সংবাদ শিরোনাম

খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট নিয়ে যা বললেন চিকিৎসক২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন কাদের মির্জাটাঙ্গাইলে ভন্ড পুরুষ কবিরাজ নারী সেজে যুবককে বিয়ে! অতঃপর…ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ঢাকা ভ্রমণ!শেরপুরের সেই শিশু রোকনের পরিবারের পাশে ইউএনও!কক্সবাজারে অস্ত্রসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতারকক্সবাজারে অনুপ্রবেশকারীর পক্ষ না নেয়ায়, আ’লীগ সভাপতিকে অব্যাহতি!শাহজাদপুরে ট্যাংকলরি সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১রমজান মাসে আলেমদের হয়রানি মেনে নেয়া যায় না: নুরুল ইসলাম জিহাদীখালেদা জিয়াকে পাকিস্তান-জাপান দূতের চিঠি

  • আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

জয় পেতে মোক্ষম কৌশলের কথা আগাম জানিয়ে দিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড!

১০:৪৯ পূর্বাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ Breaking News, খেলা, স্পট লাইট

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক-

আগে ভাগেই ঘোষণা দিয়ে রাখলেন ইংল্যান্ডের পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড,  শেষ দিন সকালে প্রচণ্ড চাপে রাখা হবে সাব্বিরকে।

সাব্বির রহমানের ব্যাটিংয়ে শুধু বাংলাদেশ নয় দারুন  মুগ্ধ প্রতিপক্ষও! সে কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েই প্রতিপক্ষ জানিয়েছে, ‘ এই মুগ্ধতায় বুঁদ হয়ে থাকলে তো হাতছাড়া হবে জয়! তাই আমাদের প্রথমেই খুজতে হবে সাব্বিরকে সরানোর কৌশল। ”

crick-bd

সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৮ উইকেটে ২৫৩ রান নিয়ে পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করবে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য শেষ দুই উইকেটে স্বাগতিকদের প্রয়োজন ৩৩ রান। বাংলাদেশের আশা হয়ে টিকে থাকা সাব্বির রহমান ৫৯ রানে ব্যাট করছেন। সঙ্গী তাইজুল ইসলাম ১১ রানে।

আজকের দিনের প্রস্তুতিতে স্টুয়ার্ট ব্রড মনে করেন, বাংলাদেশর দুটি ভুলই চট্টগ্রাম টেস্ট তাদের করে দেবে। অন্যদিকে, ১০-১৫ ওভার টিকে থাকলেই বাংলাদেশ জিতবে বলে মনে করেন প্রধান কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। পঞ্চম দিনে শিষ্যদের প্রথম ১০-১৫ বল দেখেশুনে খেলার পরামর্শ তার।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস (চতুর্থ দিন শেষে):

(লক্ষ্য ২৮৬) ৭৮ ওভারে ২৫৩/৮ (তামিম ৯, ইমরুল ৪৩, মুমিনুল ২৭, মাহমুদউল্লাহ ১৭, সাকিব ২৪, মুশফিক ৩৯, সাব্বির ৫৯*, মিরাজ ১, রাব্বি ০, তাইজুল ১১* ; ব্যাটি ৩/৬৫, মইন ২/৬০, ওকস ০/১০, রশিদ ১/৫৫, ব্রড ২/২৬, স্টোকস ০/১৫)।

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস:

(আগের দিন ২২৮/৮) ৮০.২ ওভারে ২৪০ (কুক ১২, ডাকেট ১৫, রুট ১, ব্যালান্স ৯, মইন ১৪, স্টোকস ৮৫, বেয়ারস্টো ৪৭, ওকস ১৯*, রশিদ ৯, ব্রড ১০, ব্যাটি ৩; মিরাজ ১/৫৮, সাকিব ৫/৮৫, তাইজুল ২/৪১, কামরুল ১/২৪, মাহমুদউল্লাহ ০/৬, শফিউল ১/১০)

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৪৮ (তামিম ৭৮, ইমরুল ২১, মুমিনুল ০, মাহমুদউল্লাহ ৮৫, মুশফিক ৪৮, সাকিব ৩১, শফিউল ২, সাব্বির ১৯, মিরাজ ১, তাইজুল ৩*, কামরুল ০; ব্রড ০/১২, ব্যাটি ১/৫১, ওকস ০/১৫, রশিদ ২/৫৮, মইন ৩/৭৫, স্টোকস ৪/২৬, রুট ০/৫)।

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৯৩ (কুক ৪, ডাকেট ১৪, রুট ৪০, ব্যালান্স ১, মইন ৬৮, স্টোকস ১৮, বেয়ারস্টো ৫২, ওকস ৩৬, রশিদ ২৬, ব্রড ১৩, ব্যাটি ১*; শফিউল ০/৩৩, মিরাজ ৬/৮০, কামরুল ০/৪১, সাকিব ২/৪৬, তাইজুল ২/৪৭, সাব্বির ০/১১, মাহমুদউল্লাহ ০/১৭, মুমিনুল ০/০)।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। শ্রীলংকার কিংবদন্তী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গার অধীনে টেস্ট ক্যাপ পরেছিলেন। এরপর আরেক কিংবদন্তী অরবিন্দা ডি সিলভার অধীনেও খেলেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে টেস্ট ম্যাচ খেলছেন মোট ২৬টি। নয় বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সময়ে অনেক অর্জনই রয়েছে এই লঙ্কান। তবে সবকিছু ছাপিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টকেই নিজের দেখা সেরা ম্যাচ বলে অভিহিত করলেন বাংলাদেশের কোচ।

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় টেস্ট ক্রিকেটের আসর রোমাঞ্চ। প্রথম দিনের প্রথম সেশনে মাত্র ২১ রানে তিন উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। এরপর কিছু প্রতিরোধ গড়ার পর আবারও খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। শেষদিকে ব্যাটসম্যানদের সফলতায় ২৯৩ রান করে সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসেও প্রায় একই চিত্র।

বাংলাদেশও তাদের প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান সংগ্রহ করেছিল। এরপর ঘুরে দাঁড়ায় ইংলিশরা। শেষ পাঁচ উইকেট তুলে নেয় তারা মাত্র ২৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসেও একই চিত্র। পাঁচ উইকেটে ২২৭ রান করার পর দ্রুতই তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছে ইংলিশ শিবির। শেষ দিনে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩৩ রান। অপরদিকে সফরকারীদের চাই দুটি উইকেট।

রোববার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে হাথুরু বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী অধিকাংশ সময় আমরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যাট করেছি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ভালো মানিয়ে নিয়েছি। তবে আমাদের উন্নতি করার আরও জায়গা আছে। আর এটাই টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ এবং সৌন্দর্য। এটা আমার দেখা অন্যতম সেরা ম্যাচ। আমি দুই দলের পারফরম্যান্সে অনেক সন্তুষ্ট।’

প্রতি মুহূর্তেই রঙ বদলানো রোমাঞ্চকর ম্যাচের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে হাথুরু বলেন, ‘অন্য জায়গায় আপনি যেভাবে ব্যাটিং করেন, এখানে সেভাবে ব্যাটিং করতে পারবেন না। সর্ব প্রথম কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। নতুন বল ছিল চ্যালেঞ্জিং এবং মাঝখানে বল যখন কিছুটা নরম হয় তখন ব্যাটসম্যানদের জন্য সহজ হয়। আমি গত তিন ইনিংসে এই চিত্রই দেখেছি। শেষ দিকে রিভার্স সুইংও হয়।’

প্রথম ইনিংসে টাইগাররা আরেকটু সাবধানী ব্যাটিং করলে হয়তো এতো বড় লক্ষ্য নাও পেতে পারতো বাংলাদেশ। তবে দারুণ রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ইংলিশরা এগিয়ে থাকলেও জয়ের স্বপ্ন দেখছেন হাথুরু। সাব্বির এবং তাইজুলের ব্যাটের উপরই ভরসা করে আছেন এ লঙ্কান।

এর আগে

ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা টিকে আছে এখনও। তবু ঘিরে ধরছে একটা আক্ষেপ, প্রথম ইনিংসের ৪৫ রানে লিড যদি না পেত ইংল্যান্ড! সেই আফসোস টেনে আনছে সাকিব আল হাসানের সেই শটটিও।

লিড পেতে তৃতীয় দিন সকালে সাকিবের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল দল। কিন্তু ৩১ রানে অপরাজিত সাকিব ফিরেছিলেন দিনের দ্বিতীয় বলেই। মইন আলিকে বেরিয়ে এসে তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পড।

সাকিবের বিদায়ের পরই ভেঙে পড়ে দলে ইনিংস। লিডের আশায় থাকা দল উল্টো ইংল্যান্ডকেই উপহার দেয় ৪৫ রানের লিড।

চতুর্থ দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনেও ফিরে এল সাকিবের আগের দিনের শট। কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহেও খুঁজে পাননি জুতসই ব্যখ্যা।

“আমি নিশ্চিত, আরও ভালো খেলার যথেষ্ট সুযোগ সাকিব ওই সময় নিজেকে দেয়নি। দিনের দ্বিতীয় বলেই অমন শট… তবে আমি নিশ্চিত, আমাদের সবার মতো, সাকিবও সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছে।”

বল হাতে পরে ৫ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। তবে ব্যাটিংয়ে বড় কিছু করতে পারেননি দ্বিতীয় ইনিংসেও। ফিরেছেন ২৪ রান করে।

বিপিএলের চূড়ান্ত সূচি

সম্ভাবনা, প্রত্যাশা ও সমীকরন

দেশের মাটিতে এ পর্যন্ত চারটি টেস্ট জয়ের দু’টিই হয়েছে চট্টগ্রামে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজ জিতে গেলে তৃতীয় টেস্ট জয়ের সাক্ষী হয়ে থাকবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের মাটিতে এই দুই দলের লড়াইয়ে রেকর্ডবুক অবশ্য অতিথিদেরই পক্ষে। এর আগে চট্টগ্রামে দু’টি টেস্ট হয়েছে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের। দু’টিতেই হেরেছে স্বাগতিকরা। তবে আজ মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার দিন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ী হওয়ার সুযোগ আছে বাংলাদেশের সামনেও। আজ আর মাত্র ৩৩ রান করলেই চট্টগ্রামে তৃতীয় টেস্ট জয়ের মাইলফলক গড়বে মুশফিকরা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গত চারটি টেস্টে অপরাজিত রয়েছে বাংলাদেশ। আজ জিতলে চট্টগ্রামে অপরাজেয় থাকার রেকর্ডটা আরো মজবুত হবে।

বাংলাদেশের অনেক গৌরবেরই সাক্ষী হয়ে আছে এই চট্টগ্রাম। টেস্ট ক্রিকেটে ইনিংসে পাঁচবার ৫ শতাধিক রান অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। এ রকম ঘটনা চট্টগ্রামেই ঘটেছে দু’বার। ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করে ৫০৩ রান। আগের বছর অর্থাত্ ২০১৩ সালের অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসেও বাংলাদেশ করেছিল ৫০১ রান। বাংলাদেশ ৩৫ বার টেস্টে ৩ শতাধিক রানের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। চট্টগ্রামে এটি হয়েছে ১৩ বার। যদিও টেস্টে বাংলাদেশের ম্যাচের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হয়েছে বিদেশের মাটিতে। তবে দেশে সর্বোচ্চ রান হয়েছে চট্টগ্রামেই। শ্রীলঙ্কার গলে টেস্টে ২০১৩ সালের মার্চে ১৬১৩ রান ও ১৯টি উইকেট পড়েছিল। সেটাই আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান। পরের বছর অর্থাত্ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার সাথে ড্র ম্যাচে রান হয় ১৫৮৯। উইকেট পড়েছিল ২৭টি।

এবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচগুলোর কিছু পরিসংখ্যান দেখা যেতে পারে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম এবং এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামে এ পর্যন্ত ২৩টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি টেস্টসহ ১৫টি ম্যাচ হয়েছে। বাকি আটটি হয়েছে এম.এ আজিজ স্টেডিয়ামে। ইংল্যান্ডের সাথে সর্বশেষ ম্যাচটি বাদ দিলে চট্টগ্রামে ২টি টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। হেরেছে ১৫টিতে, ড্র করেছে ৫টিতে।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৪ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে একটিতে, হেরেছে আটটিতে এবং বাকি পাঁচ ম্যাচ ড্র হয়েছে। টাইগারদের একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে তারা জেতে ১৮৬ রানে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই স্টেডিয়ামে গত চারটি টেস্টে হারেনি বাংলাদেশ। ড্র করেছে শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে। হেরেছে শ্রীলঙ্কার সাথে দুইবার (২০০৬, ২০০৯)।