সংবাদ শিরোনাম

পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহতফেসবুকে নারী চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত, যুবক গ্রেফতারফরিদপুরে সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুরকৃষক লীগের কমিটিতে মুফতি হান্নানের খালাতো ভাই, তদন্ত কমিটি গঠনখালেদার করোনা পরীক্ষার নমুনা দেওয়ার খবরটি ভুয়াপরকীয়া প্রেমিকের স্ত্রীর হাতে প্রহার, ‘ধামাচাপা দিতে’ স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা!লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ামাদারীপুরে ভুয়া মেজর ও মেরিন অফিসারসহ ৪ প্রতারক আটকহেফাজতকে প্রতিরোধে কার্যকর আইন আছে: আইনমন্ত্রীটিকা নেওয়ার দুই মাস পর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত

  • আজ ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সলঙ্গায় ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে চালবাজি

২:২১ অপরাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সরকারের খাদ্য বান্ধব পল্লী রেশনিং কর্মসূচীর আওতায় হত দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরের দুঃস্থদের চাল নিয়ে চলছে চালবাজি। গরীবের চাল চলে যাচ্ছে ধনীদের পেটে।

chal

বিধবা, প্রতিবন্ধি, হতদরিদ্রদেরকে বাদ দিয়ে ধনী, বিত্তশালী, দলীয় নেতা ও একই পরিবারের একাধীক নামের তালিকায় কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে। “শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুদা হবে নিরুদ্দেশ” প্রকল্পের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চেয়ারম্যান, মেম্বর ডিলার ও ক্ষমতাসীনরা হাতিয়ে নিচ্ছেন ১০ টাকা কেজি দরে চাল ফলে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের এ মহাপরিকল্পনা।

সলঙ্গার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ ও কার্ড বন্টনের হাজারো অভিযোগ উঠেছে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সুবিধাভোগী তালিকা প্রস্তুত, চাল বিতরণ ও মনগড়া ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারনার কারনে ইতিমধ্যে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরবার লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ এই ইউপি চেয়ারম্যান ইতিপূর্বে চেয়ারম্যান হয়ে পুকুরচুরি করে কোটি টাকায় নির্মাণ করেছেন বাড়ী। এবার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা পেয়েই আপন ভাই ভাতিজাদের নামে ডিলার ও কার্ড করে তালিকা অর্ন্তভুক্ত করে ব্যাপক দুর্নীতি লুটপাটে এখন ব্যস্ত।

সরেজমিনে রামকৃষ্ণপুর ইউপির বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, হত দরিদ্রদের নামের তালিকায় নাম রয়েছে মৃত ব্যক্তি, সরকারি চাকুরীজীবি, রাজনীতিবীদ, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি, বিদেশে বসবাসকারী, ব্যবসায়ী, বিল্ডিং, পাকা ঘরবাড়ী সহ আরও কত কিছু। ৬নং ওয়ার্ডের অলিদহ গ্রামের আঃ কাদের পাশা (কার্ড নং ৫৯৭) এর ছেলে বিদেশে চাকরী করে। অথচ প্রতিবেশী অন্ধ মহিলা মালা নামক মেয়েটি না খেয়ে পড়ে আছে। মামুনুর রশিদ (কার্ড নং ৫৯৯) পরিবারে চাকরী, বাড়ীঘর পাকা, আলাউদ্দিন (কার্ড নং- ৬০৯) ব্যাপক ধনী ব্যক্তি কিন্তু প্রতিবেশী দিনমজুর সাইফুল কার্ড থেকে বঞ্চিত। শামসুল সরকারের ছেলে মওদুদ (ময়না) এর বাড়ীতে বিল্ডিং আর প্রতিবেশী দিনমজুর কুরমান অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। (৬৪০ নং কার্ড) ধারী ঠান্ডু একজন ধনী ব্যক্তি অথচ বাড়ীর পাশেই রয়েছে ভিক্ষুক হযরত আলী সে কার্ড থেকে বঞ্চিত। ৭নং ওয়ার্ডের বাদেকুশা গ্রামের ধর্নাঢ্য জাহিদুল (কার্ড নং ৬৬৮) কোরবান আলী (কার্ড নং- ৬৬৯), জব্বার আলী (কার্ড নং- ৬৭০), জয়ধর আলী (কার্ড নং- ৬৭২) এরা একই পরিবারের ৪ জন কার্ডধারী।

৬৮৩ নং কার্ডধারী আবুল কালাম আজাদ, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সহ আঃ কাদের (কার্ড নং ৬৮২) একই পরিবারের ২ জন । শুধু তাই নয়, আঃ জাব্বারের ছেলে আঃ ছালাম (কার্ড ৬৮৬) বিআরডিবিতে কর্মরত সরকারী চাকুরী জীবি। অথচ তার বাড়ীর প্রতিবেশী জয়গণ মুমুর্ষ অবস্থায় ঘরে পড়া। মছের আলী ছেলে বাহের আলী (কার্ড নং- ৬৯১) দীর্ধদিন পূর্বে মারা গেলেও তার নামে কার্ড বরাদ্দ হওয়ায় এলাকায় হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। ভট্ট মাঝুড়িয়া গ্রামের ছাইদুর (কার্ড নং- ৭১৭), ছকিনা খাতুন (কার্ড নং- ৭৩০), শফিকুল ইসলাম (কার্ড নং ৭১১) এরা একই পরিবারের ৩ জন সদস্য। রশনারা (কার্ড নং- ৭৪৪) ধনী অথচ প্রতিবেশী বিধবা রাহেলা অসহায় অন্যের বাড়ীতে কাজ করে। পুকুরপাড় গ্রামের দুলাল (কার্ড নং ৪৮৪), মনিরুজ্জামান (কার্ড নং- ৪৮৫) এরা আপন ২ ভাই বাড়ীতে বিল্ডিং। আঃ সোবাহান (কার্ড নং ৪৮৬) ও খোকন (কার্ড নং ৪৮৭) এরা আপন দুই ভাই পরিবারের সাইফুল বিদেশে চাকরী করে।

বিভিন্ন ওয়ার্ডের কয়েকজন মেম্বর নজরুল ইসলাম, রহমত আলী, হাবিবর রহমান সহ অন্যান্য মেম্বররা সাংবাদিকদের জানান, নামমাত্র কয়েকটি কার্ড দিয়েছি হতদরিদ্রদের। এমন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে আমরা কিছু জানিনা। কারণ চেয়ারম্যান হিরো আওয়ামীলীগ নেতা, তার ভাই জাহিদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী, তার চাচাতো ভাই মামুন ডিলার।

এ ব্যাপারে সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হিরোর সাথে মোবাইলে কয়েকবার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জরুরী তদন্তের আশ্বাস দেন।