• আজ ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে ১০ টাকা কেজি দরের চাল নিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে

৭:২৫ অপরাহ্ন | সোমবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

এইচ এম মেহেদী হাসানাত, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি-  গোপালগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় অতিদরিদ্র্যদের ১০ টাকা কেজি দরের চাল নিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে সিদ্ধার্থ বিশ্বাস সতু।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরোজ কান্তি বিশ্বাস খোকনের ছেলে সিদ্ধার্থ বিশ্বাস সতু হতদরিদ্র্যদের কার্ড পাওয়ায় ইউনিয়ন জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সরোজ কান্তি বিশ্বাস খোকন ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকার সময় গত বছর হতদরিদ্র্যদের ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড প্রদাণের তালিকা প্রনয়ণ করা হয়। ওই তালিকা অনুযায়ী হতদরিদ্রদের কার্ড দেয়া হয়। বাবা চেয়ারম্যন থাকায় ছেলে সিদ্ধার্থ ক্ষমতার অপব্যবহার করে হতদরিদ্রের তালিকা প্রনয়ণ করেন। সেখানে তিনি নিজের নামে একটি কার্ড নেয়। এতে প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবার বঞ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রঘুনাথপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের ১০ টাকা দরের চাল বিক্রিতে নিয়োজিত ডিলার ভূপতি বনিক বলেন, সিদ্ধার্থ বিশ্বাস সতুর কার্ড নং ২৭৫। এ কার্ড দিয়ে সে অক্টোবর মাসে ৩০ কেজি ও সেপ্টেম্বর মাসে ৩০ কেজি চাল উত্তোলন করেছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ বিশ্বাস সতু কার্ড নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেছে, আমার অজান্তেই সাবেক ইউপি মেম্বর প্রণয় বিশ্বাস আমার নামে একটি কার্ড দিয়েছে। কার্ড পেয়ে আমি অবাক হয়েছি। কার্ড পাওয়ার পর বর্তমান চেয়ারম্যান শ্রীবাস বিশ্বাসকে আমার কার্ড বাতিল করার জন্য অনুরোধ করেছি। তবে আমি ওই কার্ডে মাত্র একবার সেপ্টেম্বর মাসে ৩০ কেজি চাল উত্তোলন করে একটি হতদরিদ্র পরিবারকে দিয়ে দিয়েছি।

সাবেক ইউপি মেম্বর প্রণয় বিশ্বাস বলেন, চেয়ারম্যানে ছেলে সিদ্ধর্থ নিজেই প্রভাব খাটিয়ে কার্ড নিয়েছে। সেই ভিলেজ পলিটিক্স ঠিক রাখতে আমাদের উপেক্ষা করে ইউনিয়ন জুড়ে কার্ডের তালিকা করেছে। আমি তাকে কার্ড দেইনি।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সরোজ কান্তি বিশ্বাস খোকন ইন্ডিয়ায় অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, এ চাল শুধুমাত্র হতদরিদ্র্যরাই পাবেন। বৃত্তবানরা নিতে পারবেন না। ইতিমধ্যে হতদরিদ্র্যদের তালিকা যাচাই বছাই শুরু হয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে প্রভাবশালী ও বৃত্তবানদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।