সুন্দরবনে শিশুদের কয়েকটি দাস শিবিরের সন্ধান দিল স্যাটেলাইট

২:১৬ পূর্বাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ Breaking News, স্পট লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক – সুন্দরবনে শিশুদের কয়েকটি দাস শিবিরের সন্ধান দিল যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কেভিন বেলস । তিনি  স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে  এসব অস্থায়ী শিবিরের সন্ধান পেয়েছেন বলে দাবী করেছেন । ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।

das-sibir

স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে  সুন্দরবন ন্যাশনাল পার্কের ১ হাজার ৩৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার পুরনো ও নতুন ছবি থেকে অধ্যাপক বেলস এসব প্রকল্পের অবস্থান শনাক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছবিতে যে সব ভবন দেখা গেছে সেগুলো সত্যিকার অর্থে কোনও ভবন নয়, বরং বড় বড় তাক যাতে শিশুশ্রমিকদের থাকতে দেওয়া হয়।’

অধ্যাপক বেলসের দাবি, তার কাছে প্রমাণ রয়েছে যা থেকে জানা গেছে, শুটকি প্রকিয়াকরণ প্রকল্পগুলোতে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের দিয়ে কাজ করানো হয়।  অনেক শিশুই কঠোর পরিশ্রম, মানবেতর জীবনযাপন ও খাবারে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছে। এ ছাড়াও শিশুরা রোগশোক, যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে বলেও জানান বেলস।

অধ্যাপক জানান, অন্তত ৯ জনের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন যারা ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ওইসব অস্থায়ী শিবির থেকে পালিয়ে এসেছে। এ ছাড়া শিবিরগুলো স্থাপনের জন্য সংরক্ষিত এলাকার বনভূমি উজাড় করা হয়েছে, যা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বেলস বলেন, ‘এশিয়ার সবচেয়ে বড় কার্বন শোষণের স্থান এই বন। কিন্তু এই বন কেটে উজাড় করে ফেলা হচ্ছে। এই অরণ্য সমতলের মানুষকে ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দিতেও অপরিহার্য।’

বৃহস্পতিবার প্রফেসর বেলস এই প্রসঙ্গটি হাউজ অব পার্লামেন্টে উত্থাপন করবেন। তিনি আশা করছেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজরদারির জন্য একটি স্যাটেলাইট নিয়োজিত করা হবে।  তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি মানবাধিকার লঙ্ঘন, শিশুশ্রম ও দাসপ্রথা বন্ধ করতে হলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, ঘটনা ঘটার পরে নয়।’