সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ডিমলায় হত্যা প্ররোচনার মামলার আসামী গ্রেফতার

১:৫০ অপরাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় আজ সোমবার ভোর রাতে ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের হত্যা প্ররোচনা মামলায় আসামী ছাদের হোসেন (৫৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের উত্তর ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের মৃতজয়ফুল্লা মামুদের পুত্র।

grerpte

জানা যায়, ডিমলা উপজেলা পরিষদের কম্পিউটার প্রশিক্ষক ও জামিয়ার রহমানের কন্যা জয়নব বানুকে হত্যা প্ররোচনা কারনে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পিত্রালয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার আগের দিন বিকালে জয়নবের স্বামী মোস্তাফিজার রহমান মানিক, শ্বশুর ছাদের হোসেনসহ পরিবারের লোকজনের সামনে তাকে নষ্টা ও চরিত্রহীন মেয়ে বলার কারনে সে ঘটনার দিন রাতে আত্মহত্যা করেন। ২০১৫ইং সালের ২ জানুয়ারী ডিমলা সদর ইউনিয়নের বাবুরহাট গ্রামের জামিয়ার রহমানের একমাত্র কন্যা জয়নব বানু সাথে ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ঝুনাগাছ চাপানি গ্রামের ছাদের হোসেনের পুত্র মোস্তাফিজার রহমান মানিকের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মেয়ের পরিবারের নিকট ১০ লক্ষ টাকা দাবী করে ছেলের পরিবার। কিন্তু বিয়ের পর মেয়েটির পরিবার মানিকের পরিবারকে ৬ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। অবশিষ্ট ৪ লক্ষ টাকার জন্য জয়নবের উপর বিভিন্নভাবে পারিবারিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর যৌতুকের বাকি ৪ লক্ষ টাকার জন্য জয়নবের পিত্রালয়ে মানিক, তার পিতাসহ ৬/৭ বার বৈঠকে বসেন। কিন্তু মেয়ের পিতা জামিয়ার রহমান টাকা দিতে না পারায় জামাতা মানিকসহ পরিবারের লোকজনের সামনে সকলে উপস্থিতিতে জয়নবকে নষ্টা ও চরিত্রাহীনা, পাশ্ববর্তী এক ছেলের সাথে দৈহিক সম্পর্ক আছে মর্মে প্রকাশ করেন। পরিবারের লোকজনের সামনে অপমান সহ্য করতে না পেরে রাতে মেয়েটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। মেয়েটির পিতা জামিয়ার রহমান বাদী হয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আদালত নীলফামারী পি নং-৩০১/২০১৬ (০৯/১০/১৬) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৭ (১ক) ধারায় মামলা দায়ের করেন।

আদালত মামলাটি তদন্ত করে ডিমলা থানার ওসিকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। ঘটনার ২ দিন পর ডিমলা থানায় মামলা নং-১৩ দায়ের করা হয়েছে। হত্যা প্ররোচনা মামলার আসামীরা হলেন মেয়েটির স্বামী মোস্তাফিজার রহমান মানিক, শ্বশুড় ছাদের হোসেন, শ্বাশুড়ী মোকছুদা বেগমসহ ৭ জনকে আসামী করা হয়েছে। মোস্তাফিজার রহমান মানিক পাটগ্রাম পপি অফিসে চাকুরী করলেও মামলার পর চাকুরী থেকে অন্যত্র আত্মগোপন করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফিরোজ জানায়, মামলার সকল আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত সাদের হোসেনকে আজ সোমবার আদালতে মাধ্যমে জেল হাযতে পাঠানো হয়েছে।