• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সিনেমায় নয় এবার বাস্তবেই ভয়ানক অস্ত্র “মৃত্যু রশ্মি” বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগালো রাশিয়া !

৮:১১ অপরাহ্ন | রবিবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৬ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্পট লাইট

ডেথ রে

ইসতিয়াক আহমেদ, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

বিভিন্ন হলিউডি সিনেমায় আমরা দেখেছি নায়ক লেজার অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভস্ম করে দিচ্ছে। এ ধরণের অস্ত্র এতদিন কাল্পনিক থাকলেও আজ তা বাস্তব। কারণ রাশিয়ার ইউনাইটেড ইন্সট্রুমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং করপোরেশনের গবেষকরা তৈরী করেছেন “ডেথ রে”। বাংলায় যাকে বলে “ মৃত্যু রশ্মি”। এটি আক্ষরকভাবেই মৃত্যু রশ্মি। কারণ এটি মুহূর্তের মধ্যেই ভস্ম করে দিতে পারে লক্ষ্যবস্তুকে।

“ডেথ রে” আসলে একটি মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র। এই ধরণের অস্ত্রকে “ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপুন” সংক্ষেপে ডিইডাব্লিউ (DEW) বলা হয়। আগেও এধরণের বিভিন্ন অস্ত্র তৈরী হয়েছে। তবে “ডেথ রে” সম্পূর্ণ মৌলিক এবং পৃথিবীতে এই অস্ত্র প্রথমবার তৈরী হল। “ডেথ রে” এর গঠনকৌশল আলোক রশ্মিকে ঘিরে।

এই অস্ত্রে আশেপাশের বিভিন্ন রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত করার ব্যবস্থা আছে।খুবই সঙ্গবেদনশীল হওয়ায় খুব দুর্বল তরঙ্গও শনাক্ত করতে পারবে এটি।  যদি আকাশে কোন ড্রোন বা এই জাতীয় কিছু পাওয়া যায় তখন “রিফ্লেক্টর এন্টেনা” এর সাহায্যে লক্ষ্যবস্তুকে ফোকাস করা হয়। এরপর একটা ট্রান্সমিশন সিস্টেম লক্ষ্যবস্তুর দিকে রশ্মি নিক্ষেপ করে। এরপর আলোর গতিতে “ডেথ রে” লক্ষবস্তুতে আঘাত করে। এবং লক্ষবস্তুকে আক্ষরিকভাবেই পুড়িয়ে ভাজা ভাজা ফেলে।এটা ০.৬ মেইল দূর থেকেও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। যদিও ০.৬ মাইল খুব বেশি দুরত্ব নয়। তবে গবেষকরা চেষ্টা করছেন এর সীমা বৃদ্ধি করতে। খুব দ্রুতই গবেষকরা এই সীমার মান বাড়াতে সক্ষম হবেন।

রাশিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে থাকা ইগোর করশেঙ্কো বলেন, “যদিও অস্ত্রটির কাররকর সীমা এখনো খুব বেশি নয়। তবে আমরা আশাবাদী যে এই অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

“ডেথ রে আসলে খুব কার্যকরী অস্ত্র হতে যাচ্ছে।“ ১৪ ই অক্টোবর প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে এরকমই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগেও এধরণের অস্ত্র তৈরীর চেষ্টা করা হয়েছে। আমেরিকা বেশ কয়েকবার এধরণের অস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে। এর কোনটাই ডেথ রে এর মতন কার্যকরী নয়। কারণ, ডেথ রে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে নিখুতভাবে আঘাত করতে সক্ষম যা অন্যান্য অস্ত্র করতে পারত না। আমেরিকা অনেক যুদ্ধে এরকম অস্ত্র ব্যবহার করলেও সেগুলো আদতে কোন কাজেই আসেনি। তবে রাশিয়ার দাবি, তাদের অস্ত্র আগে তৈরী অন্য যেকোন ডিইডাব্লিউ অস্ত্র থেকে কার্যকরী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি রাশিয়ার এই দাবি সত্যি হয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আমেরিকার তুলনায় কয়েক পা এগিয়ে যাবে রাশিয়া।  ইউএস সেনাবাহিনীর ড্রোন বা নজরদারী বিমান ধ্বংস করতে ডেথ রে খুবই কার্যকরভাবে কাজ করবে বলে আশা করছে রাশিয়া।

যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র হিসেবে “ডেথ রে” কতটা কার্যকর হবে তা এখনো বলার উপায় নেই। তবে নিঃসন্দেহে রাশিয়ার তৈরি ডেথ রে সম্পূর্ণ নতুন ধরণের এক অস্ত্র।