• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে ছেলের ভাতা আত্মসাত

৪:১৬ অপরাহ্ন | শনিবার, অক্টোবর ২২, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

মোঃ আবু সাইদ খোকন, বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার চামোপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আঃ মজিদ হাওলাদার। তার অতিরিক্ত গেজেট নং ১৯০৬। তিনি ২০০৮ সালের ১২ জানুয়ারি মারা যান। নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রীর (জীবিত থাকলে) ভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা আঃ মজিদের ছেলে সরকারি চাকুরিজীবী নিম্নমান সহকারি (ইউএনও অফিস, বেতাগী) মোঃ হুমায়ুন ছগির তার মা মোসা: ছফুরা বেগমকে মৃত দেখিয়ে তথ্য গোপন করে অন্যায়ভাবে টাকা উত্তোলন করে আসছে।

borguna

অনুসন্ধানে জানা যায়, অগ্রণী ব্যাংক তালতলী বাজার শাখার ৯৪৩৫ নং একাউন্টের মাধ্যমে ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১৬ সালের এ পর্যন্ত অন্যায়ভাবে টাকা উত্তোলন করে আসছে ছগির। তালতলী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম আলী হাওলাদার জানান, ‘হুমায়ুন ছগির তার মাকে মৃত দেখিয়ে তথ্য গোপন করে টাকা উত্তোলন করছে। এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছিলো।

তবে তার বড় ভাই হুমায়ুন কবির মেজ ভাই হুমায়ুন ছগিরের চাপে পড়ে লিখিত অভিযোগটি ফিরিয়ে নিয়ে যায়। যখন সে অবৈধ পন্থায় টাকা উত্তোলন করে, তখন আমাদের (মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও উপজেলা) নির্বাচন হওয়ার কারণে আমরা দায়িত্বে ছিলাম না। ওই সময়টায় দায়িত্বে ছিলেন বরগুনা জেলা প্রশাসক ও তালতলীর ইউএনও। আমরা নিয়ম অনুযায়ী অসহায় মহিলাকে সাহায্যের জন্য আইনের আশ্রয় নেব।’ অসহায় ছফুরা বেগম জানান, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমার কোনো খোঁজ খবর নেয়নি অথচ আমার স্বামীর ভাতা অন্যায়ভাবে আত্মসাত করছে। আমার অনেক বয়স হয়েছে, আমি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, বেশিরভাগ সময় অসুস্থ থাকি, ডাক্তার দেখাতেই পারি না, ঔষুধতো দূরের কথা।

সরকারের কাছে আবেদন স্বামীর শেষ সম্বল ওই ভাতাটা অন্তত আমি যেন পাই। তিনি আরো জানান, ডিসি ও ইউএনও সাহেবের কাছে দরখাস্ত করেছিলাম। কিন্তু আমার ছেলের অনেক ক্ষমতা তাই কোন কাজ হয়নি। নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, হুমায়ুন ছগির একজন প্রভাবশালি, বিত্তবান ও ধূর্ত লোক। তার অবৈধ টাকা দিয়ে যখন যা খুশি তাই করে। হুমায়ুন ছগির তার মাকেও মেরে ফেলতে পারে। কেননা মা বেঁচে থাকতেই তাকে মৃত দেখিয়েছে। তাই এই অসহায় মহিলার কোন নিরাপত্তা নেই। আমরা কিছুদিন আগে ছফুরা বেগমকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। হুমায়ুন ছগির আমাদের বিভিন্নভাবে হামলা ও মামলার ভয় দেখিয়েছে। তাই আমরা সামনে এগোতে পারিনি।

এ ছাড়াও ছফুরা বেগম তার বড় মেয়ের বরগুনার বাসায় ছিলো। অভিযুক্ত হুমায়ুন ছগিরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। জেলা প্রশাসক ড: মুহা: বশিরুল আলম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমি এ ব্যাপারে আগে অবগত ছিলাম না। এখন জানলাম ঘটনার সত্যতা পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।