• আজ শুক্রবার। গ্রীষ্মকাল, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। দুপুর ২:০৮মিঃ

ভারতে মুসলিম তিন তালাক পদ্ধতির বিরুদ্ধে এক নারীর বিদ্রোহ ,চলছে তুমুল বিতর্ক

⏱ | রবিবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৬ 📁 আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –  “তোমাকে আর ভালো লাগে না”এটা কিভাবে তালাকের কারণ হতে পারে? আমি এই তিন তালাক পদ্ধতি মানবো না”।ভারতের পুনের বড়মাটি ১৮ বছর বয়সী আরশিয়া বাগওয়ান “অনৈতিক তালাকের” কাছে মাথা নত না করার ঘোষণার প্রেক্ষিতে, কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন সিভিল ’ল গঠনের প্রক্রিয়ায় রাজ্য জুড়ে হইচই পড়ে গেছে। 

tin-talak

যেখানে বিশ্বের ২২টি দেশ এই ইসলামী আইন মানে না, সেখানে কিভাবে ভারতের মত দেশে এই আইন অনুসরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন এই তরুণী।
বর্তমানে এই তরুণী তার পড়াশুনা চালিয়ে যাবার পাশাপাশি সেই সব মেয়েদের নিয়ে কাজ করতে চায় যারা এই ধরণের আইনের শিকার আরশিয়া বাগওয়ান পুনে মিরর কে বলেন, “ষোল বছর বয়সে আমার বিয়ে হয়ছে,আমার বরপক্ষ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সত্তেও আমার পরিবারকে যৌতুক দিতে হয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন,তার শ্বশুর-শাশুড়ি দুইজনেই পরকীয়ায় জড়িত,এমন কি যখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন তখনও তার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করা হতো।
তিনি আরো বলেন, “আমার বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় আকস্মিক তালাকনামার নোটিশ পেয়ে আমি খুব অবাক হয়েছিলাম, যেখানে তালাকের কারণ হিসেবে বলা ছিলো তোমাকে আমার আর ভালো লাগে না।আমি সাথে সাথে আমার বরকে ফোন করে বলি তোমার পরিবার ছাড়া তোমার সাথে আমার কোন ঝামেলা নাই।আমি তালাকনামা গ্রহণ করবো না, আমরা আলাদা বাসা নিয়ে থাকবো।”
তার ৮ মাসের বাচ্চার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত আরশিয়া বলেন, এখন আমি কি করবো , কি হবে এই বাচ্চা আর আমার ভবিষ্যৎ? ” অন্য দিকে আরশিয়ার মা নাসরিন মুসলমান সমাজের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “এখন কেউ আমাদের সহযোগিতা করছে না । আমরা ১৬ বছর বয়সে ওকে বিয়ে দিয়ে অনেক বড় ভুল করেছি।” তিন তালাকের বিরুদ্ধে পুরো রাজ্য জুড়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। অনেক মুসলিম নারী হাই কোর্ট এ জনস্বার্থে মামলা করেছেন।
“মুসলিম সত্য সাধক ম-লে’র সভাপতি শামসুদ্দিন তাম্বুলী বলেন, “যেহেতু ভারতের সংবিধান নারীদের অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, সেহেতু মুসলিম নারীদের এই সুযোগ গ্রহণ করা উচিৎ। যদি আইন সংশোধন করা না হয় তাহলে জাত পঞ্চায়েত এবং জামাতের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না। ”
পুনের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন এর’ সংখ্যালঘুদের শিক্ষা বিভাগের প্রধান রাজিয়া প্যাটেল বলেন,এটা নিয়ে রাজনীতি না করে তাদের অভিযোগগুলো আমলে নেয়া উচিৎ, যাতে কোন মতেই এই ইস্যুটি হারিয়ে না যায় । যখনই আইন সংশোধন এর কথা আসে তখনই ধর্মান্ধরা এর বিরোধিতা করে। এমনকি হিন্দু মহিলারাও তাদের সকল অধিকার ভোগ করতে পারে না।”
প্রায় ৫২টি ইসলামী বইয়ের লেখক ও ধর্মীয় বক্তা আনিস চিশতী বলেন,”এটা নতুন কিছু নয়, এর আগেও এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। মুসলমান জনগোষ্ঠী আইন পরিবর্তনের পক্ষপাতি নয়। ব্যক্তিগত আইন ব্যক্তিগতই থাকা উচিৎ এমন কি উপজাতিদেরও তাদের নিজস্ব আইন আছে, আর সেটা নিয়ে কারো সমস্যা হচ্ছে না । দারিদ্র, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার মতো সমস্যা নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত।”

টাইমস অব ইন্ডিয়া