• আজ ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সন্মেলনে কি ছিল সেই চমক? জানালেন ওবায়দুল

৩:২১ অপরাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর- ‘দলের আগামীকালের ২০তম সম্মেলনে চমক থাকছে। তবে সেই চমকটা কী সে সম্পর্কে জানি আমি আর নেত্রী। সেটা আর কেউ জানে না’- আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন মন্তব্য দলটির জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে এনেছিল বাড়তি মনোযোগ। কী চমক দিচ্ছে দল? জানা-বোঝার চেষ্টা করছিলেন ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকরা তো বটেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরাও।

1477224478বাংলাদেশের যত ঐতিহাসিক অর্জন, তার প্রায় সবগুলোতেই জড়িয়ে আছে আওয়ামী লীগের নাম। এ কারণে পছন্দের তো বটেই বিরুদ্ধ রাজনৈতিক চিন্তার মানুষ ও দলের কাছেও এই দলটির জাতীয় সম্মেলন বরাবর থাকে আগ্রহোদ্দীপক।

চলতি বছর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ জাতীয় সম্মেলন করেছে ক্ষমতাসীন দল। সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তো বটেই আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয় গোটা রাজধানীতেই। এই সম্মেলনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল নতুন কোনো বার্তা দিচ্ছে কি না-সেই আলোচনা ছিল আগে থেকেই।

সম্মেলনের দুই সপ্তাহ আগেই শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সভাপতি পদ থেকে তার সরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা। পরে আরও দুই দফা বলেছেন একই কথা। এমনও বলেছেন, ‘৩৫ বছর তো হলো, আর কতো’।

আবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দ আশরাফ প্রথম পছন্দ-এমন কথা যখন চাওড় হয়ে গেছে, তখনই ওবায়দুল কাদেরের সম্ভাবনার গুঞ্জন ছড়ায় জাতীয় সম্মেলন শুরুর মাত্র দুই দিন আগে। তবে আগের রাতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কোনো গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ দিয়ে চমকের জন্য অপেক্ষায় থাকতে বলেন।

গতকাল আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে দলটির সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থলে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ওবায়দুল কাদেরই জানালেন কি ছিল সেই চমক। ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই পদে তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সেটাই হচ্ছে বড় চমক। এটাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ম্যাজিক।’

নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আজ সোমবার রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ওবায়দুল।

উল্লেখ্য, দলের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি হিসেবে নাম প্রস্তাব করেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত কাউন্সিলররা কণ্ঠভোটে সম্মতি জানান। অন্যদিকে গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন। এরপর তা সমর্থন করেন জাহাঙ্গীর কবীর নানক। আর কোনো নাম প্রস্তাব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি হয়নি সাধারণ সম্পাদক পদেও।

গত দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে পালনকারী সৈয়দ আশরাফ এবারও দলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচিত ছিলেন। তবে জাতীয় সম্মেলন শুরুর ‍দুই দিন আগে হঠাৎ করেই ওবায়দুল কাদেরের নাম শোনা যায়। যদিও মাস খানেক আগে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, এই পদে তিনি প্রার্থী নন।