাবরেই মতোই নিভৃতচারী সৈয়দ আশরাফের এখনো কোন প্রতিক্রিয়া বা অভিব্যক্তি নেতা-কর্মীরা জানতে না পেরে কিছুটা উদ্বেগ ও আশঙ্কা করছেন। যার গুঞ্জন চলছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডি ৩/এ পর্যন্ত। সৈয়দ আশরাফ ও কাদেরের এই পদের অদৃশ্য লড়াই টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার দ্বিতীয়বার শপথ নেওয়ার পর নিজের পুরোনো দপ্তর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে এক সভায় কারও নাম উল্লেখ না করে কাদেরের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, লাফালাফি করা, সাংবাদিকদের হাতে নেওয়া, হাতে তালি পাওয়া, মিডিয়াকে উপস্থিত করাই যদি মূল উদ্দেশ্য হয়- তাহলে প্রতিদিনই আমরা ব্রিজ-কালভার্ট দেখতে যেতে পারি।

shohel-taj

অপরদিকে, আগে থেকে আলোচনার র্শীষে থাকা সোহেল তাজকে গাজীপুর থেকে কাউন্সিলর করা হয়েছে। সোহেল তাজ হলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তাজউদ্দীন আহমদের একমাত্র ছেলে। যিনি সরকারের গত মেয়াদে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সোহেল তাজের ঘনিষ্টরা জানান, বুধবার ভোরে তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি বিমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় আসেন সোহেল তাজ। ঢাকা নেমে তিনি বড় বোন সিমিন হোসেন রিমি এমপির বারিধারার বাসায় ওঠেন। তারাও জানান, সোহেল তাজ জরুরি তলবে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের গ্রিন সিগন্যালেই দেশে ফেরেন। তাকে ঘিরে আওয়ামী পরিবারে যে গুঞ্জন ছিল, তা ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। যে কারণে গত ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন সোহেল তাজ। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ছিলেন তার বোন মেহজাবিন আহমদ মিমি ও সিমিন হোসেন রিমি। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সাক্ষাৎ হয়। ওখানে শেখ হাসিনা সোহেল তাজকে রাজনীতে ফেরার ইঙ্গিত দেন।

এবারের সম্মেলনের স্লোগান তৈরি করা হয়েছে অনেক আগেই। ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত হবে সম্মেলন। সম্মেলনের প্রথম দিন আজ শনিবার হবে উদ্বোধনী অধিবেশন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকাল ১০টায় বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দলের ২০তম সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামীকাল রবিবার সকাল ১০টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বসবে দলটির কাউন্সিল অধিবেশন। এখানেই ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের সংযোজন-বিয়োজন হবে। দলের তৃণমূলের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা। এই অধিবেশনেই নির্বাচিত হবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তবে অধিবেশনটি হবে রুদ্ধদ্বার। সেখানে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার থাকবে না।

১৯৬৭ থেকে ২০১৬ : ১৯৬৭ সালের আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৯ টি জাতীয় সম্মেলন হয়েছে আওয়ামী লীগের। এখন পর্যন্ত সভাপতি হয়েছেন সাতজন। এর মধ্যে বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ সাতবার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তিনবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুইবার এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও আবদুল মালেক উকিল একবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন একবার নির্বাচিত হয়েছেন দলের আহ্বায়ক।

awamileg-20-sommelon-bangladesh

এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ৯ জন। সবচেয়ে বেশি চারবার করে হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিল্লুর রহমান। এছাড়া তাজউদ্দিন আহমেদ তিনবার, আবদুর রাজ্জাক ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দুইবার করে, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং আবদুল জলিল একবার করে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।