• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে ৪৯ শিক্ষার্থীকে জঙ্গী বানানোর হুমকি দিলেন প্রধান শিক্ষক !

৯:১৪ অপরাহ্ন | রবিবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর, শিক্ষাঙ্গন, স্পট লাইট

মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট-

পরীক্ষার ফি জমা দিয়েও এসএসসির টেষ্ট পরীক্ষায় অংশ দিতে দেয়া হয়নি ৪৯জন শিক্ষার্থীকে। উপরন্ত ওইসব শিক্ষার্থীকে জেএমবি হিসেবে চিহিৃত করার হুমকি দেয়া হয়েছে। আজ রোববার (২৩ অক্টোবর) নীলফামারী সদর উপজেলার দুহুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন এভাবেই হুমকি দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছেন।

4466464বিগত ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত নীলফামারী সদর উপজেলার দুহুলী উচ্চ বিদ্যালয়টি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আগামী ২০১৭ সালে এ বিদ্যালয় থেকে ৭৪জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। উপবৃত্তি সুবিধা ভোগকারী ২৭জনের মধ্যে ২৫জন টেষ্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অবশিষ্ট ৪৯জন উপবৃত্তি সুবিধা বঞ্চিতরা যথারীতি টেষ্ট পরীক্ষার ফি যথাসময়ে পরিশোধ করেছে। তারা কয়েকটি পরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছে। আজকের পরীক্ষায় হঠাৎ করে প্রধান শিক্ষক মাসিক বেতনের নামে দেড় হাজার থেকে তিন হাজার পর্যন্ত টাকা বিদ্যালয়ে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা জারী করেন। এতে শিক্ষার্থীরা পড়েন চরম বেকায়দায়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কক্ষে গিয়ে বসলে তাদেরকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে বের করে দেয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষক তাদের নাম জেএমবি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

আজ সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা অস্বস্তিকর অবস্থায় মাঠে এলোমেলা হাটাচলা করছে। তাদের চোথে মুখে ষ্পষ্ট চরম হতাশা আর আতঙ্কের ছাপ। পরীক্ষা দিতে না পেরে তারা রয়েছে চরম উৎকন্ঠায়। উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় তারা হয়ে পড়েছে দিশেহারা। এ সময় কথা হয় শিক্ষার্থী মর্তুজা আহমেদ, হাবিবা আখতার মুক্তা, ফরহাদ হোসেন, বিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসানসহ আরও অনেকের সাথে।

তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক শুরুতেই বলেছিলেন তোমাদের মাসিক বেতন দিতে হবে। তোমরা ভালভাবে লেখাপড়া করে ভাল ফলাফল এনে দিবা। যাতে বিদ্যালয়ে সুনাম হয়। আমরা সকলে পরীক্ষার ফি দিয়েছে। পরীক্ষাও দিয়েছি কয়েকটি। কিন্তু হঠাৎ করেই আজ আমাদের পরীক্ষা দিতে দেয়া হলো না। আমাদের কাছে দাবী করা হলো দেড় থেকে তিন হাজার টাকা। টাকা দিতে না পারায় পরীক্ষার রুম থেকে বের করে দেয়া হয়।
এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন আমাদেরকে জঙ্গী তালিকাভুক্ত করে ওই তালিকা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর হুমকি দেন। আমরা এর বিচার চাই। আমরা ছাত্র। আমরা জঙ্গীর কী বুঝি। তাহলে আমাদের প্রধান শিক্ষকের জঙ্গীদের সাথে কোন গোপন সম্পর্ক রয়েছে। তা না হলে তিনি একথা বলেন কী ভাবে।

প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বর-কে বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের বলেছি মাসিক বেতনের টাকা তোমাদের দিতে হবে। টাকা না দিলে তোমরা কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেনা। আর এ পরীক্ষায় অংশ না নিলে পরবর্তী আর কোন পরীক্ষায় তোমরা অংশ নিতে পারবে না। তোমরা খারাপ আচরন করলে জঙ্গী তালিকায় তোমাদের নাম দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বর-কে বলেন, যেহেতু শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফি জমা দিয়েছে সেহেতু তাদের পরীক্ষা নেয়া বাধ্যতামূলক। বেতনের জন্য পরীক্ষা না নেয়া একটি গুরুতর অভিযোগ। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।