• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মৎস চাষ প্রকল্পের শতাধিক পুকুর লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সাব-ইজারা দেয়ার অভিযোগ

১:৩২ অপরাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নিমগাছী সমাজ ভিত্তিক মৎস চাষ প্রকল্পের প্রায় শতাধিক পুকুর সরকারী নীতিমালা অমান্য করে উপজেলা মৎস অফিসের যোগসাজসে সাব-ইজারা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

taras

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, নিমগাছী সমাজ ভিত্তি মৎস চাষ প্রকল্পের পুকুরগুলো ১৯৮৬ইং সালে গ্রামীন ব্যাংকের প্রকল্প জয়সাগর মৎস খামার তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে ২৫ বছর মেয়াদে লিজ নেয়। যার মেয়াদ ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারী শেষ হয়। এরপর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারী ভুমি মন্ত্রণালয় মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে সমঝোতা স্বারকের মাধ্যমে ৭৮৩টি পুকুর হস্তান্তর করে। পরে নিমগাছী সমাজভিত্তিক মৎস চাষ প্রকল্পের মাধ্যেমে সুবিধাভোগীরা এ সকল পুকুরের মৎস চাষ করেছেন।  এই ৭৮৩টি পুকুরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ২৩৭টি পুকুর প্রভাশালীরা নানা কায়দা-কৌশলে দখল করেন। যা উদ্ধার করা আজও সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ স্বপন কুমার মাহাতো জানান, ২০১১ নীতিমালা অনুযায়ী তাড়াশ উপজেলায় ৫১৫টির মধ্যে ১৪২৩ বাংলা সনের চৈত্র-বৈশাখ মাস মেয়াদে ৩৮৭ টি পুকুর ডিসিআর কাটে সুফলভোগী মৎস চাষীরা। কিন্তু উপজেলা মৎস অফিসের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে এলাকার প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ মিলে পুকর পাড়ে বসবাসরত সুফলভোগী সদস্যদের বঞ্চিত করে ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে এ সকল পুকুর সাব-ইজারা দিচ্ছেন।

তাছাড়া নীতিমালায় উল্লেখ্য রয়েছে যদি কোন পুকুর সুফলভোগীরা ছাড়া অন্য কারো কাছে সাব-লিজ দেয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কমিটি ও ইজারা বাতিল করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু উপজেলা মৎস অফিসের অসাধু কর্মকর্তারা মোটা অংকে উৎকোচের বিনিময়ে সেগুলোর বিষয়ে কোন ব্যবস্থাই নেয় না।

তাড়াশ উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাস্তান মিয়াদিঘী নামের পুকুরটি স্থানীয় প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্য রজব আলী নিজে সভাপতি হয়ে পুকুরটি তার ভগ্নিপতির নিকট সাব-ইজারা দিয়েছেন।

জানতে চাইলে সাস্তান মিয়াদিঘী পুকুরের সভাপতি রজব আলী বলেন, পুকুরটি সাব-লিজ দেয়া হয়েছে সত্য। এ উপজেলায় প্রায় সকল পুকুরই সাব-লিজ দেয়া হয়েছে। আমাদেরটাও দিয়েছি সমস্যা কোথায় ?

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, সাব-ইজারা দেয়ার অনেক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এগুলো দেখে তদন্ত করে ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে। কতগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ৩টি পুকুরের কমিটি বাতিল করা হয়েছে।